ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২ ১৭ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

শিশুর প্রতি অতিরিক্ত শাসন নিষেধ
মিজানুর রহমান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০২২, ৭:৫৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 144

বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসার প্রাথমিক শ্রেণিগুলোতে শাসনের নামে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের প্রতি অমানবিক নিষ্ঠুরতার কথা প্রায়ই পত্রিকার পাতায় উঠে আসে। বাচ্চাদের নানা ধরনের অমানবিক শাস্তি দেওয়ার কথা শোনা যায়। ছোট ছোট ছাত্রকে বেধড়ক লাঠিপেটা করার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। শিশুদের হাত-পা বেঁধে পেটানো বা পিঠমোড়া করে বেঁধে রাখা, সিলিংয়ে ঝোলানো, কপালে পয়সা দিয়ে সূর্যের দিকে মুখ করে রাখা ইত্যাদি স্বেচ্ছাচারী শাস্তি। এ ধরনের শাস্তি দেওয়া ইসলামে হারাম ও নাজায়েজ। শিক্ষার্থী বা শিশু-কিশোররা ভুল করাটা স্বাভাবিক। যদি সব কিছুই তারা যথাযথভাবেই করে, তা হলে আর তারা বাচ্চা থাকল কী করে! ভুল করলে আদর-সোহাগ করে ভালোবাসা দিয়ে কৌশলে ওদের শুধরে দিতে হবে। বিশেষ প্রয়োজনে কিছুটা শাসন করা যেতে পারে। শাসন মানেই যে বেত দিয়ে বেদম প্রহর করতে হবে তা নয়। বেতের প্রহার ছাড়াও শাসনের বহু পন্থা রয়েছে। প্রতিটি বাচ্চাকে নিজের সন্তান মনে করতে হবে। এটা বাস্তব যে, একসঙ্গে অনেকগুলো বাচ্চাকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ কাজ নয়। এ জন্যই বাচ্চাদের যারা শিক্ষক, তাদের অনেক বেশি কুশলী ও সংযমী হতে হবে। এ দুই গুণ না থাকলে তার জন্য বাচ্চাদের শিক্ষক হওয়া উচিত হবে না।

নিতান্ত প্রয়োজনে কাউকে কোনো শাস্তি প্রয়োগ করা সমীচীন মনে করলে তা অবশ্যই শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে একেবারে ঠান্ডা মাথায় পরকালে জবাবদিহিতার কথা স্মরণে রেখে অপরাধীর সংশোধনের নিয়তে হতে হবে। অন্যথায় তা জুলুম বলে বিবেচিত হবে। (বুখারি : ৫১৮৮; ফাতওয়া শামী : ৪/৬০-৬১)। শরিয়তে নাবালেগ বাচ্চাকে বেত বা লাঠি দ্বারা প্রহার করার কোনো অবকাশ নেই। প্রয়োজনে ধমকি দিয়ে, কিছু সংখ্যকবার কান ধরে উঠ-বস করিয়ে, বিকালে খেলা বন্ধ রেখে, নাস্তায় সীমিতকরণের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। একান্ত অপরাগতায় হাত দিয়ে প্রহার করার অনুমতি আছে (লাঠি বা বেত দিয়ে নয়)। কিন্তু কোনোক্রমেই তার সংখ্যা যেন তিনের অধিক না হয়। (ফাতাওয়া শামী : ১/৩৫২)। চেহারা ও নাজুক অঙ্গে যেমন মাথায়-পেটে ইত্যাদিতে আঘাত করা বা জখম হয়ে যায় বা কালো দাগ পড়ে যায় এমন জোরে আঘাত করা নাজায়েজ। (ফাতাওয়া শামী : ৪/১৩, ৭৯)

আল্লাহর রাসুল (সা.) বাচ্চাদের অত্যন্ত স্নেহ করতেন। চুমু খেতেন। পরম মমতায় তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। ভালোবাসায় তাদের হৃদয় ভরে দিতেন। তিনি কখনও বাচ্চাদের প্রহার করেননি। তিনি বাচ্চাদের শিখিয়েছেন, আদর দিয়ে সোহাগ দিয়ে। ওমর ইবনে সালাম (রা.) বলেন, আমি ছোট বালক ছিলাম, রাসুলের সঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় পাত্রের এদিক-ওদিক হাত নাড়াচাড়া করছিলাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, বৎস! আল্লাহর নাম নাও, ডান হাতে খাও এবং নিজের সামনে অংশ থেকে খাও। (বুখারি : ৫০৬১; মুসলিম : ২০২২)। কী মায়া ভরা শিক্ষা! এমনই ছিল নবীজির শিক্ষাদান। শিশু বয়স মানুষের বিকাশকাল। এ সময় তার কচি মনে শিক্ষার বীজ বপন করে দিতে হয় সযত্নে ও সুকৌশলে। শিশুর বিকাশের এ সময়টাতে যতটা সম্ভব শাসন এড়িয়ে চলা উচিত। চূড়ান্ত ধৈর্য ও সহনশীলতা সঙ্গে তাকে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। যখন শাসনের প্রয়োজন হয় তখন পূর্ণ সংযম ও দূরদর্শিতার পরিচয় না দিলে শিশুর ওপর এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়।


http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif



http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]