ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ জুন ২০২২ ১১ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার রোববার ২৬ জুন ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

বঙ্গবন্ধু: শিক্ষা মানে সত্যিকারের আলোকপ্রাপ্ত হওয়া
ফেরদৌস আল মাহমুদ পলাশ
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুন, ২০২২, ৮:৪৮ পিএম আপডেট: ২২.০৬.২০২২ ১১:১৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 231

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বীর বাঙালির বিজয় এবং বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক এক নতুন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা, বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রামের এই দীর্ঘ যাত্রাপথ সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে। ভাষার অধিকার রক্ষার সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে ক্রমেই জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে রূপান্তরিত করেন তিনি। ছাত্রদের মাধ্যমে যে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছিল যুক্তফ্রন্টের প্রদাশিক নির্বাচনে তাতে সম্পৃক্ত হয় বাংলার কৃষক সমাজ। ছয়দফা আন্দোলনের গতিপথ আরো গতি পায় শ্রমিকদের অংশগ্রহণে। এভাবে ১৯৭০ এর নির্বাচনের পূর্বেই ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক থেকে শুরু করে সমাজের সর্বোস্তরের মানুষকে এক কাতারে নিয়ে আসেন শেখ মুজিবুর রহমান। একারণে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পর বাঙালি জাতি তাকে বঙ্গবন্ধু বলে মাথার মুকুট হিসেবে গ্রহণ করে, এরপর সত্তরের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের একচেটিয়া বিজয়ের পর জাতির পিতা হিসেবে অভিনন্দিত করা হয় বঙ্গবন্ধুকে। 

বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে বাঙালি জাতির দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার ইতাহাস আমরা সবাই জানি। কিন্তু দেশ গড়ার জন্য বঙ্গবন্ধুর যে প্রচেষ্টাগুলো ছিল, বঙ্গবন্ধুর যে রাষ্ট্রদর্শন, সেগুলো বিষয়ে পরবর্তীতে খুব কমই আলোচনা হয়েছে। মূলত ১৯৭৫ সালে সপরিবারের বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামী লীগকে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়ার অপচেষ্টা করে উগ্রবাদী ও দেশবিরোধী শক্তি। দীর্ঘদিন ধরে তাদের অপপ্রচারের কারণে নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধূর রাষ্ট্রদর্শন সম্পর্কে কমই জানতে পেরেছে। যে মানুষটি একটি স্বাধীন জাতি প্রতিষ্ঠা করলেন, তিনি সেই জাতিকে কীভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, তার সেই দর্শন সম্পর্কে না জানলে আমরা জাতি হিসেবে অকৃজ্ঞই থেকে যাবো। 

বঙ্গবন্ধু যে মানবিক সমাজ গড়ার স্বপ্নর দেখতেন, অর্থনৈতিক সুফল সবার ঘরে পৌঁছে দিতে চাইতেন, নারী-পুরুষ-ধর্ম-বর্ণের বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন, তার অন্যতম একটি প্রধান লক্ষ্য ছিল জাতিকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা। যাতে শিক্ষিত হয়ে নিজেরাই একটি সমতাভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পারে বাঙালি জাতি। একারণে স্বাধীনতার আগে থেকেই তিনি যতো ভাষণ দিয়েচেন, সবখানেই শিক্ষার কথা উল্লেখ করেছেন। 

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা নিয়ে ১৯৭০ সালে যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তা তিনি শুধু ভাষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বাস্তবে রূপদান করেছিলেন স্বাধীনতার পর আওয়ামী সরকার গঠনের যাওয়ার পর। তিনি দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষা সবার জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত করেন। বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা, কারিগরি সব জায়গায় আধুনিক ও মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। তবে আমূল পরিবর্তনটা তিনি এনেছিলেন প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষায়। উচ্চশিক্ষাকেও যথেষ্ট প্রাধান্য দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু ক্ষমতায় এসে দেশে উচ্চশিক্ষা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন এবং ধনী-গরিব বৈষম্য দূর করলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্ত্বশাসন প্রদান করলেন এবং গঠন করলেন মঞ্জুরি কমিশন।

বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায় ১৯৭০ এর নির্বাচনের সময় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে। সেই ভাষণে তিনি সুস্পষ্ট কিছু প্রস্তাব রেখেছিলেন। যথা- প্রথমত, ‘সুষ্ঠু সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষাখাতে পুঁজি বিনিয়োগের চেয়ে উৎকৃষ্ট বিনিয়োগ আর কিছু হতে পারে না।’ দ্বিতীয়ত, ‘নিরক্ষতা অবশ্যই দূর করতে হবে। পাঁচ বছর বয়স্ক শিশুদের বাধ্যতামূলক অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষাদানের জন্যে একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালু করতে হবে।’ তৃতীয়ত, ‘দারিদ্র্য যেন উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মেধাবীদের জন্য বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

এমনকি, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের প্রথম বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধনকালে বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে শিক্ষার উদ্দেশ্য ও নারী শিক্ষা সম্বন্ধে বলেন, ‘শতকরা ২০ জন শিক্ষিতের দেশে নারীর সংখ্যা আরও নগণ্য। ক, খ, শিখলেই শিক্ষিত হয় না, সত্যিকারের আলোকপ্রাপ্ত হইতে হইবে।’ এর আগে, ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনের সময়েও তিনি কার্যকরী সর্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু শিক্ষাকে জনমুখী ও সম্প্রসারণ করতে কোনো কৃপণতা করেননি। সেই লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেন বঙ্গবন্ধু। 

