প্রকাশ: সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৩, ৩:০১ পিএম (ভিজিট : ১৩২৬)
লক্ষ্মীপুরে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে এক বিএনপি নেতাকে পাহারায় বসিয়ে বিরোধীয় জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড বাঞ্চানগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে৷
সোমবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশকে জানিয়েও কোন সুরাহা পাননি বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া। এর আগে ১২ অক্টোবর তিনি সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগও করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন মো. মাসুদ আলম, সুমন পাটওয়ারী, আবুল খায়ের, শাহাব উদ্দিন, আলম ওরফে কসাই আলম, আবদুর রহমান মোহন ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর লোকমান হোসেন। তারা বাঞ্চানগর ও পশ্চিম লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা।
এর আগে চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর বিরোধীয় জমিতে স্থাপনা নির্মাণ, মাটি কাটা এবং জমির মালিকানা পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন অভিযোগকারী কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া। এতে আদালত উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে ৪ অক্টোবর থেকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক লোকমান হোসেনসহ অন্য অভিযুক্তদের পাহারায় বসিয়ে কাজ চলমান রেখেছেন মাসুদ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী কামাল উদ্দিন পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা। একই এলাকায় সফি উদ্দিন রেজা মাহমুদের ওয়ারিশ হিসেবে বাঞ্চানগর মৌজায় এসএ জরিপের ৬০৭ নম্বর খতিয়ানে ২২৩২ দাগে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ১০ শতাংশ জমির মালিক হন। কিন্তু জমিটি দখলে নিতে তাজুল ইসলামরা বিভিন্নভাবে তোরজোড় শুরু করেন। এতে সফি উদ্দিন ২০১৩ সালে তাজুলের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা করেন। এরমধ্যেই তাজুলের ওয়ারিশদের কাছ থেকে অভিযুক্ত মাসুদ জমি ক্রয় করেন। সম্প্রতি মাসুদ ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এতে বাধা দেওয়ায় বাদী কামালদের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়।
কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, জমির বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতে উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু মাসুদ ভাড়াটে লোকজনকে পাহারায় বসিয়ে জোরপূর্বক কাজ করাচ্ছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনার অনুযায়ী পুলিশ তাদেরকে কাজ বন্ধ রাখতে বললে, কর্ণপাত করছেন না তারা।
ক্রয়সূত্রে জমির মালিকানা দাবি করে মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে জানান, জমির মালিকানার সকল কাগজপত্র আছে। বাদী অহেতুক আমাদেরকে হয়রানি করছে। আদালত ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, পরে তা খারিজ হয়ে গেছে। আর স্থিতাবস্থার আদেশে কাজ বন্ধ রাখা যায় না।
বক্তব্য জানতে বিএনপি নেতা লোকমান হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্তদের কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। কিন্তু তারা কাজ চলমান রেখেছেন। এতে বাদীপক্ষকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/আতা