ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২ ১৭ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

চাটমোহরে বন্যায় তলিয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘা ধানক্ষেত
চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২২ মে, ২০২২, ৩:৫৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 100

পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ও হরিপুর ইউনিয়নে হঠাৎ আসা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘা পাকা বোরো ধান। কৃষকেরা পাকা বোরো ধান পানির নিচে থেকে কাটার চেষ্টা করছেন। তবে শ্রমিক ও নৌকার সংকট থাকায় পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান ঘরে তুলতে পারছে না কৃষক। নৌকার অভাবে পলিথিন পেপারে হাওয়া দিয়ে ভেলা তৈরি করে তাতে ধানের আঁটি সাজিয়ে ধান কিনারায় আনছেন কৃষক। 

সরেজমিন বোয়ালমারি আফ্রারবিল, বড়থল, ছোট থল, বগারনাল বাগকলের নাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ছোট বড় পুরুষ মহিলারা পানিতে ডুবে যাওয়া ধান কাটছেন। পলিথিনের ভেলা বা নৌকায় পানিতে সাঁতরায়ে টেনে শুকনায় আনছে। 

চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের বোয়ালমারি গ্রামের মেছের আলী জানান, কিনু সরকারের স্লুইসগেটের ভাঙা অংশ দিয়ে হঠাৎ বন্যার পানি আসতে থাকে। রাতারাতি কয়েক হাত পানি বৃদ্ধি পেয়ে পাকা ধান ডুবে গেছে। 

তিনি ক্ষোভের সঙ্গে জানান, এমন স্লুইসগেটের প্রয়োজন নাই। 

বোয়ালমারির রেজাউল সরকারের কাজ করা শ্রমিকেরা জানান, তারা ধান কেটে প্রতি মণে ১০ কেজি করে ধান নিচ্ছেন। এখন যারা রোজ চুক্তিতে কাজ করেন তারা প্রতিদিন প্রতিজন ১২ শ টাকা থেকে ১৫ শ টাকা নিচ্ছেন। তারপরও বর্তমানে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে।

বোয়ালমারি গ্রামের নুর মোহাম্মদ এবং নিজাম উদ্দিন জানান, তারা কামলা না পেয়ে নিজেরাই ধান কাটছেন। আজ কাটা না গেলে রাতেই বাকি ধান ডুবে যাবে।

বোয়ালমারি গ্রামের সাইফুল জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছেন। এক বিঘা জমির ধান কাটতে পারলেও বাকি ৫ বিঘা জমির ধান এখন পানির নিচে। 

তিনি আরও জানান, নিজেরাই কাটছেন এবং নৌকার অভাবে পলিথিন-ভেলা বানিয়ে তাতে ধান সাজিয়ে ভাসিয়ে শুকনা জায়গায় আনছেন। 

উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামের সুরুজ আলী পলিথিন ভেলায় ধান ভাসিয়ে আনছিলেন। তার সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, কৃষি অফিসের কেউ তাদের দেখতে আসেন নাই। 

ডুবো ধান কাটায় ব্যস্ত শ্রমিকরা জানান, আফ্রারবিলে পাঁচটি গভীর নলকূপ এবং ২০/২৫টি অগভীর নরকূপে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। ঝাকড়ার বিলের তিনটি গভীর এবং ১০/১৫টি অগভীর নলকূপের আওতায় প্রায় তিন/চার হাজার বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়। রোপণকৃত পাকা ধানের প্রায় ৫০ ভাগ হঠাৎ বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। 

অপরদিকে বিলচলন ইউনিয়নের খলিসাগাড়ি বিলে এবং নিমাইচড়া ইউনিয়নের বিন্যাবাড়ি বিলের ধান কাটাগাঙের বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এ ধান এখনো পুরোপুরি পাকে নাই। তাদের ক্ষতি আরও বেশি। মাঝে মাঝে বৃষ্টির কারণে ডুবো ধান কাটায় বিঘ্ন ঘটছে। এলাকার কৃষকেরা খেয়ে না খেয়ে রাত-দিন ছেলে-মেয়ে বউ-ঝি নিয়ে ডুবো ধান কাটতে বা উদ্ধারে কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাউকে এলাকায় পাওয়া যায়নি।

/জেডও

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif

আরও সংবাদ   বিষয়:  বন্যা   




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]