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আগামী প্রজন্মের ভাগ্য শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করছে। শিশুদের যথাযথ শিক্ষার ব্যত্যয় ঘটলে কষ্টার্জিত স্বাধীনতা অর্থহীন হবে।’ 

বঙ্গবন্ধু তার জীবদ্দশায় শিক্ষা সম্পর্কিত যে আইন প্রণয়ন করেছিলেন এবং বাস্তবায়ন করছিলেন সেগুলো হলো- প্রাথমিক স্কুল অ্যাক্ট ১৯৭৪, ইউনিভার্সিটি গ্রান্ড কমিশন অব বাংলাদেশ- আদেশ ১৯৭৩, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- আদেশ ১৯৭৩, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়- অ্যাক্ট ১৯৭৩, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়- অ্যাক্ট ১৯৭৩, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়- অ্যাক্ট ১৯৭৩, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ান- আদেশ ১৯৭৩।

এছাড়াও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. কুদরত-ই-খুদাকে প্রধান করে ৯৭২ সালে একটি শিক্ষা কমিশন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেই শিক্ষা কমিশন বেশ কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করে। যার ভিত্তিতে দেশের শিক্ষা কার্যক্রম চলতে থাকে। বঙ্গবন্ধুর শাসন আমলে আরও দুটি শিক্ষাবিষয়ক আইন প্রণীত হয়। তা হলো- মাদ্রাসা এডুকেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৭২, প্রাইমারি এডুকেশন অ্যাক্ট ১৯৭৪।

বঙ্গবন্ধু দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করতে চেয়েছিলেন। বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা বিস্তার ও নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়ার প্রথম পদক্ষেপ ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ। তাই ১৯৭৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের একটি আইন প্রণয়ন করেন। 

এই আইন প্রণয়নের পর প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়। বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক করে শিক্ষাকে সহজলভ্য করে দিয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ, ১১ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, ৪৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ ও চাকরি সরকারিকরণ, ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই ও গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পোষাক প্রদানের ব্যবস্থা করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু সরকার স্বাধীন দেশে প্রথম যে বাজেট ঘোষণা করেছিলেন তাতে প্রতিরক্ষা খাতের চেয়ে শিক্ষা খাতে ৭% বরাদ্দ বেশি রেখেছিলেন। কারণ বঙ্গবন্ধু জানতেন প্রতিরক্ষা খাতের চেয়ে শিক্ষা খাতের গুরুত্ব অনেক বেশি। পাকিস্তান আমলে যে সকল শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছিল এবং এই কমিশন যা সুপারিশ করেছিল তা ছিল ত্রুটিপূর্ণ। এজন্য আমাদের দেশে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনও করেছিল। ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন তার জ্বলন্ত প্রমাণ। বঙ্গবন্ধুর উচ্চশিক্ষার অবদানকে তিনটি ক্ষেত্রে বিভক্ত করা যায়। যেমন- বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন গঠন, বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসন প্রদান, একটি কার্যকরী শিক্ষা কমিশন গঠন।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭৩ সালের শুরুতে তৎকালীন আইনমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের জন্য গণতান্ত্রিক আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সমিতি ও শিক্ষকদের কাছে মতামত চান। সবাই নিজ নিজ মতামত পেশ করেন। এসব মতামতের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে প্রশাসনিকভাবে স্বায়ত্ত্বশাসন, সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারী সবাইকে গণতান্ত্রিক মতামত রাখার সুযোগ প্রদান, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিকাশের বিষয়টি উঠে আসে। এসব প্রস্তাব পাওয়ার পর ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দ্রুত আইন জারি করা হয়। আইনগুলো ছিল যথেষ্ট গণতান্ত্রিক ও অংশীদারিত্বমূলক। শিক্ষক-ছাত্রদের দীর্ঘদিনের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন ঘটে এই আইনগুলোতে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার ফলে একটা আমূল পরিবর্তন আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্ত্বশাসন প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর সত্যিকার অর্থে জ্ঞান চর্চার তীর্থভূমি এবং মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠে।

বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর দেশ পরিচালনার জন্য যে সংবিধান প্রণয়ন করেন, তাতে তিনি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সংবিধানের ১৭নং অনুচ্ছেদে শিক্ষার বিষয়টি উল্লেখ আছে। তাতে রয়েছে- ১৭(ক) একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (খ) সমাজের প্রয়োজনের সাথে শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছাপ্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষতা দূর করার জন্য রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বৃহত্তর জেলাগুলোতে যে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করছেন, তা বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রদর্শন বাস্তবায়নেরই অংশ। আমাদের শিক্ষার মান আরো উন্নত হোক, কর্মমুখী শিক্ষার আলোয় কর্মসংস্থান হোক লাখ লাখ তরুণ-তরুণীর। শিক্ষা শুধু সনদে সমীবদ্ধ না থেকে, মানবিকতার আলোয় আলোকিত করুক পুরো জাতিকে। তবেই গড়ে উঠবে স্বপ্নের সোনার বাংলা, শান্তি পাবে মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মা।  

লেখক: রাজনৈতিক কর্মী ও কলাম লেখক।

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif



http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]