ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ জুন ২০২২ ১১ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার রোববার ২৬ জুন ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

নিষিদ্ধ নজরুল
ড. সরকার আবদুল মান্নান
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ মে, ২০২২, ১:০৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 145

ব্রিটিশ শাসনের শেষ শতকের শেষার্ধ। এর আগেই শিক্ষিত, সংস্কৃতি ও রাজনীতিমনস্ক, মুক্তিকামী বিপুল এক শ্রেণির অভ্যুদয় ঘটেছে ভারতবর্ষ জুড়ে। স্বাধীনতার জন্য অসংখ্য সংগঠন, সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং, বিপ্লব-বিদ্রোহ, গুপ্ত হামলা এবং একই সঙ্গে ব্রিটিশবিরোধী লেখালেখির এক জগৎ তৈরি হয়েছে সর্বত্র। 

এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে শাসক শ্রেণির নিপীড়ন-নির্যাতন, জেলজুলুম এবং লেখকদের রচনা নিষিদ্ধ করার মতো বাকস্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। ব্যক্তি লেখককেও সম্মুখীন হতে হচ্ছিল রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার এবং যেতে হচ্ছিল জেলে। সেই অগ্নিযুগে ১৯৯৯ সালে হতদরিদ্র এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন চিরকালের প্রেম ও দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশব থেকে ছন্নছাড়া এক জীবন আর সৃষ্টির দায় নিয়ে বেড়ে ওঠেন নজরুল। আর ভেতরে পুষতে থাকেন দ্রোহের আগুন। ব্রিটিশ শাসকদের অন্যায়-অবিচার, নিপীড়ন-নির্যাতন ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে তার ছিল আজন্মের ক্ষোভ। দারিদ্র্যের কশাঘাতে মুমূর্ষু মানুষের আর্তনাদে তার মানবপ্রেমী মন ডুকরে কেঁদে উঠত। তিনি যন্ত্রণায় নীল হয়ে উঠতেন। 

এই তীব্র যন্ত্রণা আর গভীর সংবেদনাকে আশ্রয় করে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো বেরিয়ে আসে তার সৃষ্টির জগৎ। তিনি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে চেয়েছেন সব অন্যায়-অবিচার এবং মানুষে মানুষে বিভেদের নাগপাশ। প্রাপ্তি ও হারানোর ঊর্ধ্বে চিরকালের প্রেম ও দ্রোহের এই মানুষটি কাউকে বিন্দুমাত্র পরোয়া না করে সত্য ও সুন্দরের পক্ষে কলম ধরেছিলেন। অনিবার্যভাবে তা শাসক শ্রেণিকে ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলে, কেঁপে ওঠে তাদের ক্ষমতার মসনদ এবং কবি ও তার সৃষ্টির ওপর নেমে আসে খড়্গ। নিষিদ্ধ হতে থাকে তার গ্রন্থাদি এবং তাকেও পোরা হয় জেলে। ১৯২২ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত তার পাঁচটি বই বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং বাজেয়াপ্ত না হলেও দেশদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত হয় তার আরও কিছু বই।

১৯২২ সালে নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রকাশিত হয়। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এমন উচ্চকণ্ঠ ও আত্মপরিচয়বাহী স্বাধীনতাঅন্বেষী কবিতা দ্বিতীয়টি নেই। এই কবিতা প্রকাশের পর প্রায় রাতারাতি নজরুল মাত্র ২১ বছর বয়সে বাংলা ভাষাভাষী লেখক-পাঠকদের কাছে বিপুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এবং অন্যদিকে শাসকগোষ্ঠীর চক্ষুশূলে পরিণত হন।

