ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২ ১৭ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

ছোটদের বড় কবি
জহিরুল ইসলাম
প্রকাশ: শনিবার, ২১ মে, ২০২২, ৪:৫৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 242

কবি কাজী নজরুল ইসলাম শিশুদের খুব ভালোবাসতেন। পরিণত বয়সেও তার মধ্যে ছিল শিশুদের মতো সারল্য। তিনি নিজেই বলেছেন, আমি চির শিশু, চির কিশোর। শিশুদের ভালোবাসতেন বলেই তিনি ছোটদের জন্য লিখতে পারতেন সহজ ভাষায় মজার মজার ছড়া, কবিতা ও গান। আজ তারই কয়েকটির সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করিয়ে দেব। 
ভোর হলো দোর খোল
খুকুমণি ওঠো রে
ঐ ডাকে জুঁই শাঁখে
ফুল খুকি ছোট রে।
খুলি হাল তুলি পাল
ঐ তরী চলল
এইবার এইবার
খুকু চোখ খুলল।...
নজরুল ইসলামের এই কবিতাটি পড়েনি বা শোনেনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। তোমরাও পড়েছ নিশ্চয়। আগের দিনের মায়েরা সকালবেলা এই কবিতাটি পড়ে পড়ে তার আদরের ছোট্ট সন্তানটির ঘুম ভাঙাত।
নজরুল ইসলামের আরেকটি শিশুতোষ কবিতা সকাল বেলার পাখি। কবিতাটি এমন- 
আমি হব সকাল বেলার পাখি
সবার আগে কুসুম-বাগে
উঠব আমি ডাকি!
সুয্যি মামা জাগার আগে
উঠব আমি জেগে,
হয়নি সকাল, ঘুমো এখন,
মা বলবেন রেগে।...
এই কবিতাটিতে কিন্তু শিশু নিজেই নিজেই বলছে যে সে সকাল বেলার পাখি হবে এবং সবার আগে সে ঘুম থেকে উঠবে। মা বরং তাকে বলবেন যে এখনও সকাল হয়নি, আরও কিছুক্ষণ ঘুমাও।
কিশোর বয়সে নজরুলের রচিত বাংলা-ইংলিশ মেশানো একটি কমিক গান বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। গানটি এ রকম-
রব না কৈলাসপুরে
আই অ্যাম ক্যালকাটা গোইং।
যত সব ইংলিশ ফ্যাশন
আহা মরি, কি লাইটনিং।
ইংলিশ ফ্যাশন সবি তার
মরি কি সুন্দর বাহার
দেখলে বন্ধু দেয় চেয়ার,
কামঅন ডিয়ার গুড মর্নিং।...
তরুণ বয়সে তিনি ‘মুক্তি’ নামে একটি কবিতা লেখেন। কবিতাটির অংশবিশেষ এ রকম-
রানীগঞ্জের অর্জুনপট্টির বাঁকে,
যেখান দিয়ে নিতুই সাঁঝে ঝাঁকে ঝাঁকে
রাজার বাঁধে জল নিয়ে যায় শহুরে বৌ কলস কাঁখে-
সেই সে বাঁকের শেষে
তিনদিক হতে তিনটে রাস্তা এসে
ত্রিবেণীর ত্রিধারার মতো গেছে একেই মিশে।...
সিয়ারসোল স্কুলে পড়ার সময় নজরুল লেখেন ‘চড়ুই পাখির ছানা’ নামের কবিতা। ছোট্ট চড়ুই ছানার প্রতি তার মায়ের ভালোবাসা ফুটে উঠেছে কবিতাটিতে- 
মস্ত বড় দালান বাড়ির উঁই লাগা ঐ কড়ির ফাঁকে
ছোট একটি চড়াই ছানা কেঁদে ডাকছে মাকে।
‘চু’ ‘চা’ রবের আকুল কাঁদন যাচ্ছিল নে বসন বায়ে।
মায়ের পরান- ভাবলে বুঝি দুষ্টু ছেলে নিচ্ছে ছায়ে।...
শিশুবয়সে সব শিশুই যেমন মায়ের কাছে সবকিছু জানতে চায় নজরুলও তেমনি চেয়েছেন। তবে ছড়ার মাধ্যমে : 
মাগো! আমায় বলতে পারিস
কোথায় ছিলাম আমি
কোন না জানা দেশ থেকে তোর
কোলে এলাম নামি?

