ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২ ১৭ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

উন্নয়নের মূলস্রোতে ফরিদপুর
সোহাগ জামান, ফরিদপুর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০২২, ৯:০৫ এএম আপডেট: ২৪.০৫.২০২২ ১০:১৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 162

এক পদ্মা সেতুতেই বদলে যাবে ফরিদপুরের চিত্র। এক সময়ের অবহেলিত এ জেলাটি দক্ষিণবঙ্গের উন্নয়নের মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পদ্মা সেতু চালুর পর বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের কাজ জেলার বিভিন্ন স্থানে শুরু হবে। বিশেষ করে ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা, সদরপুর, নগরকান্দা এলাকায় এসব প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজ হবে। তা ছাড়া যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে বৃহত্তর ফরিদপুরের ৫টি জেলাকে নিয়ে পদ্মা বিভাগ। পদ্মা বিভাগের হেড কোয়ার্টার ফরিদপুরে হবে এমন পরিকল্পনা নিয়ে এ জেলায় চলছে নানা কাজ। ফলে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ফরিদপুরের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পদ্মা সেতু, ৬ লেনের এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন রেলপথসহ বিভিন্ন দফতরের অফিসের জন্য সরকার যে ভূমি অধিগ্রহণ করে সেখান থেকে জমির মালিকেরা কয়েকগুণ টাকা বেশি পেয়েছেন। ফলে আগে যারা রিকশা, ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত এখন তারা জমি বিক্রি করে কোটিপতি বনে গেছেন। জমি বিক্রির টাকা দিয়ে অন্যত্র জমি কিনে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ফলের আবাদ-মাছের চাষ করে তারা এখন স্বাবলম্বী। পদ্মা সেতুর কারণে ফরিদপুর অংশের ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুরের শেষ সীমানা গোপালগঞ্জের মুকসেদপুর পর্যন্ত এবং ভাঙ্গা থেকে মাদারীপুরের রাজৈর পর্যন্ত মহাসড়কের দুপাশে কর্মযজ্ঞ চলছে। এ কারণে এ অঞ্চলে জমির দাম বেড়েছে ৩০-৪০ গুণ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মা সেতুকে ঘিরে এ অঞ্চলে মেগা প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অলিম্পিক ভিলেজ, বঙ্গবন্ধু মান মন্দির, রেলওয়ে জনসন, অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইওয়ে থানাসহ একটি আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারিভাবে গড়ে উঠছে নানা শিল্পকারখানা।

ভাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল্লাহ শামীম বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ছিল অবহেলিত। ব্যবসা-বাণিজ্য তেমন একটা চাঙ্গা ছিল না। পদ্মা সেতুর কারণে এ অঞ্চল এখন ব্যবসায়িক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নততর হওয়া এবং পদ্মা সেতুর কারণে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হচ্ছে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা, নগরকান্দাসহ আশপাশের এলাকাজুড়ে।

আরেক ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, পদ্মা সেতুর কারণে নতুন নতুন ব্যবসার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। কেউ আর এখন বেকার নেই। কেউ না কেউ ছোট-বড় ব্যবসায় অর্থ লগ্নি করছে। ভাঙ্গার সদরদি এলাকার ভ্যানচালক লুৎফর মুন্সী বলেন, আগে ভ্যান চালিয়ে তিনি ২০০-৩০০ টাকা আয় করতেন। এখন তিনি প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে ১২০০-১৩০০ টাকা আয় করেন।

নগরকান্দার চরযশোরদী ইউনিয়নের দিনমজুর আইয়ুব আলী জানান, তার অল্প কিছু জমি ছিল হাইওয়ের পাশে। সরকার রেলের জন্য জমিটি অধিগ্রহণ করে। সেই জমি থেকে তিনি কোটি টাকার বেশি দাম পেয়েছেন। সেই টাকা এখন ব্যাংকে জমা রেখেছেন। আগামীতে তার ইচ্ছে রয়েছে এ টাকা দিয়ে ভালো কিছু করার।

চরযশোরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুর রহমান পথিক তালুকদার বলেন, এখন আর মানুষ গরিব নেই। যার অল্প কিছু জমি রয়েছে সেই এখন কোটিপতি। জমির দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। তা ছাড়া পদ্মা সেতুর কারণে এ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। বেকার বলতে এখন আর কিছু নেই। এলাকায় অনেক শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে। সেখানে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা হয়ে উঠেছে ফরিদপুর।

ভাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা ভাঙ্গাবাসী সৌভাগ্যবান, আমাদের এলাকার মানুষের ভাগ্যেরও ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। ভাঙ্গা পৌর মেয়র এএফএম আবু ফয়েজ রেজা বলেন, এক কথায় বলতে গেলে আমাদের মধ্যে দারুণ উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।

/জেডও

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif

আরও সংবাদ   বিষয়:  ফরিদপুর  




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]