১৯২০ সালের মে মাস থেকে ১৯২১ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সান্ধ্য দৈনিক ‘নবযুগ’ পত্রিকায় সম্পাদকীয় হিসেবে রচিত প্রবন্ধের সঙ্কলনটির নাম যুগবাণী। সঙ্কলনটি প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৯২২ সালের ২৩ নভেম্বর ১৬৬৬১পি নম্বর গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইংরেজ সরকার ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারায় বইটি বাজেয়াপ্ত করে। ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনগুলোতে নজরুলের যুগবাণী নামে মুদ্রিত প্রবন্ধগুলো ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এবং এ দেশের মানুষের শৃঙ্খলমুক্তি ও স্বাধীনতার পক্ষে জ্বালাময়ী ভাষায় আহ্বান জানানো হয়। 

ফলে তৎকালীন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে যুগবাণীকে একটি ভয়ঙ্কর বই হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়, লেখক বইটির মাধ্যমে উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রচার করছেন। ‘ক্রীতদাস মানসিকতার’ ভারতীয় জনগণকে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে শাসনভার দখলের মন্ত্রণা জোগাচ্ছেন। প্রবন্ধের কিছু অংশ এ রকম : ‘এই সেদিন জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হইয়া গেল, যেখানে আমাদের ভাইরা নিজের বুকের রক্ত দিয়া আমাদিগকে এমন উদ্বুদ্ধ করিয়া গেল, সেই জালিয়ানওয়ালাবাগের নিহত সব হতভাগ্যেরই স্মৃতিস্তম্ভ বেদনা-শেলের মতো আমাদের সামনে জাগিয়া থাক, ইহা খুব ভালো কথা, কিন্তু সেই সঙ্গে তাহাদেরই দুশমন ডায়ারকে বাদ দিলে চলিবে না। ইহার যে স্মৃতিস্তম্ভ খাড়া করা হইবে, তাহার চূড়া হইবে এত উচ্চ যে ভারতের যেকোনো প্রান্ত হইতে তা যেন স্পষ্ট মূর্ত হইয়া চোখের সামনে জাগিয়া ওঠে। এ-ডায়ারকে ভুলিব না, আমাদের মুমূর্ষু জাতিকে চিরসজাগ রাখিতে যুগে যুগে এমনই জল্লাদ-কসাইয়ের আবির্ভাব মস্ত বড়ো মঙ্গলের কথা।’ এই তীব্র অভিযোগ ও জাগরণের বাণী শাসকগোষ্ঠী সহ্য করতে পারেনি। সুতরাং বইটি বাজেয়াপ্ত করে। 

কাজী নজরুল ইসলামেন নিষিদ্ধ হওয়া দ্বিতীয় গ্রন্থ বিষের বাঁশি। ১৯২৪ সালের ২২ অক্টোবর এই কাব্যগ্রন্থটি নিষিদ্ধ হয়। তৎকালীন বেঙ্গল লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক অক্ষয়কুমার দত্তগুপ্ত পাবলিক ইন্সট্রাকশন বিভাগকে চিঠি লিখে জানান, ‘লেখক বিষের বাঁশির মাধ্যমে তার বিপ্লবী অনুভূতির প্রকাশ করেছেন এবং তরুণদের বিদ্রোহ করতে এবং আইন অমান্য করতে প্ররোচনা দিচ্ছেন।’ সুতরাং তিনি অপরাধ তদন্ত বিভাগের স্পেশাল ব্রাঞ্চকে প্রকাশনাটির দিকে দৃষ্টি দিতে সুপারিশ করেন। এই বই প্রসঙ্গে অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত লেখেন, ‘এই বিষের বাঁশির বিষ জুগিয়েছেন আমার নিপীড়িতা দেশমাতা আর আমার উপর বিধাতার সকল রকম আঘাতের অত্যাচার।’ সেই সময় প্রবাসীর মতো অভিজাত পত্রিকাও বিষের বাঁশি কাব্যগ্রন্থের প্রশংসা করে। সেখানে লেখা হয়, ‘কবিতাগুলি যেন আগ্নেয়গিরি, প্লাবন ও ঝড়ে প্রচণ্ড রুদ্ররূপ ধরিয়া বিদ্রোহী কবির মর্মজ্বালা প্রকটিত করিয়াছে। জাতির এই দুর্দিনে মুমূর্ষু নিপীড়িত দেশবাসীকে মৃত্যুঞ্জয়ী নবীন চেতনায় উদ্বুদ্ধ করিবে।’ সুতরাং কাব্যগ্রন্থটি নিষিদ্ধ হওয়া ছিল স্বাভাবিক। এর ফলে তরুণদের মধ্যে এই গ্রন্থটির প্রতি প্রবল আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। বলা যায়, বিষের বাঁশির সুরে দেশ তখন মাতোয়ারা হয়ে উঠেছিল।

