ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ ২০২৫
বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ ২০২৫
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ ২০২৫

ইসলামে গোপনীয়তা রক্ষার গুরুত্ব
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৫, ১২:৩১ এএম  (ভিজিট : ২৬৬)

প্রায় সব মানুষেরই থাকে কিছু গোপন বিষয়। মুমিনের কর্তব্য, নিজের ও অন্যের সব ধরনের গোপন বিষয় গোপন রাখা। কেউই চায় না যে, তার গোপনীয় বিষয়গুলো অন্য কেউ খুঁজে বের করে মানুষের কাছে তা প্রকাশ করুক। বরং সবাই চায় যে, তার গোপনীয় বিষয়গুলো যেন প্রকাশ না পায়। তাই অন্যের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়ানো মানুষের কাছে একটি নিন্দনীয় স্বভাব।

শুধু তাই নয়, এমন স্বভাব মহান আল্লাহর কাছেও অপছন্দনীয়। এ জন্য পরের দোষ খুঁজে বেড়ানো ইসলামে সম্পূর্ণরূপে নিষেধ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অন্যের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না।’ (সুরা হুজরাত : ১২)

সামাজিকতা, চক্ষুলজ্জা ও অপমানের ভয় অনেক সময় মানুষকে অনেক খারাপ কাজ করা থেকে বিরত রাখে। হতে পারে এই ভয়টাই একদিন তাকে আল্লাহর দিকে নিয়ে যাবে, যখন সে তার ভুল বুঝতে পারবে এবং তার কৃত অপরাধের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে। কিন্তু যখন তার অপরাধ জনসমক্ষে প্রকাশ করে দেওয়া হয় তখন সেই ভয় বা চক্ষুলজ্জা আর তার মাঝে কাজ করে না। সে তখন ভাবতে থাকে, কী হবে আর ভালো থেকে, ক্ষতি যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে, লোকজন তো জেনেই গেছে ইতিমধ্যে’, তখন সে প্রকাশ্যে পাপকাজে লিপ্ত হতে থাকে। তা ছাড়া বারবার পাপের কথা বলতে থাকলে মানুষের অন্তর থেকে পাপের ভয় দূর হয়ে যায়। তখন পাপকে আর পাপ বলে মনেই হয় না। যে পাপের কথা বলে বেড়াতে লজ্জাবোধ করে না, একই পাপে লিপ্ত হওয়া তার জন্য অসম্ভব কিছু নয়। আর এভাবেই সমাজে পাপ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আল্লাহ কোনো মন্দ বিষয় প্রকাশ করা পছন্দ করেন না। তবে কারও প্রতি জুলুম হয়ে থাকলে সেটাা আলাদা। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত।’ (সুরা নিসা : ১৪৮)

অনিচ্ছাসত্ত্বেও যদি অন্যের দোষ চোখে পড়ে, তা হলে সেটা গোপন করে রাখতে হবে। বলা হয়, পিতা-মাতার গোপনীয় অপরাধের কথা যদি সন্তান জানত, তা হলে কোনো সন্তানই পিতা-মাতাকে ঘৃণায় সম্মান করত না। আবার সন্তানের গোপনীয় অপরাধের কথা যদি কোনো পিতা-মাতা জানত, তা হলে পিতা-মাতা কখনো তাকে সন্তান বলে পরিচয় দিত না। সুতরাং, কেউ যদি চায় যে, তার দোষগুলো যেন আল্লাহ তায়ালা গোপন করে রাখেন, তা হলে সে যেন অন্য মুসলমান ভাইয়ের দোষগুলো গোপন করে রাখে।

এই সম্পর্কে রাসুল (সা.) স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন করে রাখবে, মহান আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া ও পরকালে তার দোষ গোপন করে রাখবেন।’ (মুসলিম : ৬৪৭২)
বান্দার যেসব দোষ-ত্রুটি আল্লাহ তায়ালা গোপন করে রেখেছেন, সেসব দোষ-ত্রুটি অন্যেও কাছে প্রকাশ করে দেওয়া আল্লাহ অপছন্দ করেন। যারা অন্যের দোষ খুঁজে বের করে মানুষের কাছে প্রকাশ করে দেয়, তাদের দোষ আল্লাহ তায়ালা প্রকাশ করে দেন।

এ সম্পর্কে হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যের দোষ খুঁজে ফেরে, আল্লাহ তায়ালা তার দোষ উন্মোচন করে দেন। আর শুনে রাখো, আল্লাহ তায়ালা কারও দোষ উন্মোচন করলে, সে যেখানেই থাকুক তার নিস্তার নেই, অবশ্যই সে লাঞ্ছিত হবে’ (আবু দাউদ : ৪৮৮০)। এ সম্পর্কে ইমাম নববি (রহ.) লিখেছেন, ‘একমাত্র দুর্বল ঈমানদার ও মুনাফিকরাই মানুষের দোষ খুঁজে বেড়ায় এবং অন্যেও কাছে প্রকাশ করে দেয়।’ তাই নিজের দোষ গোপন করতে আমরা কখনো অন্যের দোষ প্রকাশ করব না।

আল্লাহ তায়ালা নিজে দয়াপরবশ হয়ে বান্দার অনেক অপরাধ গোপন করে রাখেন। কিন্তু দুর্ভাগা অনেক মানুষই চায় না যে, তার গোপন অপরাধগুলো গোপন থাক। তাই তো, অনেক মানুষই রাতের আঁধারে তাদের কৃত অপরাধগুলো দিনের আলোতে অন্যের কাছে নির্লজ্জতার সঙ্গে প্রকাশ করে দেয়, যা আল্লাহর বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যে নিজের গোপনীয় বিষয় নিজেই অন্যের কাছে প্রকাশ করে, আল্লাহ তায়ালা তার গোপনীয় অপরাধগুলো কখনো ক্ষমা করেন না।

এ সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের সবার গু০১নাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। কিন্তু নিজেরা নিজেদের দোষ-ত্রুটি জাহিরকারীদের পাপ ক্ষমা করা হবে না। (কিছু কিছু মানুষ আছে) তারা নিজেদের দোষ-ত্রুটি এমনভাবে প্রকাশ করে, যেমন কোনো ব্যক্তি রজনিতে কোনো অপকর্ম করে। এরপর প্রভাত হয়। মহান আল্লাহ পাক তার কর্মফলগুলো গোপন করে রেখেছেন। এরপর সে সকালবেলা বলে, হে অমুক! আমি গতরাতে এমন এমন কাজ করেছি। অথচ সে রাতযাপন করেছিল এমন অবস্থায় যে, মহান আল্লাহ তায়ালা তার অপরাধ গোপন করে রেখেছিলেন আর ভোরবেলা সে মহান আল্লাহর গোপনীয়তাকে প্রকাশ করে দেয়’ (বুখারি : ৬০৬৯)।

তাই উপরোক্ত হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা হচ্ছে, আমরা কখনো আমাদের কৃত অপরাধগুলো অন্যের কাছে অযাচিতভাবে প্রকাশ করব না। অন্যের কোনো দোষ-দুর্বলতাও মানুষের সামনে প্রকাশ করব না। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সব গোপনীয় অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকার তওফিক দান করুন।

সময়ের আলো/আরএস/




https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close