ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২ ১৭ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

সংসারেও ঘাটতি বাজেট, অর্থ আসবে কোথা থেকে
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ মে, ২০২২, ১০:০১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 161

তৌহিদুর রহমান ও সিরাজুল ইসলাম। দুজনই মধ্যবিত্ত দুটি পরিবারের কর্তাব্যক্তি। ভোগ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের এই বাজারে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে না পেরে সংসারের বাজেট কাটছাঁট করেছেন তারা। সকালের নাস্তায় আগে চারটি রুটি খেতেন, এখন খাচ্ছেন দুটি করে। মাসে আগে চার-পাঁচ দিন গরুর মাংস খেতেন। এখন মাংস কেনাই বাদ দিয়েছেন। আগে চিকন চাল খেতেন, এখন খাচ্ছেন মোটা চাল। এভাবেই তারা কৃচ্ছ্রতা সাধন করছেন। তারপরও প্রতি মাসে সংসারের বাজেটে থাকছে ব্যাপক ঘাটতি। তাদের প্রশ্ন- সংসারের এই ঘাটতি বাজেটের অর্থ আসবে কোথা থেকে?

এদিকে আগামী মাসেই আসছে ২০২২-২৩ অর্থবছরের নতুন বাজেট। এবারের বাজেটের আকার হচ্ছে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা। বাজেট এলেই আতঙ্কে থাকেন সাধারণ মানুষ। এই বুঝি জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেল। এবার তেমনটি হলে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দেবে তাদের জন্য। 

অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, আগামী বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে মূল্যস্ফীতি কমানোর দিকে। সংসারের বাজেট কীভাবে কমিয়েছেন তার একটি হিসাব দিয়েছেন তৌহিদুর রহমান। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। ভালো-মন্দ সব রকম খেয়েই জীবনযাপন করতে হয়। কিন্তু ছয়টি মাস ধরে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, খাওয়া অর্ধেক কমিয়েও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আগে সকালের নাস্তায় চারটি রুটি খেতাম। এখন খাই দুটি। মাসে আমার ৮ কেজি আটা লাগে, এখন আটা কিনছি ৪ কেজি। আগে চিকন চাল খেতাম। এখন খাই মোট চালের ভাত। প্রতি মাসে আমার সংসারে ৪-৫ দিন গরুর মাংস রান্না হতো, এখন মাসে এক দিনও হয় না। গরুর মাংস কেনা ১০০ ভাগ কমিয়েছি। মুরগি কেনা কমিয়েছি ৬০ ভাগ। ডিম খাওয়া কমিয়েছি ৫০ ভাগ। মাছ কেনা কমিয়েছি ৪০ ভাগ। সবজি কেনা কমিয়েছি ৫০ ভাগ। পোশাক কেনা কমিয়েছি ৬০ ভাগ। বেড়ানো বা সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়া কিংবা কোনো বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে যাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিয়েছি। অর্থাৎ এ খাতে ব্যয় কমিয়েছি শতভাগ। খাদ্য তালিকায় এতটা কাটছাঁট করার পরেও সংসারের বাজেটে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে তিনি আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে ধার নিচ্ছেন বলে জানান। তিনি বলেন, কোনো মাসে বিকল্প উৎস থেকে কিছু আয়ের চেষ্টা করছি। এভাবে টেনেটুনে, ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে আছি।

আসন্ন বাজেটে নিজের ভাবনার কথা জানিয়ে তৌহিদুর রহমান বলেন, বাজেট নিয়ে কোনো প্রত্যাশা নেই। কারণ সবসময় দেখে আসছি বাজেটে ধনীরাই বেশি সুবিধা পান। সাধারণ মানুষ বা শ্রমজীবী মানুষের জন্য বাজেটে কিছুই থাকে না। তবে এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভোগ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে মানুষ অনেক কষ্ট আছে। আগামী বাজেটে আমার চাওয়া সরকার ভর্তুকি দিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য রেশনের ব্যবস্থা করুক। সেই সঙ্গে টিসিবিকে আরও শক্তিশালী করে কম মূল্যে সাধারণ মানুষকে পণ্য দেওয়ার ব্যবস্থা নিক সরকার।

