ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ জুন ২০২২ ১১ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার রোববার ২৬ জুন ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

দুর্ঘটনায় আহতদের দুর্বিষহ জীবন: সড়কে শৃঙ্খলা আনার বিকল্প নেই
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ মে, ২০২২, ৯:৪৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 127

সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল বা পঙ্গু হাসপাতালে অনেক মানুষ ভর্তি হচ্ছে। এখানে ভর্তি রোগীদের বেশিরভাগই গত ঈদুল ফিতরের আগে বা পরে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি পঙ্গু হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা অনেক পরিবার। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে কেউ কেউ। আহত রোগীদের আর্তনাদে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পরিবেশ ভারী থাকে সবসময়। দুঃখ-দুর্দশার যেন শেষ নেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির স্বজনদের। 

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুর্ঘটনার শিকার রোগী আসছে পঙ্গু হাসপাতালে। ঈদের আগে-পরে ১০ দিনে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে রোগীদের ঠাঁই হচ্ছে বারান্দায়। রোগীর চাপ বাড়ায় ঠিকভাবে সেবাও পাচ্ছে না বলে অভিযোগ অনেকেরই। 

পঙ্গু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের পরের সাত দিনে ৯০০ রোগী আসে। আহতদের মধ্যে ৬৭২ জন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। তাদের বেশিরভাগের বয়স ২০-৩০ বছরের মধ্যে। মোটরসাইকেলের পরই বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার। বাস ও ট্রাকের দুর্ঘটনা তুলনামূলক কম। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৭৩৩টি। এসব দুর্ঘটনায় মারা গেছে ২ হাজার ১৪৪ জন এবং আহত হয়েছে ২ হাজার ৪০৫ জন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৮৩০ জন। ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১৪ দিনে দেশে ২৮৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫০০ জন। 

পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অন্যবারের চেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে। এবার দুর্ঘটনার একাধিক কারণ আছে। আগে যেখানে গাড়ির গতি একশর নিচে ছিল, সেটি এখন একশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে হরহামেশা। চালকরা বেশিরভাগই তরুণ। তাদের অনেকের মাথায় হেলমেট থাকে না। ফলে এত গতিসম্পন্ন গাড়ি যখন দুর্ঘটনার শিকার হয়, তখন ক্ষতি বেশি হয়। 

পঙ্গু হাসপাতালে মোট শয্যাসংখ্যা ১ হাজার। এর কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় বাড়তি রোগীদের ঠাঁই হয়েছে মেঝে ও বারান্দায়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের। এ ছাড়া এক্স-রে মেশিন নিয়ে ব্যস্ত টেকনোলজিস্টও রোগীর ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ব্যস্ততার শেষ নেই অস্ত্রোপচার কক্ষেও। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল গণি মোল্লাহ বলেন, অনবরত রোগী আসছে হাসপাতালে। এদের বেশিরভাগই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। এবার ঈদে যে পরিমাণ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে তা গত কয়েক বছরে হয়নি। সারা দেশ থেকেই রেফার্ড রোগীরা আসছে। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই এসব রোগীর চিকিৎসা শুরু করতে হয়। আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর কোনো সঙ্কট নেই, তারা সবাই দক্ষ ও অভিজ্ঞ। 

এটা স্পষ্ট যে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কতটা ভীতিপ্রদ হয়ে উঠেছে। এই দুর্ঘটনায় নিহত এবং আহতদের পরিবার কতটা দুর্বিষহ জীবনের মুখোমুখি তা সহজেই অনুমেয়। অভিজ্ঞ মহল মনে করে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বাড়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হেলমেট ব্যবহার না করা। ট্রাফিক আইন মেনে চলা, হেলমেট ব্যবহার করা, নিয়মনীতি মানাসহ সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। মোটরসাইকেল ৪ চাকার যানবাহনের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ও সহজলভ্য করে মোটরসাইকেলের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে। গণপরিবহনকে শৃঙ্খলায় আনতে হবে। দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। কিন্তু যদি যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে আরও ঝুঁকি বাড়বে। তাই মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল সীমিত করাসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এমনটিই আমাদের কাম্য।

/জেডও

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif

আরও সংবাদ   বিষয়:  সড়ক দুর্ঘটনা   




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]