একের পর এক আক্রমণ আর অতিরিক্ত সময়ের শ্বাসরুদ্ধকর নাটকীয়তা- সব মিলিয়ে মায়ামির মাঠ রূপ নিয়েছিল এক চরম স্নায়ুযুদ্ধে। বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের নকআউট পর্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক কেপ ভার্দে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় ৩-২ গোলের জয়ে শেষ পর্যন্ত শেষ ষোলোর টিকিট কাটল তারা। এর ফলে ইতি ঘটল কেপ ভার্দে রূপকথার। তবে আফ্রিকার এই দলটির মুখোমুখি হওয়ার আগে কেপ ভার্দে ম্যাচ থেকে ৩টি বড় শিক্ষা পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা, যা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘জে গ্লোবো’।
মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে লিওনেল স্কালোনির দলের শুধরে নেওয়ার মতো ৩টি বড় জায়গা নিচে তুলে ধরা হলো-
খেলার গতি ও তীব্রতা বাড়ানো : লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা সাধারণত ছক-ভাঙা ফুটবল খেলে থাকে, যেখানে উইঙ্গাররা স্বাধীনভাবে খেলে এবং খেলার গতিতে কোনো তাড়াহুড়ো থাকে না। এই মন্থর কৌশলে অতীতে সাফল্য এলেও কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে এটি বড় ঝুঁকি তৈরি করেছিল। প্রতিপক্ষের পাঁচ ডিফেন্সের দেয়াল ভাঙতে প্রথমার্ধের হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত আর্জেন্টিনা স্রেফ পায়ে পায়ে বল পাস করে গেছে, ফলে মেসিও কোনো জায়গা পাচ্ছিলেন না।
লিসান্দ্রো মার্তিনেসের দূরপাল্লার পাস থেকে মেসি প্রথম গোল এনে দিলেও আর্জেন্টিনার খেলার গতি বাড়েনি। ব্যবধান বাড়ানোর জন্য তারা প্রেসিং বা গতি না বাড়িয়ে যে আলসেমি দেখিয়েছে, তার খেসারত দিতে হয়েছে দ্বিতীয়র্ধে। কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনার দুই ফুলব্যাক—মলিনা ও মেদিনার পেছনে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে একের পর এক আক্রমণ চালায়। অন্যদিকে ডিলন বা দে পলের মতো খেলোয়াড়েরা ফাঁকা জায়গায় শট না নিয়ে পাস খুঁজতে গিয়ে আক্রমণের গতি আরও কমিয়ে দেন।
লিড ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করার মানসিকতা : ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার মতো গতি বাড়াতে পারেনি আর্জেন্টিনা। এই সুযোগে ম্যাচের দ্বিতীয়র্যার্ধের ১৩তম মিনিটে গোল করে সমতা ফেরায় কেপ ভার্দে। এরপর অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হলে সেট পিস থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের গোলে আবারও লিড নেয় আর্জেন্টিনা। কিন্তু গোল পাওয়ার পর আবারও একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং ব্যবধান বাড়ানোর কোনো প্রেসিং না থাকায় সিডনি কাবরালের দারুণ গোলে আবারও সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। শেষ পর্যন্ত মেসির মাপা কর্নার থেকে কেপ ভার্দের দিনেই লোপেসের আত্মঘাতী গোলটি ভাগ্যক্রমে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রক্ষা করে। গোল পাওয়ার পর খেলা থামিয়ে দেয়ার এই প্রবণতা থেকে আর্জেন্টিনাকে বের হতে হবে।
প্রতিপক্ষকে ছোট করে না দেখা : পুরো ম্যাচজুড়ে পরিস্থিতির প্রয়োজনে খেলার গতি বাড়ানোর সেই চেনা ‘আর্জেন্টাইন ঝাঁঝ’ একদম উধাও ছিল, যা ছিল দলটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। অতীতে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া কিংবা জর্ডানকে অনায়াসে উড়িয়ে দেওয়া চেনা আর্জেন্টিনার মতো এই দলকে দেখায়নি। বিশ্বকাপের মঞ্চে একদম আনকোরা দল হওয়া সত্ত্বেও কেপ ভার্দে যে নিখুঁত রক্ষণাত্মক কৌশল ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তা আগের কোনো প্রতিপক্ষ দেখাতে পারেনি। দুটি সেট পিস শেষ পর্যন্ত আলবিসেলেস্তেদের বাঁচিয়ে দিলেও মিশর ম্যাচের আগে এটি পরিষ্কার বার্তা দেয় যে, বিশ্বমঞ্চে কোনো প্রতিপক্ষকেই ছোট করে দেখার উপায় নেই।
সময়ের আলো/জেডআই