করোনায় ৮১ শতাংশ শ্রমিকের আয় কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

করোনা রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউন চলাকালে ঢাকা শহরে দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতে চাকরি হারিয়েছেন ৮৭ শতাংশ শ্রমিক। ওই সময়

2022-01-13T18:56:29+00:00
2022-01-13T18:58:46+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
করোনায় ৮১ শতাংশ শ্রমিকের আয় কমেছে
বিলসের গবেষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২২, ৬:৫৬ পিএম  আপডেট: ১৩.০১.২০২২ ৬:৫৮ পিএম
করোনা রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউন চলাকালে ঢাকা শহরে দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতে চাকরি হারিয়েছেন ৮৭ শতাংশ শ্রমিক।  ওই সময় ৮৭ শতাংশ শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। চাকরি হারানো শ্রমিকদের ৭ শতাংশ এখনও বেকার রয়েছেন। 

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) ‘ঢাকা শহরের পরিবহন, দোকানপাট ও হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকদের ওপর সাম্প্রতিক লকডাউনের প্রভাব নিরূপণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিলস’র উপ-পরিচালক (গবেষণা) মো. মনিরুল ইসলাম গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকার ছয়টি অঞ্চলে এ ধরনের ৪০০০ শ্রমিকদের ওপর এই গবেষণা চালায় বিলস।

বিলস’র গবেষণায় দেখা যায়, পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং দোকান এই তিন খাতে ৯৬ শতাংশই পুরুষ শ্রমিক কাজ করেন। আর নারী শ্রমিকের অধিকাংশই দোকানে কাজ করেন। শ্রমিকদের ৭০ শতাংশ আবার বিবাহিত। শিশুশ্রমিক ৫ শতাংশ। এসব শ্রমিকের ১৩ শতাংশের নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা।

গবেষণায় বলা হয়, কোভিড-১৯ এর ফলে ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ শ্রমিকই লকডাউনের ফলে কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৮৭ শতাংশ শ্রমিকের কর্মসংস্থান কমে গেছে। কর্মদিবস কমেছে ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ। কর্মঘণ্টা কমেছে ৯২ শতাংশ শ্রমিকের। এছাড়া লকডাউন-পরবর্তী সময়ে তিন হাজার ৪৮৬ জন শ্রমিক তার কাজ ফিরে পেয়েছে। তবে এখনো ৭ শতাংশের বেশি শ্রমিক কাজ পায়নি বলে জানায় সংস্থাটি।

সংস্থাটির গবেষক মনিরুল জানান, কোভিডের কারণে ৮৩ শতাংশ সেবাদানকারী ও ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসময় হয় তারা তাদের সেবা বা ব্যবসা বন্ধ করেছেন নয়তো ব্যবসার পরিসর কমিয়েছেন। ৯৫ শতাংশ বাস ও লেগুনা এবং ৮০ শতাংশ দোকান বন্ধ ছিল সেসময়। এই তিন ধরনের শ্রমিকদের ৫১ দশমিক ৫ শতাংশই ছিলেন চাকরি হারানোর চিন্তায়।

গবেষণায় দেখা যায়, সামাজিক নিরাপত্তার জন্য এসব শ্রমিকের ৩৬ শতাংশ করোনার টিকা গ্রহণ করেছেন। তবে লকডাউন-পরবর্তী সময়ে মাস্ক ব্যবহার কমেছে ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ। পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং দোকান শ্রমিকদের ৭৯ শতাংশই কোনো শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত নন। এদের ৪৩ দশমিক ৩৪ শতাংশই মনে করেন স্বাভাবিক সময়ে শ্রমিক ইউনিয়নের কোনো দরকার নেই।

করোনা মহামারিতে বেসরকারিখাতে নিয়োজিত পরিবহন শ্রমিক, হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিক এবং দোকান শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য ১০ দফা সুপারিশ তুলে ধরে সংস্থাটি- এগুলো হলো, বেসরকারিখাতে কর্মরত শ্রমিকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। দুর্যোগকালে বেসরকারিখাতে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য শ্রম অধিদপ্তরের দায়িত্বে একটি বিশেষায়িত ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচি’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। দুর্যোগকালে বেসরকারিখাতে কর্মরত শ্রমিকদের সহায়তার জন্য একটি সঠিক ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। অগ্রাধিকারভিত্তিতে বেসরকারিখাতের শ্রমিকদের করোনা টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। দুর্যোগকালে চাকরি হারানো বেসরকারিখাতের শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বেকার ভাতা সুবিধা প্রদানের বিশেষ বিধান প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

বেসরকারিখাতের শ্রমিকদের স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহের জন্য অনতিবিলম্বে রেশনের ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। বেসরকারিখাতের শ্রমিকদের সামাজিকভাবে সুরক্ষার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে বিমা ব্যবস্থার প্রবর্তন ও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।দুর্যোগকালে বেসরকারিখাতের শ্রমিকরা যাতে ‘শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থসহায়তা পান, তার আইনগত বৈধতা প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বেসরকারিখাতে কর্মরত শ্রমিকদের দুর্যোগকালে চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব পক্ষের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বেসরকারিখাতে ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নিতে হবে। 

বিলস’র গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বিলস’র ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল হক আমিন, বিলস’র পরিচালক কোহিনূর মাহমুদ ও নাজমা ইয়াসমীন।

এফএইচ

Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: