লড়াইতে টিকে থাকার সমীকরণটা ছিল একদম পরিষ্কার—জিততেই হবে। কিন্তু এমন এক বাঁচা-মরার মহাগুরুত্বপূর্ণ রাতে স্পেনের ধারালো ফুটবলের সামনে দাঁড়াতেই পারল না উরুগুয়ে। ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের করুণ স্বাদ পেতে হলো দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। অপরদিকে, এই জয়ে গ্রুপ ‘এইচ’ থেকে টেবিলের শীর্ষ দল হিসেবে রাজকীয়ভাবে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে স্পেন।
গুয়াদালাহারায় ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল আর আক্রমণ-সবখানেই ছিল স্প্যানিশদের একচ্ছত্র রাজত্ব। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে উরুগুয়ের রক্ষণভাগকে শুরু থেকেই কোণঠাসা করে রাখে তারা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে সেই লাগাতার চাপের ফলও পেয়ে যায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। ম্যাচের ৪২তম মিনিটে নিজেদের ডিবক্সের ভেতর বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে মারাত্মক এক ভুল করে বসেন উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা। স্প্যানিশ মিডফিল্ডার আলেক্স বায়েনা সেই সুযোগটি লুফে নিতে এক সেকেন্ডও দেরি করেননি। মুসলেরার পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে অনায়াসে জড়িয়ে দেন জালে। আর এই একমাত্র গোলেই ম্যাচে লিড নেয় স্পেন।
বিশ্বমঞ্চে গোলরক্ষক মুসলেরার এমন শিশুতোষ ভুল কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি উরুগুয়ের ডাগআউটে থাকা কোচ মার্সেলো বিয়েলসা। এতটাই হতাশ হয়েছিলেন যে, মধ্যবর্তী বিরতিতেই তিনি মাঠ থেকে গোলরক্ষককে তুলে নেওয়ার মতো কঠিন ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেন। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল বদলে উরুগুয়ে বেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও স্পেনের সুসংগঠিত ও জমাট রক্ষণভাগের দেওয়াল কোনোভাবেই ভাঙতে পারেনি।
আরও পড়ুন
ম্যাচের সময় যত গড়াচ্ছিল, উরুগুয়ের ফুটবলারদের খেলায় হতাশার ছাপ তত স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। শেষ মুহূর্তে এসে সেই হতাশা ও ক্ষোভের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পেরে সরাসরি লাল কার্ড দেখে বসেন উরুগুয়ের ফরোয়ার্ড আগুস্তিন কানোবিও। শুধু তাই নয়, মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময় তিনি রেফারির সাথে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করেন, যার ফলে পরবর্তীতে ফিফার বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখেও পড়তে পারেন এই ফুটবলার।
এই জয়ে তিন ম্যাচ শেষে মোট সাত পয়েন্ট ঝুলিতে পুরে গ্রুপ ‘এইচ’-এর চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে নকআউটে গেল স্পেন। পুরো গ্রুপ পর্বে ইউরোপের এই পরাশক্তি নিজেদের জালে একটি গোলও জড়াতে দেয়নি। অন্যদিকে, পুরো টুর্নামেন্ট থেকে মাত্র এক পয়েন্ট সম্বল করে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করতে হলো লাতিন আমেরিকার অন্যতম সফল দল উরুগুয়েকে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের পর এবারও টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে গেল তারা।
তবে উরুগুয়ের বিদায়ের এই দিনে ফুটবলের নতুন এক ইতিহাস লিখেছে আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। গ্রুপের অন্য ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকেই রানার্সআপ হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে এবার তাদের মুখোমুখি হতে হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার।
সময়ের আলো/আরবিএন