ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২ ১৭ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

বাড়তি টাকা ছাড়া জোটে না সেচের পানি
নাজমুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০২২, ৯:১৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 99

দেশের উত্তরের কৃষিতে সমৃদ্ধ জেলা ঠাকুরগাঁও। এ জেলার কৃষি আশপাশের জেলাগুলোর তুলনায় বেশ উন্নত ও উৎপাদনের পরিমাণও বেশি। এখানকার কৃষিপণ্য ও ফসল উৎপাদনে বড় ভূমিকা রয়েছে পানির। এবার এই পানি নিয়েই জমিদারি আচরণের অভিযোগ উঠেছে আক্তারুজ্জামান আক্তার নামে গভীর নলকূপের এক অপারেটরের বিরুদ্ধে। দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর অত্যাচারে বিপাকে পড়েছে উত্তরের কৃষি।

ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষিতে বড় একটা অবদান রেখে চলেছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভীর নলকূপগুলো। এবার সেসব নলকূপের সেচ নিয়ে অপারেটরদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে কৃষকদের কাছ থেকে। তাদের অভিযোগ, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জেলার গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ নেওয়ার জন্য কার্ডের টাকা ছাড়াও বাড়তি ভাড়ার টাকা দিতে হচ্ছে কৃষকদের। আর এই গভীর নলকূপের ভাড়ার টাকা প্রদান করতে হয় অপারেটর আক্তারুজ্জামান আক্তারের হাতে।

সদর উপজেলার ভূল্লী বড় বালিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ১০৮নং গভীর নলকূপের আওতায় থাকা প্রায় ৫০ জন কৃষক সেচ নিতে গিয়ে পড়েছে এমন ভোগান্তিতে। প্রতিবাদস্বরূপ ভুক্তভোগী কৃষকরা বরেন্দ্র নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন দুর্নীতিবাজ অপারেটরের নামে।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, বড় বালিয়া ইউনিয়নে ১০৮নং গভীর নলকূপের দায়িত্বে থাকা অপারেটর আক্তারুজ্জামান বিগত ১০ বছর থেকে ওই এলাকার কৃষকের কাছে ডিপ টিউবওয়েল ভাড়া নিয়ে আসছে। ওই নলকূপের আওতায় রয়েছে প্রায় ৬০ একর জমি। প্রতি সেচ মৌসুমে একর প্রতি ২ হাজার ৪০০ টাকা ভাড়া দিতে হয় একজন কৃষককে। বোরো বা আমন মৌসুমে কৃষক এই টাকা দিতে না পারলে তাকে দেওয়া হয় না সেচ সুবিধা। এ ব্যাপারে এবার ৫০ কৃষক একত্রিত হয়ে এ বিষয়ে বরেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে অভিযোগ করলে নলকূপে তালা মেরে দেয় হয় অপারেটর আক্তারুজ্জামান। এমনকি তাদেরকে পানি না দেওয়ারও হুমকি দেয়।

শাহজাহান আলী, বিপ্লব, নজরুল ইসলামসহ অভিযোগকারী কৃষকরা জানান, আমরা কার্ডের মাধ্যমে টাকা দিয়ে ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি নিই। কার্ডে টাকা দিতে হয়, আবার ভাড়াও দিতে হয়। নিজেকে ডিপ টিউবওয়েলের মালিক দাবি করেন আক্তারুজ্জামান। বিঘাপ্রতি ১ হাজার ২০০ টাকা না দিলে জমিতে সেচের পানি দেবেন না তিনি। নলকূপে তালা মেরে রেখেছেন। বিগত সময়ে চাপে পড়ে আমরা টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি। আসলে তিনি কেন এই টাকা নেন বা নিয়ম আছে কি না সেটা আমরা জানতে চাই। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, গত এক মাস যাবৎ তারা পানি নিতে পারেননি। কেন পানি দেবে না এমনটা জানতে চাইলে আক্তারুজ্জামান বলেন, এই ডিপ টিউবওয়েল মালিক তিনি নিজেই। পানি দিতে না পারায় কৃষকদের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে দ্রুত সমাধানের দাবি ভুক্তভোগী কৃষকদের।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে গভীর নলকূপের অপারেটর আক্তারুজ্জামান বলেন, তারা যে অভিযোগটা করেছে তা মোটেও সত্য না। ডিপ টিউবওয়েল করতে গিয়ে বরেন্দ্রকে আমি কয়েক ধাপে টাকা দিয়েছি। সেই টাকা তোলার জন্য আমি  খরচের জন্য আংশিক কিছু টাকা নিই কৃষকদের কাছ থেকে। কৃষকের কাছে বিঘাপ্রতি ৮০০ বা ১ হাজার টাকা চাই। কোনো ধরনের জোরপূর্বক টাকা নেওয়া হয় না। তারা যা দেয় তা নেওয়া হয়। অনেকেই আবার টাকা দেয় না।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের (বিএমডিএ) ঠাকুরগাঁও রিজিওনের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ১০৮নং ডিপ টিউবওয়েলের (গভীর নলকূপ) অপারেটরের বিরুদ্ধে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ সাপেক্ষে আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। এরপরেও যদি ওই অপারেটর অনিয়ম করতে থাকে তা হলে আমরা তাকে বাতিল করব।

/জেডও

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif

আরও সংবাদ   বিষয়:  সেচের পানি  




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]