১৯২৪ সালে ১১ নভেম্বর নজরুলের আরও একটি কাব্যগ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়। এই কাব্যগ্রন্থটি ভাঙার গান। বিখ্যাত ‘কারার ঐ লৌহকপাট’ শীর্ষক কবিতাটি এই গ্রন্থে স্থান পেয়েছিল। এ ছাড়া অন্যান্য গান ও কবিতাগুলোর মধ্যেও মুক্তির তীব্র বাসনা প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে অনিবার্যভাবেই গ্রন্থটি রাজরোষে পতিত হয়।

এরপর সরকারি রোষানলের শিকার হয় কাব্যগ্রন্থ প্রলয় শিখা। কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৩০ সালের ১৭ মার্চ। ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১২৪ (এ) এবং ১৫৩ (এ) ধারা অনুসারে গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করা হয়। ভারতবর্ষে বিপ্লবোন্মুখ অগ্নিঝরা সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল এই গ্রন্থটি এবং বাংলাদেশে তরুণ মনে প্রলয় সৃষ্টি করেছিল। এই সময় কবিপুত্র বুলবুল মারা যায়। সেই গভীর বেদনার দিনগুলোতে তার হৃদয়ের দাহ যেন শতগুণ বেড়ে যায়। তিনি প্রলয় শিখা কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি পঙ্ক্তিতে উদ্গারণ করেন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত। কোনো আগ্নেয়াস্ত্রের ক্ষমতা এতটা প্রলয়ঙ্করী হতে পারে না। সুতরাং তৎকালীন পাবলিক প্রসিকিউটর রায়বাহাদুর তারকনাথ সাধু প্রলয় শিখা সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডেপুটি কমিশনারকে জানান যে, বইটি ভারতীয় পেনাল কোডের ১৫৩ এ ও ১২৪ এ ধারা ভঙ্গ করেছে। তিনি বইটি অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী বইটি নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এই গ্রন্থের জন্য কবির বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছিল।

প্রলয় শিখা নিষিদ্ধ হওয়ার এক মাস পরে নিষিদ্ধ হয় গানের বই চন্দবিন্দু। ১৪ অক্টোবর ১৯৩১ সালে বাজেয়াপ্তের গেজেট ঘোষণা করা হয়। ব্রিটিশ শাসনকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে রচিত এই গানগুলো বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। চন্দ্রবিন্দুর দুটি কবিতা : ‘মসজিদ পানে ছুটিলেন মিঞা মন্দির পানে হিন্দু,/আকাশে উঠিলো চির জিজ্ঞাসা করুণ চন্দ্রবিন্দু।’ এবং ‘কাফ্রি চেহারা ইংরিজি দাঁত,/টাই বাঁধে পিছে কাছাতে/ভীষণ বম্বু চাষ করে ওরা অস্ত্র আইন বাঁচাতে।’ ইংরেজ শাসনামলেই বইটি থেকে নিষেধাজ্ঞার খড়্গ উঠে যায়।

