উদ্বোধনী ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন রেফারি উইলটন সাম্পাইও। তবে মাঠে শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের জন্য হলুদ কার্ডের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ফিফা।
ফুটবলে বহুবার দেখা গেছে, টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করা কোনো খেলোয়াড় শুধুমাত্র হলুদ কার্ড জমার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বা ফাইনালে খেলতে পারেননি। এমন পরিস্থিতি এড়াতেই ২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন কার্ডনীতি কার্যকর করা হয়েছে।
আগের নিয়ম অনুযায়ী, আলাদা দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখলেই এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতো ফুটবলারদের। ফলে টুর্নামেন্ট যত এগোত, ততই বাড়ত সতর্কতার চাপ। বিশেষ করে নকআউট পর্বে একটি হলুদ কার্ডও অনেক সময় খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে প্রভাবিত করত।
ফুটবল ইতিহাসে এই নিয়মের কারণে বেশ কয়েকটি স্মরণীয় ঘটনা রয়েছে। ২০০২ বিশ্বকাপে জার্মানির অধিনায়কসুলভ মিডফিল্ডার মাইকেল ব্যালাক সেমিফাইনালে হলুদ কার্ড দেখে ফাইনালের জন্য নিষিদ্ধ হন। দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়া মাঠে নামতে হয়েছিল জার্মানিকে, যা তাদের শিরোপা স্বপ্নে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।
আরও পড়ুন
একই ধরনের হতাশা নেমে এসেছিল ১৯৯০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ক্লদিও কানিজিয়ার ওপর। সেমিফাইনালে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও হলুদ কার্ডের কারণে ফাইনাল দেখা হয়েছিল গ্যালারি থেকে।
এসব অভিজ্ঞতা থেকেই ধীরে ধীরে নিয়মে পরিবর্তন আনা শুরু করে ফিফা। ২০১০ বিশ্বকাপ থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে হলুদ কার্ডের হিসাব মুছে দেওয়ার নিয়ম চালু হয়। এর ফলে সেমিফাইনালের আগে খেলোয়াড়দের ওপর কিছুটা চাপ কমে।
তবে ২০২৬ সংস্করণে আরও বড় পরিবর্তন এসেছে। এবার টুর্নামেন্টজুড়ে দুই দফায় হলুদ কার্ডের হিসাব শূন্য করা হবে। প্রথমবার গ্রুপ পর্ব শেষে। অর্থাৎ কোনো খেলোয়াড় যদি গ্রুপ পর্বে মাত্র একটি হলুদ কার্ড পান, তাহলে নকআউট পর্বে প্রবেশের সময় সেই কার্ড আর তার সঙ্গে বহাল থাকবে না।
দ্বিতীয়বার কার্ডের হিসাব মুছে দেওয়া হবে কোয়ার্টার ফাইনালের পর। ফলে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের আগে খেলোয়াড়দের শুধু পুরোনো হলুদ কার্ডের কারণে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।
তবে ফিফা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। সরাসরি লাল কার্ড দেখলে আগের মতোই অন্তত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। গুরুতর অপরাধ বা সহিংস আচরণের ঘটনায় শাস্তির মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে।
একই সঙ্গে নির্দিষ্ট পর্যায়ের মধ্যে দুটি হলুদ কার্ড পেলে নিষেধাজ্ঞার নিয়মও বহাল রয়েছে। অর্থাৎ গ্রুপ পর্বের মধ্যেই দুটি হলুদ কার্ড কিংবা শেষ ৩২ থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত দুটি হলুদ কার্ড পেলে খেলোয়াড়কে ম্যাচ মিস করতে হবে।
বিশ্বকাপের নতুন ৪৮ দলের ফরম্যাটে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০৪। দীর্ঘ এই প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক চাপও আগের তুলনায় বেশি থাকবে। তাই কার্ড ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা এনে ফিফা একদিকে প্রতিযোগিতার মান ধরে রাখতে চেয়েছে, অন্যদিকে বড় ম্যাচগুলোতে সেরা খেলোয়াড়দের উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে।
মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখার পর বিশ্বকাপে রেফারিংয়ের কঠোরতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে হলুদ কার্ডের নিয়মে পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে, ফিফা শাস্তির কঠোরতা বজায় রেখেও অপ্রয়োজনীয় নিষেধাজ্ঞা কমানোর পথে হাঁটছে।
এএডি/