ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ জুন ২০২২ ১১ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার রোববার ২৬ জুন ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

পররাষ্ট্র নীতিতে বাংলাদেশ চমৎকারভাবে ব্যাল্যান্স করছে: রাশিয়া
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০২২, ৭:৫৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 102

চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার (রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ) প্রেক্ষিতে  বাংলাদেশ পররাষ্ট্র নীতিতে চমৎকারভাবে ব্যাল্যান্স করে চলছে। যা খুবই প্রশংসনীয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় রাশিয়া বাংলাদেশকে সমর্থন এবং সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক ঐতিহাসিক। বিগত ১৯৭২ সালে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। গত ৫০ বছরে এই সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের দেশে যুক্ত হওয়ার যে পরিকল্পনা করেছে তাতে রাশিয়া সহযোগিতা করবে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) রাজধানীতে আয়োজিত এক লেকচার অনুষ্ঠানে রাশিয়া দূতাবাসের ডেপুটি চীফ অব মিশন একাতেরিনা সেমেনোভা বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন। ‘বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্ক: অপরিহার্যতা, সম্ভাবনা এবং ঝুঁকি’ শীর্ষক এই লেকচারের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ‘ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া)।

রাশিয়া দূতাবাসের ডেপুটি চীফ অব মিশন একাতেরিনা সেমেনোভা বলেন, বাংলাদেশ জন্মের শুরু থেকেই রাশিয়ার সাথে অর্থনৈতিক খাতের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মস্কো সফরের মধ্য দিয়ে চলমান এই সময়ের সম্পর্কের ভিত্তি রচিত হয়েছে। গত ২০২১ সালে দুই দেশের মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে। এখনকার ইউক্রেইন সঙ্কটের কারণে কৃষির সারসহ প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য আমদানিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বিশেষ করে সরবরাহ ব্যবস্থার অবনতিতে এই সমস্যা হচ্ছে। আমরা এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পশ্চিম) সাব্বির আহমেদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ-রাশিয়া দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। এই সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে আরো শক্তিশালী হচ্ছে এবং বিভিন্ন খাতে দুদেশকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র নীতিতে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ এই নীতিতে বিশ্বাস করে। যে কারণে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরুর পর জাতিসংঘ যে তিনটি রেজুলেশন এনেছে তাতে বাংলাদেশ তার নিজের পররাষ্ট্র নীতির ওপর ভর করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে এই ধরনের উত্তেজনা প্রমোশনে সংলাপ এবং পারস্পরিক আলোচনার বিকল্প নাই। যে কারণে জাতিসংঘের ওই তিন রেজুলশনের প্রথম এবং তৃতীয় পর্বে বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত ছিল, মাঝের দ্বিতীয় রেজুলেশনে মানবিক ইস্যুতে বাংলাদেশ হ্যাঁ ভোট দিয়েছে। বাংলাদেশ আবেগের বশে পররাষ্ট্র নীতিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না। কেন না পররাষ্ট্র নীতিতে আবেগ কাজ করলে তা দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না।

মূল প্রবন্ধ পাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দা রোজানা রশীদ বলেন, বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে রাশিয়া অন্যতম যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সমর্থন ও সহযোগিতা করেছে এবং যুদ্ধের পরপরই স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের সূত্রপাত একাত্তর থেকেই। তারপর দুই দেশেরই অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পরিবর্তনের ফলে দুপক্ষের সম্পর্কও উঠা-নামা করেছে। তবে দুই দেশের সম্পর্ক অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সামরিক খাতে দিনে দিনে শক্তিশালী হয়েছে। 

তিনি বলেন, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি করে। ওই বছর বাংলাদেশ রাশিয়াকে ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র ক্রয়ের কার্যাদেশ দেয়। ২০১৫ সালে রাশিয়া বাংলাদেশে রূপপুর পারমানবিক উন্নয়ন প্রকল্প শুরু করে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে বাংলাদেশ জ্বালানি স্বল্পতার ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবে। 

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কে যেমন অগ্রগতি আছে এবং আরো সম্ভাবনা আছে ঠিক তেমনি এই সম্পর্কে ঝুঁকিও আছে। বর্তমানে বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ বা বৈশ্বিক ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য গোটা পৃথিবী দুইভাবে বিভক্ত। যে কারণে জোটে এবং জোটি বিরোধী এমন অনেক বৈশ্বিক শক্তিতে বিশ্বের ক্ষমতাসীন দেশগুলো বিভক্ত। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে তার স্বার্থ রক্ষায় সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। 

ড. সৈয়দা রোজানা রশীদ বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সঙ্কটে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছে। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো হলেও রাশিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভোট দিয়েছে, যা বাংলাদেশের বিপক্ষে গেছে, এইখানে রাশিয়া মিয়ানমারের সাথে তার সম্পর্ক ও স্বার্থকে আগে প্রাধান্য দিয়েছে। আবার বাংলাদেশকে পররাষ্ট্র নীতিতে প্রতিবেশীকেও দেখতে হবে। তাই চলমান উত্তেজনায় বাংলাদেশকে তার পররাষ্ট্র নীতিতে ব্যাল্যান্স করে চলতে হবে। এক্ষেত্রে তিনটি বিশেষ বিষয় পজিশন, প্রায়োরিটি, প্রমিসেস বা এই তিন ‘পি’র ওপর জোড় দিতে হবে।

বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউটের (বিইআই) মহাপরিচালক ও পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে বিশ্ব এখন ক্ষমতার দ্বন্দ্বে অস্থিতিশীল। এমন প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র নীতিতে শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যথেষ্ট নয়, বহুপাক্ষিকসহ দেশের স্বার্থে বিভিন্ন কূটনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির যে দর্শন ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ এটা দুর্দান্ত। যে কারণে কয়েক বছর আগে চীন-ভারত উত্তেজনায় বাংলাদেশ কোনো পক্ষের হয়ে বিবৃতি দেয়নি, নিরপেক্ষ থেকেছিল। বাংলাদেশ এই ক্ষেত্রে স্মার্ট পররাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়ন করেছে। এই সময়ের উত্তেজনাতেও বাংলাদেশ এই নীতি ধরে রেখেছে, যা ইতিবাচক।

এফএইচ

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif



http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]