ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ জুন ২০২২ ১১ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার রোববার ২৬ জুন ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

আবার চোখ রাঙাচ্ছে করোনা
গোলাম মোস্তফা
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০২২, ৮:২৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 116

দেশে আবারও চোখ রাঙাচ্ছে করোনার সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। যা ১৪ সপ্তাহের সর্বোচ্চ। যদিও কারও মৃত্যু হয়নি। আর আগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ২৩২ জন। অর্থাৎ এই সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে ১৩৫ জন বেশি। এ ছাড়া গত এক মাসে যেখানে সংক্রমণের হার ছিল এক শতাংশের নিচে, তা এখন প্রায় ৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এমন অবস্থায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। 

আর কোভিড সংক্রান্ত সরকারের জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও হাসপাতালে শয্যা আইসিইউ প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। গত তিন মাস এসব হাসপাতালে রোগীশূন্য থাকায় শয্যাগুলোতে ধূলোবালির স্তর পড়ে গেছে। অযত্নে-অবহেলায় পড়ে আছে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোর আইসিইউ, এইচডিইউ, ভেন্টিলেটর, হাইফ্লো-ন্যাজাল ক্যানুলা, অক্সিজেন কন্সেন্ট্রেটার ও সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনসহ করোনা চিকিৎসা ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো।

জনস্বাস্থ্য বিশেষরা বলছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অনেক দেশেই করোনা বাড়ছে। সুতরাং বাংলাদেশ তো পৃথিবীর বাইরে নয়। আর আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানায় চরম উদাসীনতা রয়েছে। এমনকি মাস্কও পরা ছেড়ে দিয়েছে।

গত ২২ মের পর থেকে টানা দুই সপ্তাহ ধরে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ফের বাড়ছে। গত রোববার আবার ১০০ ছাড়িয়ে যায়। সেদিন সারা দেশে ১০৯ জনের শরীরে করোনার সংক্রমিত হয়। সোমবার শনাক্ত হয় ১২৮ জন নতুন রোগী। মঙ্গলবার শনাক্ত রোগী আরও বেড়ে হয় ১৬২ জন। বুধবার ২০০ ছাড়ানোর পর বৃহস্পতিবারই সাড়ে ৩৫৭ জন আক্রান্ত হন। সর্বশেষ ৮ মার্চ এর বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল এক দিনে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী কোনো দেশে সংক্রমণ দুই সপ্তাহের বেশি ৫ শতাংশের নিচে থাকলেই করোনা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে গণ্য করা হয়। সেই হিসেবে করোনা নিয়ন্ত্রণেই আছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ হাজার ২০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। যা আগের দিন শনাক্তের হার ছিল ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১১৪ জন সুস্থ হয়েছেন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় মোট শনাক্তদের মধ্যে ৩২৮ জনই ঢাকা মহানগর ও জেলার বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মহাখালীর কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড ডিএনসিসি হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন ফিল্ড হাসপাতালের শয্যাগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। রোগীদের তেমন আনাগোনা নেই। করোনা ইউনিটের শয্যাগুলোও অযত্ন-অবহেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। তাতে ধূলোবালির স্তর পড়েছে। আবার করোনার জন্য নির্ধারিত রুমও চিকিৎসা ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো তালা লাগানো। চিকিৎসক-নার্সরাও অনেকটা অবসর সময় পার করছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দেখা গেছে, মাত্র তিনজন রোগী আছে। আর পুরো ইউনিটের সবই ফাঁকা। কোনো চিকিৎসক নেই। একজন নার্স এবং একজন ওয়ার্ড বয় বসে আছেন। বিএসএমএমইউর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন ফিল্ড হাসপাতালের ৫৫১টি সাধারণ শয্যার মধ্যে কোনো কোভিড রোগী ভর্তি নেই। আইসিইউ এইচডিইউ শয্যাগুলো সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড ডিএনসিসি হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শফিকুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, আমাদের হাসপাতাল কখনই রোগীশূন্য ছিল না। এখনও চারজন রোগী আছে। তবে করোনার সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালে রোগীর চাপ নেই। আর চাপ বাড়লেও আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। আর হাসপাতালে চিকিৎসায় ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো সেভাবেই আছে কারণ এই হাসপাতালটি মূলত করোনা রোগীদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক সময়ের আলোকে বলেন, আমাদের করোনা ওয়ার্ডগুলোতে কোভিডের পাশাপাশি নন-কোভিড রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখন যেহেতু করোনা বাড়ছে। আমাদের দুয়েকজন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। আমরা প্রাথমিকভাবে ১০০ রোগীকে ভর্তির জন্য আলাদা ইউনিট করে ফেলছি। তারপরেও যদি রোগী বাড়ে তা হলে আরও শয্যা বাড়বে। আর করোনা চিকিৎসায় ব্যবহার করা যন্ত্রপাতিগুলো আমরা ফেলে রাখিনি। সবই এখন নন-কোভিড রোগীর সেবায় ব্যবহার হচ্ছে।

তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ কম থাকায় রোগী এলেই অপারেশন করে ফেলছি। এখন আমরা করোনা টেস্ট ছাড়া কোনো রোগীর অপারেশন করব না। কারণ একজন রোগীর যদি পজেটিভ থাকে তা হলে পুরো অপারেশন টিমের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি ভর্তি হওয়ার আগে সব রোগীর করোনা টেস্ট করে ভর্তি নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে দেশের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, ভারত-সৌদিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা নতুন করে বাড়ছে। আর রোগটি যেহেতু আনপ্রেডিকটেবল। তাই কখন কোনো ঢেউ আসে তা বলা তো মুশকিল।

দেশে করোনা বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানতে চায় না। ঠিকমতো মাস্ক পরে না, হাত ধোয় না। করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আর না মানলে বড় বিপদ। আর এখনও টিকা নেয়নি কিংবা এক ডোজ নিয়েছেন অবশ্যই তাদের দ্রুত টিকা নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, দেশ ও দেশের বাইরে করোনা সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। তাই সবাইকে সতর্ক হতে হবে। আমরা একটা স্বাভাবিক অবস্থায় আছি, যাতে অস্বাভাবিক অবস্থায় না যাই, সেই বিষয়ে সবার প্রচেষ্টা দরকার।

/আরএ

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif

আরও সংবাদ   বিষয়:  করোনা  




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]