ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ জুন ২০২২ ১১ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার রোববার ২৬ জুন ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

সবাই মিলে কাজ করলে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা সম্ভব: সেনাপ্রধান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০২২, ৯:৫৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 83

ভয়াবহ বন্যায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অসহায় বানভাসি মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সুনামগঞ্জে গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। 

এছাড়াও নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, কোস্টগার্ড, র‌্যাব, জেলা প্রশাসনসহ ব্যক্তিগত ও সংগঠন পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকা থেকে পানিবন্দি মানুষদেরও উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করা সুনামগঞ্জ ও সিলেটের দুর্গম এলাকা ঘিরে এই মানবিক সহায়তা সবচেয়ে বেশি পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা যায়। সশস্ত্র বাহিনী, বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যক্তি পর্যায়েও বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে সবখানেই ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে এসব মানবিক কর্মকাণ্ড।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সুনামগঞ্জের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন আজ। পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধান সুনামগঞ্জের সুরমা ইউনিয়নের মঈনপুর এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বন্যা চলে যাওয়ার পরেও যতদিন জনগণের প্রয়োজন হবে ততদিন তাদের পাশে থেকে সেনাসদস্যরা সকল সহযোগিতা করবে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্য সকল ফরমেশন নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং যতদিন প্রয়োজন ততদিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। সবাই মিলে কাজ করলে যেকোন দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান।

সর্বস্তরের জনসাধারণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, বন্যা পরবর্তী বিপর্যস্ত জনজীবনের দুর্ভোগ দূরীকরণের নিমিত্তে সরকারের সকল সংস্থা নিরলস ভাবে কাজ করছে এবং সেনাবাহিনীও তাদের প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম বিশেষ গুরুত্ব সহকারে পরিচালিত হবে। 

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সুনামগঞ্জে সেনাবাহিনীর প্রধানের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাইরেক্টর জেনারেল অব মেডিক্যাল সার্ভিস মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব অর্ডন্যান্স মেজর জেনারেল মো. আবু সাঈদ সিদ্দিক, ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল মুহাম্মদ যুবায়ের সালেহীন, ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল হামিদুল হকসহ সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ এবং ১৯ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যরা সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং নেত্রকোণা জেলার মোট ২০টি উপজেলায় বন্যা দুর্গতদের সহায়তায় মোতায়েন রয়েছে। মোতায়েনরত সেনাসদস্যগণ নিরলসভাবে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার ও দুর্গতদের মাঝে খাবার বিতরণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে আসছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ পর্যন্ত সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং নেত্রকোণার বন্যাকবলিত এলাকায় এ পর্যন্ত ১২ হাজার ১৪৮ জন বন্যা দুর্গত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে প্রেরণ করেছে। ১৪ হাজার ৭৫০ জনকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, ২১ হাজার ৯৬৮ জনের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, ৫৫ হাজার ১৩৬টি পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণের পাশাপাশি বন্যার্তদের মাঝে ৫৪ হাজার ৮২৮ লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং পানি বিশুদ্ধিকরণ ওষুধ বিতরণ করেছে। প্রতিদিনই এই সংখ্যা বাড়ছে।

ত্রাণের বাইরেও সার্বিক সহায়তায় সেনাবাহিনী
আইএসপিআর জানিয়েছে, সেনাসদস্যরা২২ জুন থেকে সিলেট জেলার সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় মজুদকৃত অর্থ নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের সহযোগিতা করছে। সেনাসদস্যরা সিলেট জেলার বড়ইকান্দি ও কুমারগাঁও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলোকে প্লাবন থেকে রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিত করণে কাজ করে যাচ্ছে। বন্যাকবলিত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার নিমিত্তে সিলেটের তেলিখালের উপর কাটাগঙ্গা ব্রিজ মেরামত করা হয়েছে। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সেনাবাহিনী মোতায়েন হয়ে পানি নিষ্কাশন ও ভূমি ধস রোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 