 কাজী নজরুল ইসলামের যুগবাণী, বিষের বাঁশি, ভাঙ্গার গান, প্রলয় শিখা ও চন্দ্রবিন্দু- এ পাঁচটি বই ছাড়াও অগ্নিবীণা , ফণীমনসা , সঞ্চিতা , সর্বহারা , রুদ্রমঙ্গল ( প্রভৃতি লেখা শাসকদের রোষানলে পড়ে। কোনো কোনো বই বাজার থেকে উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে পুলিশ। কোনোটির বিরুদ্ধে অভিযোগের নথি খোলা হয়েছে। কোনোটির বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ করার পক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর থেকে অভিযোগ গিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ হয়নি। তবে প্রচারে বাধা প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, নজরুলের এই সৃষ্টির বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ দাখিল করেছেন তারা প্রায় প্রত্যেকেই সরকারি কর্মচারী এবং বাঙালি।

ধূমকেতু পত্রিকায় ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ নামে কবিতা ছাপার অপরাধে গ্রেফতার হয়েছিলেন নজরুল। কবিতাটিতে একদিকে অসহযোগ আন্দোলনের কতিপয় নেতার বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা উপস্থাপন করা হয় এবং অন্যদিকে স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করছেন তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়। তিনি হিন্দু দেবী দুর্গাকে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে রণক্ষেত্রে এসে ভারতবাসীকে জাগ্রত করা এবং শোষকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আহ্বান জানান। কবি বলেন, ‘আর কতকাল থাকবি বেটি মাটির ঢেলার মূর্তি-আড়াল?/ স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।’ তার এই কবিতাটিকে শাসকগোষ্ঠী সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে গণ্য করে। তারা ধূূমকেতুর ওই সংখ্যাটি বাজেয়াপ্ত করেই ক্ষান্ত হয়নি। অধিকন্তু নজরুলকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে। পরবর্তী সময়ে কলকাতায় নিয়ে বিচারক সুইনহোর আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক নজরুলকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। দণ্ডে তাকে সাধারণ কয়েদি হিসেবে গণ্য করার আদেশ দেওয়া হয়। এই বিচারকার্য পরিচালনার সময় নজরুল আত্মপক্ষক্ষসমর্থনে বক্তব্য লেখেন, যা ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ হিসেবে ১৯২৩ সালে ধূমকেতু পত্রিকায় মুদ্রিত হয়।

বিচারক সুইনহো নিজে কবি ছিলেন। তার পরও তিনি নজরুলকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এই দণ্ড নজরুলকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি কারারুদ্ধ আবস্থায় তার প্রতি জেল কর্তৃপক্ষের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এবং অনশন শুরু করেন। তার জীবন সঙ্কটাপন্ন দেখে সুধিজন তাকে অনশন ভাঙার জন্য নানাভাবে অনুরোধ করেন। কবির জীবন বিপন্ন দেখে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও অনশন ভাঙার জন্য তারবার্তা পাঠান। ওই তারবার্তাটি কবিকে না দিয়ে ফেরত দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪০ দিন অনশন করার পর তার ধর্মমাতা বিরজাসুন্দরীর অনুরোধে তিনি অনশন ভাঙেন। 

বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুলের আগমন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক উত্তুঙ্গ সময়ে। সেই বিস্ময়কর সময়ের পটভূমিতে তিনি যে কাব্যজীবন যাপন করেছেন তার মূলে ছিল ব্রিটিশবিরোধী আদর্শের শিল্পমাত্র। তার উল্লেখযোগ্য কবিতায়, গানে ও প্রবন্ধে তিনি একদিকে শাসক শ্রেণির অত্যাচার-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং অন্যদিকে ধর্ম, জাতপাত ও ধনী-দরিদ্রের যে শ্রেণিবিভক্ত সমাজ তার মূলে আঘাত হানার চেষ্টা করেছেন। ফলে তিনি যে শুধু রাজশক্তির কোপানলে ছিলেন তা নয়, তিনি সমাজের শোষক শ্রেণি ও ভণ্ড ধার্মিকদেরও রুদ্ররোষের শিকার হয়েছিলেন। আর সাহিত্য চর্চার এই অনন্য ধারা সৃষ্টির জন্য তিনি বাংলা সাহিত্যে চির অমর হয়ে আছেন।

/আরএ

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif

আরও সংবাদ   বিষয়:  কাজী নজরুল ইসলাম  




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]