আগামী রোববার ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। তবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এই ফুটবল মহারণ শুরুর আগেই মাঠের বাইরের আলোচনা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে দুই দেশের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থান এবং দুই দলের প্রধান তারকাদের অতীত কর্মকাণ্ডের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ফাইনাল ম্যাচটি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের একটি ‘প্রক্সি ওয়ার’ বা পরোক্ষ যুদ্ধ হিসেবে চর্চা হচ্ছে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনার ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দেশটির দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি বদলে ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে স্পেনের সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সবচেয়ে সোচ্চার সমালোচকদের একজন এবং ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপের অন্যতম প্রধান নেতৃত্বদানকারী।
দুই দলের শীর্ষ তারকাদের ঘিরেও নেটিজেনরা দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির অতীতে একাধিকবার ইসরায়েল সফর এবং ইসরায়েলি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাথে পেশাদার চুক্তিকে সামনে এনে তাকে ‘ইসরায়েলপন্থী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অন্যদিকে স্পেনের ১৯ বছর বয়সী উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামাল (যার বাবা মরক্কোন বংশোদ্ভূত) গত মে মাসে বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জয়ের পর ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উদযাপন করেছিলেন, যা স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী সানচেজও গর্বের সাথে সমর্থন করেছিলেন। এ ছাড়া স্পেনের প্রতিটি ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে অভিনেতা হাভিয়ের বার্দেমকে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াতে দেখা গেছে।
ইন্টারনেটে চরমপন্থী ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের একাংশ এই ম্যাচটিকে সরাসরি ‘ইসরায়েল বনাম ফিলিস্তিন বিশ্বকাপ’ বলে প্রচার করছেন। ইসরায়েলি অনলাইন নজরদারি সংস্থা ‘সাইবারওয়েল’ সতর্ক করে জানিয়েছে, বিশ্বকাপের এই বিশাল মঞ্চকে ব্যবহার করে ইহুদি-বিদ্বেষী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এবং ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, আর্জেন্টিনা ইসরায়েলকে সমর্থন করার কারণে ফিফা বা রেফারিদের সহায়তায় ম্যাচ জিতছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
সব আর্জেন্টাইন যে মিলেই-এর নীতি সমর্থন করেন না, তা স্পষ্ট করেছেন অনেক সমর্থক। সেমিফাইনালের পর এক ভাইরাল ভিডিওতে এক আর্জেন্টাইন সমর্থককে বলতে শোনা যায়, কোনো খাঁটি আর্জেন্টাইন ইসরায়েলকে সমর্থন করে না, আমাদের প্রেসিডেন্টের কথায় কান দেবেন না। অনেকে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি প্রয়াত ডিয়েগো ম্যারাডোনার কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যিনি এক সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে বলেছিলেন, আমার হৃদয় ফিলিস্তিনের জন্য স্পন্দিত হয়।
তবে মাঠের এই রাজনৈতিক মেরুকরণকে পাশ কাটিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা মুখিয়ে আছেন ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি ও ১৯ বছর বয়সী লামিন ইয়ামালের সেই ঐতিহাসিক দ্বৈরথটি দেখার জন্য, যার সূচনা হয়েছিল আজ থেকে ১৮ বছর আগে বার্সেলোনার এক দাতব্য ফটোশুটে এক টবে শিশু ইয়ামালকে মেসির গোসল করানোর মধ্য দিয়ে।