সুনামগঞ্জ জেল কর্তৃপক্ষের অনুরোধের প্রেক্ষিতে জেল সদস্যদের এবং কয়েদীদের জন্য শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিসেফ এর অনুরোধে সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের জন্য রক্ষিত মূল্যবান ভ্যাকসিন নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মোবাইল ফোন কোম্পানির সরঞ্জাম সুরক্ষার মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী এবং নিজেদের পাশাপাশি অসামরিক প্রশাসনের জন্য ও ভি-স্যাট স্থাপনের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রেখেছে সেনাবাহিনী।

নৌবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত
বৃহস্পতিবারও বাংলাদেশ নৌবাহিনী সুনামগঞ্জের দরেরপাড়, গোবিন্দনগর, পয়ারিনগর, মজুমদারি, কান্দাহাটি, আলীপুর, চালবন, জামালগঞ্জের বাহাদুরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দুর্গত অসহায় মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে। 

এছাড়া সুনামগঞ্জের দুর্গম ইব্রাহিমপুর গ্রাম থেকে নাবিলা নামে এক অন্তঃস্বত্তা গৃহবধূকে উদ্ধার করে নৌবাহিনী। পরে মা ও সন্তানসহ সেই গৃহবধূ নাবিলাকে বাড়িতেও পৌঁছে দিয়েছে নৌবাহিনী।

বিমান বাহিনীর ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত
গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবারও বিমানবাহিনী হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমানযোগে বন্যা কবলিত সিলেট ও সুনামগঞ্জের দুর্গম এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে। জনসাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে নিরাপদস্থানে ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
 
আইজিপির ত্রাণ বিতরণ
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ দুপুরে সুনামগঞ্জের দুর্গম এলাকা তাহিরপুরে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। এর আগে তিনি তাহিরপুর বাঁধাঘাট স্কুল মাঠে হেলিকপ্টার যোগে অবতরণ করেন। সেখানে বানভাসি মানুষদের মাঝে পুলিশের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহযোগিতা প্রদান করেন। পরে বন্যাকবলিত কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করে বিশ্বম্ভপুর থানায় আশ্রয় নেওয়া বন্যার্তদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহাম্মেদ ও সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান প্রমুখ।

বন্যা দুর্গত এলাকায় র‌্যাবের টহল জোরদার
বৃহস্পতিবার বিকেলে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সোনাপুর ও বাদেরটেক এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন র‌্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। ত্রাণ বিতরণ শেষে র‌্যাব প্রধান বলেছেন, দুর্যোগের পর পানিবন্দি কিছু কিছু এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে কেউ কেউ বলেছেন। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ অভিযোগ জানানি। এরপরও বিভিন্নস্থানে টহল জোরদার করা হয়েছে। 

ডাকাতদের উদ্দেশ্যে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, অপরাধ কর্মকাণ্ড করার আগে হিসেব করবেন। আমাদের সদস্যরা সকল স্থানে নিয়োজিত আছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। এখানকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে র‌্যাব ছাড়াও সেনাবাহিনী, পুলিশ,নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী কাজ করছে।

হেলিকপ্টারে করে ত্রাণ দিয়েছে বিজিবি
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জের দুর্গম সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অসহায় বানভাসি মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হেলিকপ্টার। পিলখানা সদর দফতর জানায়, বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশনায় বিজিবি সদর দফতর থেকে হেলিকপ্টারযোগে ত্রাণ নিয়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় বানভাসি মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়। হেলিকপ্টার থেকে ত্রাণ সামগ্রী নামি বিজিবি সদস্যরা সরাসরি তাহিরপুর উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী টেকেরহাট ও চানঁপুর এলাকার বন্যাদুর্গত এক হাজার পরিবারের মাঝে বিতরণ করেন। 

এছাড়াও সীমান্ত পরিবার কল্যাণ সমিতি (সীপকস) কুড়িগ্রাম উপশাখা কর্তৃক ধরলা নদীর পার সংলগ্ন বন্যাকবলিত ৫০টি অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

/আরএ

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif

আরও সংবাদ   বিষয়:  সেনাপ্রধান   আইএসপিআর   বাংলাদেশ সেনাবাহিনী   বন্যা   সিলেট  




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]