
পাবনায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে জমি-হাট দখলের অভিযোগ এনে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সময়ের আলো
পাবনায় ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি আকরাম হোসেন মন্ডলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ইজারাদারের নিকট থেকে জোরপূর্বক হাটের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করে প্রতিকার চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে, অভিযোগ অসত্য দাবি করে বিষয়টিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন অভিযুক্ত জামায়াত নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের পদ্মবিলা মৌজার আরএস ১৭২৭ খতিয়ানে তাদের কেনা ২৫ শতাংশ জমি আছে। জামায়াত রোকন ও ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি আকরাম হোসেন মন্ডল জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন। এ বিষয়ে ভূমি আদালতে মামলা দায়ের হলে রায়ও ভুক্তভোগীর পক্ষে আসে। গ্রাম্য সালিশে কখনোই আকরাম মন্ডল জমি দখলে রাখার স্বপক্ষে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জমির দখল ছাড়ছেন না।
শফিকুল ইসলাম আরো অভিযোগ করেন, একজন জেলা পর্যায়ে নেতার আশ্রয় প্রশ্রয়ে আকরাম হোসেন মন্ডল আতাইকুলা ইউনিয়নে একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আকরাম মন্ডল একই মৌজায় আব্দুর রহিম ও খন্দকার আলাউদ্দিনের বেশ কিছু জমিও জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন। ওই নেতার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ৫ আগস্টের পর পাবনার ঐতিহ্যবাহী পুষ্পপাড়া হাটের নিয়ন্ত্রণ বৈধ ইজারাদার আব্দুস সালামের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে আকরাম মন্ডল জোরপূর্বক খাজনা তুলছেন। কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছে আকরাম মন্ডল গংরা।
আতাইকুলা হাটের ইজারাদার আব্দুস সালাম বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে আকরাম মন্ডল হাট দখল করেছে। এখন যে পরিস্থিতি অভিযোগ করাও কঠিন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগী আব্দুল ওহাব, আব্দুর রহিম অভিযোগ করে বলেন, আকরাম মন্ডলের সকল অপকর্ম জেলা জামায়াতের আমীর আবু তালেব মন্ডল ও কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম খানকে জানাই। তারা প্রতিকারের আশ্বাস দিলেও কোনই কাজ হয়নি। আমরা এই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
অভিযোগ প্রসঙ্গে আতাইকুলা ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি আকরাম হোসেন মন্ডল বলেন, সংবাদ সম্মেলনে অসত্য অভিযোগ করা হয়েছে। আমি কারো জমি দখল করিনি। শফিকুল যে জমির মালিকানা দাবি করছে তা আমার কেনা সম্পত্তি। আমি কাগজ পত্র দেখানোর জন্য তাদের ডেকেছি। কিন্তু তারা তা না করে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেবার চেষ্টা করছে। হাট দখলের অভিযোগও মিথ্যা।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে আমি জেলা জামাতের নায়েবে আমির ও আকরাম মন্ডল এর সঙ্গে বৈঠক করেছি। আকরাম মন্ডল কে ওই হাটের সত্ত্ব ত্যাগ করার জন্য বলেছি। আমার নিষেধের পর আকরাম মন্ডল ওই হাটে গিয়ে প্রকাশ্যে সবার সামনে তিনি আর আর হাটের খাস কালেকশনের সঙ্গে জড়িত থাকবেন না বলে জানিয়েছেন।
পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির প্রিন্সিপাল হোসাইন বলেন, আকরাম ও শফিকুলের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব চলছে। দুজনেই জমি ক্রয় করেছে বলে দাবি করেছে। জমি দখলে রাখায় আমার সহযোগিতা চায়। ৫ আগস্টের পর হাট পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিলে মৌখিক সমঝোতায় অন্যদের সাথে আকরামও যুক্ত হয়েছিলো। তবে, এটি আমাদের দলীয় নীতি বিরুদ্ধ হওয়ায় তাকে সরে আসতে বলা হয়েছে।