
ছবি : সংগৃহীত
জাকাত ইসলামের মৌলিক স্তম্ভগুলোর অন্যতম একটি। ঈমানের পর আল্লাহ নামাজ ও জাকাতের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন। জাকাত আদায়ের ব্যাপারে, কুরআনে যেমন অসংখ্য ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, তেমনি জাকাত আদায় না করার ব্যাপারেও অগণিত সতর্কবাণী এসেছে। জাকাত আদায় না করলে, পরকালের শাস্তি তো অবধারিত, দুনিয়াতেও বিভিন্ন মুসিবতের সম্মুখীন হতে হয়।
ব্যবহৃত স্বর্ণের জাকাত
আজকাল স্বর্ণালংকারের জাকাত স্বামী-স্ত্রীর কেউ-ই আদায় করে না। পুরুষ মনে করে, গহনা হলো নারীর। আর নারী মনে করে, গহনা পুরুষের। দুজনই জাকাত ফরজ হওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের বাহানা করে বেঁচে যেতে চায়। কিন্তু এসব বাহানা করে দায়িত্ব থেকে বাঁচা যাবে না। রাসুল (সা.) সম্পদের প্রতি নারীদের মোহ এবং অলংকারের জাকাত না দেওয়ার প্রবণতার কথা বিশেষভাবে আলোচনা করেছেন। অতএব নারীদের উচিত সম্পদের মোহ এবং অলংকারের প্রতি লিপ্সা মনের মধ্যে না রাখা এবং বেশি বেশি জাকাত-সদকা দেওয়া।
গহনার জাকাত কে দেবে?
মেয়েপক্ষের দেওয়া উপহার-গহনাপত্র তার মালিকানাধীন। তাই সেগুলোর জাকাত মেয়ের ওপরই ওয়াজিব হবে। আর স্বামীর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত অলংকার, যদি স্ত্রীর মালিকানাধীন করে দেওয়া হয়, তা হলে সেগুলোর জাকাত দেওয়াও স্ত্রীর ওপর বর্তাবে। আর যদি মালিক বানিয়ে না দেয়, বরং শুধু পরতে দেয়, তা হলে সেগুলোর জাকাত পুরুষের জিম্মায়। সে প্রতি বছর নিজের স্বর্ণ-রুপা হিসাব করে, যত টাকা জাকাত আসে, সঙ্গে সঙ্গে আদায় করে দেবে। এতে অলসতাবশত বিলম্ব করলে গুনাহ হবে।
কিছু ভুল ধারণা
কোনো কোনো নারী মনে করেন, স্বর্ণ-রুপা যদি ব্যবহৃত হয়, তা হলে তার জাকাত দেওয়া লাগে না। আর যদি ব্যবহৃত না হয়, তা হলে তার জাকাত আদায় করতে হয়। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘একবার ইয়ামেনবাসী জনৈকা নারী তার কন্যাসহ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এলেন। তার কন্যার হাতে মোটা দুটি স্বর্ণের বালা ছিল। তিনি তাকে বললেন, তুমি কি এর জাকাত দাও? মহিলাটি বলল, না। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি কি পছন্দ করো যে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ এর পরিবর্তে তোমাকে এক জোড়া আগুনের বালা পরিয়ে দেবেন? এ কথা শুনে ওই নারী তার হাত থেকে বালা দুটি খুলে রাসুল (সা.)-এর সামনে রেখে দিয়ে বলল, এ দুটি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্য। (নাসাঈ : ২৪৭৯; আবু দাউদ : ১৫৬৩)
আবার কোনো কোনো নারী মনে করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত স্বর্ণের পরিমাণ সাড়ে সাত তোলা ও রুপার পরিমাণ সাড়ে বায়ান্ন তোলা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই জাকাত ফরজ হবে না। অথচ এই হিসাব তখন হবে, যখন কারও মালিকানায় শুধু স্বর্ণ বা শুধু রুপা থাকে; ব্যবসায়িক কোনো পণ্য বা সামান্য পরিমাণ টাকাও তার কাছে না থাকে। (কিন্তু আজকাল তো প্রত্যেকের কাছে কিছু না কিছু টাকা থাকেই।)
আর যদি কোনো পুরুষ বা নারীর কাছে দুই অথবা ততোধিক প্রকারের সম্পদ থাকে; তা হলে প্রত্যেকটির ভিন্ন ভিন্ন নেসাব পূর্ণ হওয়া জরুরি নয়। বরং এই সুরতে যেহেতু রুপার মূল্য স্বর্ণের চেয়ে কম, তাই উল্লিখিত দুই বা ততোধিক সম্পদের মূল্যমান (ভ্যালু) মিলিয়ে লাখ করা হবে; যদি সবকিছুর মূল্যমান সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্যের সমান বা বেশি হয়, তা হলে সেই সম্পদের জাকাত ওয়াজিব হবে।