১৯৬৬ সালের পর আর কখনো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখা হয়নি থ্রি-লায়ন্সদের। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ দলটি মাঠে নামছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় নিয়ে। আজ রাতে যখন বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে-ফাইনালের এই অগ্নিপরীক্ষায় কার ওপর চাপ বেশি?
ইংলিশ ডিফেন্ডার মার্ক গেহির মুখে অবশ্য চওড়া হাসি। কোনো লুকোছাপা না করেই তিনি চাপটা ঠেলে দিলেন প্রতিপক্ষের কোর্টে, ‘আমাদের ওপর কিসের চাপ? দায়িত্ব তো সব তাদের! ওরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, শিরোপা ধরে রাখার দায়ও ওদেরই। আমরা তো কেবল মাঠে নামব আর ফুটবলটা উপভোগ করব।’
কিন্তু ফুটবল বিশ্ব ভালো করেই জানে, আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচ মানেই শুধু মাঠের ২২ জনের লড়াই নয়। এই লড়াইয়ের পেছনে জমে আছে এক বিশাল ঐতিহাসিক বারুদ, যা সামান্য উসকানিতেই জ্বলে উঠতে পারে।
আজকের এই মহা-লড়াইয়ের আবহে বারবার ফিরে আসছে সেই পুরোনো স্মৃতির পাতাগুলো। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত অথচ বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, যা আজও ইংলিশদের বুকে এক জ্বলন্ত ক্ষত। কিংবা ১৯৯৮ সালের সেই রুদ্ধশ্বাস নকআউট পর্ব, যেখানে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড আর ডিয়েগো সিমিওনের চতুরতা ইংলিশদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল।
শুধু কি খেলার মাঠ? মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে এই দ্বৈরথের শেকড় প্রোথিত ইতিহাসের পাতায়। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী স্মৃতি আজও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বরফ জমিয়ে রেখেছে। ব্রিটিশ শাসিত এই দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবি আজও এক অমীমাংসিত অধ্যায়।
তবে মাঠের বাইরের এই রাজনৈতিক উত্তাপ ও ইতিহাসের তিক্ততা গায়ে মাখতে চান না ইংলিশ ডিফেন্ডার এজরি কনসা। শান্ত কণ্ঠে তিনি বললেন, ‘আমাদের নিজেদের খেলার ওপরই শতভাগ মনোযোগ দিতে হবে। পেছনের সব ইতিহাস ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। অতিরিক্ত উত্তেজিত না হয়ে মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
মাঠে সেরাটা দেওয়ার এই যুদ্ধ যে মোটেও সহজ হবে না, তা ভালো করেই জানেন দুই ডিফেন্ডার গেহি ও কনসা। কারণ, আজ রাতে তাঁদের সামলাতে হবে সর্বকালের অন্যতম সেরা জাদুকর লিওনেল মেসিকে। তবে মেসিকে নিয়ে বাড়তি সমীহ থাকলেও ভড়কে যাচ্ছেন না গেহি, ‘মেসি নিঃসন্দেহে দুর্দান্ত, সর্বকালের অন্যতম সেরা। তাকে আটকানোর জন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব। তবে আর্জেন্টিনা শুধু একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল দল নয়। তাদের বাকিদের সামলানোর পরিকল্পনাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।’
একদিকে ১৯৬৬ সালের খরা কাটানোর স্বপ্ন, অন্যদিকে বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা। ইতিহাস, রাজনীতি আর মাঠের তীব্র আবেগ সঙ্গে নিয়ে আজ রাতে জর্জিয়ার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে রচিত হতে যাচ্ছে ফুটবলের আরেকটি মহাকাব্য।
সময়ের আলো/আরবিএন