ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ জুন ২০২২ ১১ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার রোববার ২৬ জুন ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

১৫শ টাকার প্লাস্টিক বক্স ৬ হাজার টাকায় ক্রয়: জড়িতদের জবাবদিহিতা জরুরি
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুন, ২০২২, ২:৩৬ পিএম আপডেট: ২২.০৬.২০২২ ২:৩৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 66

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. ওমর ফারুক মীরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থের মাধ্যমে বাজারদরের চেয়ে উচ্চমূল্যে নিম্নমানের মালামাল ক্রয় ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। হাসপাতালে মালামাল সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাখিলকৃত বিলের একটি কপি সংযুক্ত করে এ বিষয়ে জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সাদেক হোসেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে গোপন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সহকারী পরিচালক ওমর ফারুক কার্যাদেশ প্রদান করেছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। 

লিখিত অভিযোগে সাদেক হোসেন জানান, সদ্য কেনা বর্জ্য ফেলার প্লাস্টিক বক্সগুলোর বিষয়ে কয়েকজন সাবেক সহকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে তিনি জানতে পারেন, প্রতিটি বক্স কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৭৯০ টাকা দরে। সাধারণত এ ধরনের বক্স বাজারে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়। 

সরকারি অর্থের অপচয় করে বাজারদরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে এসব পণ্য কেনার বিষয়ে হাসপাতালের কর্মচারী বলেন, এডি স্যার জানেন। পরে সহকারী পরিচালক ওমর ফারুককে বিষয়টি জানালে তিনি এ বিষয়ে নাক গলাতে নিষেধ করেন। সম্পূর্ণ নীতিমালা-বহিভর্‚তভাবে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ কিংবা নোটিস বোর্ডে না টানিয়েই ঢাকার এসটিএম করপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ১১ জুন কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। অফিসে যোগাযোগ করেও দরপত্র বিজ্ঞপ্তির কোনো কপি পাওয়া যায়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে সহকারী পরিচালক এসব নিম্নমানের মালামাল উচ্চ দামে কিনেছেন, যা দাখিলকৃত বিলে প্রমাণিত। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দুদকে আবেদন করা হয়েছে।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির এক সদস্য জানান, মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান মালামাল ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ঠিক না থাকায় এসটিএম করপোরেশন যে দর দেয় তা-ই অনুমোদন পায়। সরবরাহকৃত মালামাল বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্ট্যান্ডার্ড রেটের মধ্যে রয়েছে।

হাসপাতালের একাধিক ঠিকাদার সূত্রে জানা যায়, জুন মাস সামনে রেখে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করতেই উচ্চ দামে নিম্নমানের মালামাল কেনা হয়েছে। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের উচ্চমান সহকারী সনজিৎ কুমার দাস কোন পত্রিকায় কবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি। তার কাছে কোনো কাগজপত্র নেই।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. ওমর ফারুক মীর দাবি করেছেন, মালামাল ক্রয়ে কোনো দুর্নীতি হয়নি। সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনেই দরপত্র আহ্বান ও কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এখানে দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ নেই। জাতীয় পত্রিকায় দরপত্র আহ্বান ও নোটিস বোর্ডে বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে।

জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. খায়রুল হক বলেন, পাবনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মালামাল ক্রয়-সংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত অভিযোগ ও একটি ক্রয় ভাউচার আমরা পেয়েছি। বিষয়টি কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের অনুমোদন পেলেই আমরা এ বিষয়ে অনুসন্ধানের কাজ শুরু করব।

সরকারি যেকোনো ক্রয়ে বেশি দামে কেনাকাটা যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে বাজারদরের চেয়ে উচ্চমূল্যে নিম্নমানের মালামাল ক্রয় ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অনেকটাই স্পষ্ট। সরকারি অর্থের অপচয় করে বাজারদরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে এসব পণ্য কেন কেনা হয়েছে, এ ব্যাপারে বাজারমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় থাকা উচিত ছিল। এরপর থেকে হাসপাতালের যেকোনো ক্রয়ের ব্যাপারে সতর্ক ও সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে। যারা এটা করেছে তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। দুদক এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে দ্রæত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, আমরা সেই প্রত্যাশায় রইলাম।

/জেডও

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif



http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]