বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সকে। তবে এই ম্যাচটিকে মোটেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন না ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল। তার মতে, সেমিফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের পর এমন ম্যাচ খেলতে নামা ফুটবলারদের জন্য এক প্রকার ‘অনাকাঙ্ক্ষিত দায়িত্ব’।
সেমিফাইনালে নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দেওয়ার পর খেলোয়াড়দের আবার এই ম্যাচের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করেন টুখেল। মায়ামিতে ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের অকপট অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, আমাদের কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চায় না, এমনকি ফ্রান্সের খেলোয়াড়রাও চায় না। সবাই ফাইনাল খেলতে চেয়েছিল এবং তার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের এখন এই ম্যাচটি খেলতে হবে। ফ্রান্সের তুলনায় আমরা একদিন কম বিশ্রাম পেয়েছি, তবুও পেশাদারিত্ব বজায় রেখেই আমরা মাঠে নামব।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দীর্ঘ সময় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় ইংল্যান্ড। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ইংলিশরা এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা।
পরাজয়ের হতাশা থাকলেও দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বিত ইংল্যান্ড কোচ। তার মতে, টুর্নামেন্টের অনেক শক্তিশালী দল যখন আগেই বিদায় নিয়েছে, সেখানে সেমিফাইনালে পৌঁছানোই একটি বড় অর্জন।
টুখেল বলেন, পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য আমাদের আরও চার বছর অপেক্ষা করতে হবে। তাই সেমিফাইনালে ওঠা অবশ্যই বড় সাফল্য। তবে এই মুহূর্তে হয়তো কেউ তা শুনতে চাইবে না, এমনকি আমিও না। কারণ আমরা নিজেদের কাছ থেকে আরও বড় কিছু আশা করেছিলাম।
আগামী শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় সান্ত্বনার এই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।
সময়ের আলো/আরবিএন