ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২ ১৭ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

স্বপ্নের পদ্মা সেতু নিয়ে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ মে, ২০২২, ১০:০২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 1194

কোটি কোটি বাঙালির স্বপ্নের অবকাঠামো পদ্মা সেতু। একসময় বাংলাদেশিদের কাছে যা স্বপ্ন ছিল, আজ তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান। দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু ঘিরে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নপূরণ হতে চলছে। মানুষের ভাগ্যবদলে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে সেতুটি। খুলছে অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের দ্বার। আরও সহজ হবে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির চাকা ঘোরার পাশাপাশি বাড়বে কর্মসংস্থান। এ অঞ্চল হবে দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোন। পদ্মা সেতু ঘিরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা বাড়তে শুরু করেছে। স্বপ্নের পদ্মাসেতু নিয়ে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনাগুলো তুলে ধরছেন হাবিবুল হাসান রিজভী।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু। যদিও এখন এটি আর স্বপ্ন নয়। শিগগিরই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে এই দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নের প্রকল্পের যা এখন বাস্তব। বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন ও গ্রামীণ উন্নয়নশীল এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জীবনমানের উন্নয়ন ও জ্ঞান-মনোভাবের ব্যাপক পরিবর্তনে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির বিকল্প নেই। স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হওয়ার মাধ্যমে এর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হবে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার। দক্ষিণবঙ্গে শিল্পায়নের গতি ব্যাপক বেড়ে যাবে। ফলে, বাংলাদেশ এর অভ্যন্তরে বাণিজ্য ঘাটতি যেমন কমবে ঠিক তেমনি শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষ এগিয়ে যাবে।

মো. মেহেদী হাসান নিলয়
ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, (২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ)।

পদ্মা সেতু; পুরো বাংলাদেশের বিশেষত দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য রীতিমতো একটি স্বপ্নের নাম। সেতুটি সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে, তা হবে নদীর দুই পাড়ের মানুষের মাঝে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনীতির এক ব্যাপক অগ্রগতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নের এই মেগাপ্রকল্পটি তাই আমাদের জন্য বস্তুত গর্বেরই বিষয়। ১৯৯৮ সালে উদ্বোধন হওয়া যমুনা বহুমুখী/ বঙ্গবন্ধু সেতু যেমনভাবে উত্তরাঞ্চলের সাথে পুরো দেশের যোগাযোগ ও বাণিজ্য ব্যবস্থার উৎকর্ষ সাধন করেছে, ঠিক তেমনি আশা করা যায় পদ্মা সেতুও আরো বিস্তৃতভাবে দেশের সামগ্রিক উন্নতি সাধন করবে। ফেরি এবং লঞ্চে যাতায়াতের দুর্ভোগ কমিয়ে পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থার ইতিহাসে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে, সেই সাথে টোলসহ যাতায়াতের সার্বিক খরচ জনসাধারণের হাতের নাগালে থাকবে- এই প্রত্যাশায় পদ্মা সেতুর আগামীর জন্য রইলো শুভকামনা। 

মোছা: ইসরাত জাহান রিফা
অর্থনীতি বিভাগ, ২য় বর্ষ, ১ম সেমিস্টার।

একটি দেশের সামগ্রিক উন্নতি অনেকাংশে নির্ভর করে সেই দেশের যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর। স্বপ্নের পদ্মা সেতু উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের আরও একটি বড় মাইলফলক অর্জন। একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আমি আসলেই গর্ব বোধ করছি আমাদের এই অর্জনে। বিশেষ করে, প্রথম থেকেই ফাউন্ডেশন ডিজাইন থেকে শুরু করে প্রতিটি প্রসেসই ছিল অনেক চ্যালেঞ্জিং। আর এই স্বপ্নের সেতু বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে, আমরা সিভিল ইঞ্জিনিয়াররাও নতুন অনেক টেকনোলজির সাথে পরিচিত হতে পেরেছি এবং আশা রাখি এসব অভিজ্ঞতা দিয়ে সামনেও আমরা আরও নতুন নতুন স্ট্রাকচার ডেভেলপ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

মো. সাফায়েত ইসলাম বাপ্পি
মাস্টার্স ২য় সেমিস্টার, সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।

সম্প্রতি নির্মিত হলো দেশের সর্ববৃহৎ এবং আমাদের স্বপ্নের সেতু পদ্মা সেতু। যা নিয়ে আমার মত সাধারণ শিক্ষার্থীরা সত্যিই দেশের সরকারকে নিয়ে গর্বিত এবং কৃতজ্ঞ। এই লৌহজং, মুন্সিগঞ্জকে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর এর সাথে সংযুক্ত করবে এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সাথে সংযুক্ত করবে। যার ফলে সেতুটি আমাদের যোগাযোগ, অর্থনীতি ও শিল্পায়নে অনেকাংশে অবদান রাখবে। ডাবল ডেকের এই সেতুটি প্রায় ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১৮.১০ মিটার চওড়া। যার উপরের ডেকে রয়েছে চার লেনের হাইওয়ে এবং নিচের ডেকে একটি রেললাইন। আরও রয়েছে গ্যাস ট্রান্সমিশন পাইপলাইন, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল এবং পাওয়ার ট্রান্সমিশন লাইন। আমি মনে করি স্বপ্নের পদ্মা সেতুর মাধ্যমে আমাদের দেশ উন্নয়নের একটি নতুন সূচনা সৃষ্টি করেছে, যার ধারায় আমরা আরও এগিয়ে যাবো বহুদূর। 

সারা এলিন গীতি
চতুর্থ বর্ষ প্রথম সেমিস্টার, ফুড ইন্জিনিয়ারিং এন্ড টি টেকনোলজি বিভাগ।

দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশের যুগান্তকারী স্থাপনা পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যা ইতোমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। দেশের সফলতম এই ইতিহাসের সাক্ষী হওয়া অত্যন্ত আনন্দের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে আজ দেশবাসী সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে দেশের উন্নয়ন ভোগ করছে, যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু। পদ্মাসেতুর মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ একটি সফল ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে অনন্য পরিচিতি লাভ করেছে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার পথে বাংলাদেশ বিশাল একটি ধাপ অতিক্রম করলো।

জিষ্ণু চক্রবর্তী
তৃতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টার, বাংলা বিভাগ।

/এসকে

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif

আরও সংবাদ   বিষয়:  পদ্মা সেতু  




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]