সিরাজুল ইসলামও তার প্রতিদিনকার আহারে কাটছাঁট করেছেন। তবুও সংসারের বাজেট তিনি জোগাতে পারছেন না। প্রতি মাসেই থাকছে ঘাটতি। তিনি বলেন, বলা হচ্ছে যুদ্ধের কারণে এবং বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে দেশেও পণ্যমূল্য বেড়েছে। আমার কথা হলো, কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, সবজি, মাছ, মুরগি- এসব পণ্যের পুরোটাই তো দেশে উৎপাদন হয়। তা হলে বিশ্ববাজারের দোহাই দিয়ে এসব পণ্যের দাম কেন বাড়ানো হবে। গরুর মাংসের কেজি ৫৫০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৭৫০ টাকা হয়ে গেছে। গরুও কি আমদানি করতে হয়, নাকি ইউক্রেন-রশিয়া থেকে গরুর মাংস আনতে হয়। অথচ দেশের বাজারে গরুর মাংসের দামও বাড়ানো হয়েছে। এ জন্য আমি এখন মাসে এক দিনও গরুর মাংস খেতে পারছি না। অথচ আগে সপ্তাহে এক দিন খেয়েছি। এভাবে সংসারের খরচ বাঁচাতে সব কিছুতেই কৃচ্ছ্রতা সাধন করছি। এতে করে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এখন সুষম খাদ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই অবস্থার মধ্যে আসছে আগামী বাজেট। বাজেট এলেই মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়। কারণ প্রতিবছরই বাজেটের পর জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। আমার প্রত্যাশা এবারের বাজেটে যেন সে রকমটি না হয়। নতুন বাজেটে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ে, এমন কোনো ব্যবস্থা যেন না নেওয়া হয়। আমি প্রত্যাশা করব আগামী বাজেট যেন হয় আমার সংসারের ঘাটতি বাজেট পূরণের সহায়ক।

শাহজাহান আলী থাকেন রাজধানীর মালিবাগ এলাকায়। তিনি সংসারের খরচ বাঁচাতে নিয়েছেন নানা পদক্ষেপ। ঢাকার ওয়াসার পানিতে তার আস্থা নেই। তাই তিনি জারের পানি কিনে ফুটিয়ে খেতেন। এখন অর্থ বাঁচাাতে জারের পানি কেনা ছেড়ে দিয়েছেন। আগে কাপড়চোপড় লন্ড্রিতে দিতেন, এখন ঘরে নিজেই কাপড় আয়রন করেন। বিভিন্ন রকম বই কেনার শখ তার। প্রতি মাসেই তিনি তার আয় থেকে বই কেনার জন্য কিছু অর্থ বরাদ্দ রাখতেন। এখন বই কেনা ছেড়ে দিয়েছেন। আগে সকালের নাস্তায় প্রতিদিনই একটি করে ডিম খেতেন এবং নাস্তা শেষে মাল্টা বা অন্য কোনো ফল খেতেন। নাস্তায় ডিম খান এখন দুই-তিন দিন পর পর। আর ফল খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। আগে প্রতি সপ্তাহে সেলুনে যেতেন শেভ করতে, এখন নিজেই শেভ করেন ঘরে বসে। বিদেশি কিছু ক্রিমের প্রতি তার দুর্বলতা রয়েছে। প্রতিদিনই তিনি ক্রিম ব্যবহার করতেন। এখন বিদেশি ক্রিম কেনা ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এভাবে যেটা না কিনলেই না, সেটা কিনছি। কারণ মাসের আয় আর ব্যয়ের মধ্যে অনেক ঘাটতি থাকছে।

এমন পরিস্থিতিতে আগামী বাজেটে পণ্য মূল্য কমানোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে বলেছেন অর্থনীতিবিদরা। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘চড়া দ্রব্যমূল্য দেশের মানুষের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি কমানোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘পণ্য ও সেবা মূল্য এত বেড়েছে যে, দেশের আমজনতার কষ্টের শেষ নেই। এ জন্য আমি প্রত্যাশা করব আগামী বাজেট হোক আমজনতার বাজেট। যাতে করে সাধারণ মানুষের সংসারের ঘাটতি বাজেটে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেয়।’

/জেডও

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif

আরও সংবাদ   বিষয়:  ঘাটতি বাজে   




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]