২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির সঙ্গে গোল করার লড়াইয়ে সমানে সমানে টক্কর দিচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। চলতি টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচেই যেন এই দুই মহাতারকার মধ্যে এক অদৃশ্য দ্বৈরথ চলছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির নান্দনিক হ্যাটট্রিকের দিনে এমবাপ্পে সেনেগালের বিপক্ষে করেছিলেন জোড়া গোল। আবার পরবর্তী ম্যাচে আলবিসেলেস্তে অধিনায়কের জোড়া গোলের জবাবে ইরাকের বিপক্ষেও জোড়া গোল করে ব্যবধান কমিয়েছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
তবে মাঠের বাইরের এই ব্যক্তিগত লড়াই নিয়ে এমবাপ্পের ভাবনা একদমই সরল ও স্পষ্ট। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে আলাদা করে ভাবার মতো সময় তার নেই।
ইরাকের বিপক্ষে ৩–০ ব্যবধানের দাপুটে জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করার পর সাংবাদিকদের ফরাসি তারকা বলেন, ‘লিও মাঠের ভেতর কী করছে, সেটা ধরে যদি আমি হিসাব কষতে শুরু করি, তবে নিজেকে আরও অনেক বেশি মানসিক চাপে ফেলতে হবে। আমি সত্যি বলতে তার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি না। আমার একমাত্র লক্ষ্য নিজের দলের সাফল্যে অবদান রাখা।’
পিএসজির সাবেক এই ক্লাব সতীর্থের প্রতি সম্মান জানিয়ে এমবাপ্পে আরও যোগ করেন, ‘মেসি একজন কিংবদন্তি, সে সবসময়ই গোল করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তবে আমি অন্য কারো দিকে না তাকিয়ে আমার দলকে কীভাবে জেতানো যায়, কেবল সেটি নিয়েই ভাবছি।’
উল্লেখ্য, ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ফ্রান্সের জাতীয় দলের জার্সিতে এমবাপ্পের ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচ। এই ম্যাচে জোড়া গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে, যা জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের সমান। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসির চেয়ে তিনি এখন মাত্র দুই গোল পিছিয়ে আছেন।
চলতি বছরের শুরুতে ইনজুরিতে পড়ার ধাক্কা কাটিয়ে বিশ্বকাপে নিজের চমত্কার ফর্ম প্রসঙ্গে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমি বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে খুব ভালো বোধ করছি। সবাই জানে একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপের গুরুত্ব কতটা। গত জানুয়ারিতে একটি গুরুতর চোট পাওয়ার পর নিজেকে শতভাগ ফিট করে সেরা মঞ্চে ফিরিয়ে আনার জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’
ফিলাডেলফিয়ায় ম্যাচ চলাকালীন প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট জটিলতা নিয়েও কথা বলেন এই ফরাসি স্ট্রাইকার। ঝড়ের কারণে খেলা মাঝপথে দুই ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল।
এমবাপ্পে জানান, ড্রেসিং রুমে ওই দীর্ঘ সময় জুড়ে নিজেদের মনোযোগ ধরে রাখা এবং মানসিক চাপ সামলানো অত্যন্ত কঠিন এক পরীক্ষা ছিল। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য অর্জনে সফল হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তিনি।
সময়ের আলো/জেডি