এবার একটি কবিতা লেখার পেছনের কাহিনি বলছি শোনো। নজরুল কুমিল্লায় গেছেন বেড়াতে। উঠেছেন ইন্দ্রকুমার সেনগুপ্তের বাড়িতে। তার মিষ্টি মেয়ের নাম অঞ্জলি। একদিন নজরুল বারান্দায় বসে আছেন। হঠাৎ তার চোখ পড়ল অঞ্জলির দিকে। দেখলেন, একটা পেয়ারাগাছের নিচে দাঁড়িয়ে অঞ্জলি কার সঙ্গে যেন কথা বলছে। কিন্তু কাছে গিয়ে গাছে কাউকেই দেখতে পেলেন না। অঞ্জলিকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কার সঙ্গে কথা বলছিলে? অঞ্জলি বলল, ওই দেখো দুষ্টু কাঠবেড়ালি। রোজ রোজ দুষ্টুটা পেয়ারা খেয়ে পালিয়ে যায়। আমাকে একটাও দেয় না। কাঠবেড়ালির প্রতি অঞ্জলির এই আক্ষেপ নজরুলের মনে এতটাই দাগ কাটল যে, তিনি লিখে ফেললেন ‘খুকী ও কাঠবিড়ালি’ নামের কবিতাটি- 
কাঠবেড়ালি! কাঠবেড়ালি! পেয়ারা তুমি খাও?
গুড়-মুড়ি খাও? দুধ-ভাত খাও? বাতাবি নেবু? লাউ?
বেড়াল-বাচ্চা? কুকুর-ছানা? তাও?...
নজরুলের লিচুচোর নামে বিখ্যাত কবিতাটিও তো আমাদের সবার পড়া তাই না? 
বাবুদের তাল-পুকুরে
হাবুদের ডাল-কুকুরে
সে কি বাস করলে তাড়া,
বলি থাম একটু দাঁড়া...
কী, তোমরা পড়োনি কবিতাটি? আবৃত্তির সঙ্গে সঙ্গে অভিনয় করার মতো এমন কবিতা নজরুল ছাড়া আর কে লিখবেন! আর শিশুদের এই গানটি কে লিখেছে জানো? কোন গানটি? ওই যে-
প্রজাপতি প্রজাপতি
কোথা পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা!
টুকটুকে লাল নীল
ঝিলিমিলি আঁকাবাঁকা।...

এটাও কিন্তু আমাদের প্রিয় কবি, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা। কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৫ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন। তোমরা হয়তো প্রশ্ন করতে পারো, নজরুলের বাড়ি তো ভারতে। তা হলে তিনি আমাদের জাতীয় কবি হন কী করে? শোনো তা হলে।

নজরুল যখন জন্মেছেন তখন ভারত আর বাংলাদেশ একই দেশ ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত আর পাকিস্তান ভাগ হয়ে গেলে বাংলাদেশ আর পাকিস্তান মিলে একটি দেশ হয়। ভারত হয় অন্য একটি দেশ। নজরুলের বাড়ি তখন পড়ে ভারতে। তবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবিকে স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। সেদিন কবির সঙ্গে ছিল তার পুরো পরিবার। ধানমন্ডির ১৮ নম্বর সড়কের একটি ভবনে কবিকে রাখা হয় অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে। ১৯৭৫ সালের ২৩ জুলাই তাকে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অসুস্থ কবিকে। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট (১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) মারা যান কাজী নজরুল ইসলাম।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ- দুই বাংলাতেই কবি নজরুলের কবিতা ও গান সমান জনপ্রিয়। তার কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাকে বিদ্রোহী কবি নামে ডাকা হয়। বড়দের জন্য কবিতা ছাড়াও নজরুল ইসলাম অনেক গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ লিখেছেন। তিনি প্রায় ৩ হাজার গান রচনা করেছেন এবং এর মধ্যে বেশিরভাগ গানের সুরও করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে নজরুল একজন বড় কবি ছিলেন। আর ছোটদের জন্য অনেক সুন্দর সুন্দর লেখার জন্য আমরা তাকে ছোটদের বড় কবিও বলতে পারি।

/আরএ

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif

আরও সংবাদ   বিষয়:  কাজী নজরুল ইসলাম  




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]