ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২ ১৭ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণের ‘নিশ্চয়তা’ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে তারা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২, ১২:৫৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 121

হিডেন স্পাই ওয়্যারলেস কিট ব্যবহার করে সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণের নিশ্চয়তা দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া সিন্ডিকেটের মূলহোতা ইকবাল ও তার অন্যতম ৩ সহযোগীকে বেশকিছু ডিভাইস ও আলামতসহ রাজধানী ও তার আশেপাশের এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি/সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সরকারি/বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সুকৌশলে ফাঁস করে হিডেন স্পাই ওয়্যারলেস কিট ব্যবহার করে সরকারি/বেসরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণের নিশ্চয়তা দিয়ে চাকরি প্রার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে শর্তসাপেক্ষে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ২০ মে অনুষ্ঠিতব্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা রয়েছে বিধায় প্রতারক চক্রগুলো তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে মর্মে র‍্যাব গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারে। এসকল অসাধু সংঘবদ্ধ চক্রকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে র‍্যাব তাদের গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৮ মে) দিনগত তারিখ রাত ১টায় র‍্যাব-২ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানী ও তার আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা হতে আসন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূলহোতা মো. ইকবাল হোসেন (৪২), রমিজ মৃধা (৩০), মো. নজরুল ইসলাম (৫০), মো. মোদাচ্ছের হোসেনকে (৬২) গ্রেফতার করে র‍্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা এই প্রতারণার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দেয়।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে তারা প্রথমে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগ পরীক্ষা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে ওই নিয়োগ পরীক্ষার পরীক্ষা নেওয়ার স্থান ও পরীক্ষার গার্ড সম্পর্কে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে। এ সময় চক্রের অন্যান্য সদস্যরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি বা বেসরকারি চাকরি প্রত্যাশীদের খুঁজে বের করে ১০-১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষায় পাস ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তার প্রলোভন দেখায়। পরবর্তীতে আগ্রহী পরীক্ষার্থীদের কাছে উদ্ধারকৃত ডিজিটাল ডিভাইসগুলো প্রদান করে এর ব্যবহার বিধি প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রাথমিকভাবে ১/২ দুই লক্ষ টাকা জামানত হিসেবে গ্রহণ করত। অবশিষ্ট টাকা চাকরি পাওয়ার পরে পরিশোধ করবে মর্মে চুক্তি করত। এভাবে তারা বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা আরও জানায়, প্রতারণার কৌশল হিসেবে বিদেশ হতে আনা এই ডিজিটাল ডিভাইসগুলো মূলত দুইটি অংশে বিভক্ত। ডিভাইসটির একটি অংশ ইয়ার পিছ তারা পরীক্ষার্থীদের কানের ভিতর এবং অটোমেটিক কল রিসিভ হওয়া সীম লাগানো অপর অংশটি শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে তাদের পরীক্ষার হলে প্রবেশ করাত। পরবর্তীতে পরীক্ষার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ছবি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের নিকট পাঠাত। প্রতারক চক্রটি প্রশ্নপত্রের উত্তর দেয়ার জন্য পূর্ব থেকেই মেধাবী শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি টিম প্রস্তুত রাখত। অতঃপর এই চক্রের সদস্যরা পরীক্ষার হল থেকে পাঠানো প্রশ্নপত্রের উত্তরসমূহ মেধাবী শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত টিমের মাধ্যমে খুঁজে বের করে চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীদের বলে দিত।

প্রতারক চক্রটির মূলহোতা ইকবাল হোসেন ২০০৮ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়। সে নিজ এলাকায় শিক্ষকতা করার সময় ২০১৫ সালে একই এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আলতাফ হোসেনের সাথে পরিচয়ের সূত্রে তার কাছ থেকে সরকারি/বেসরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণের নিশ্চয়তা দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি রপ্ত করে। পরবর্তীতে করোনা মহামারির সময় আলতাফ হোসেন মারা গেলে গ্রেফতারকৃত ইকবাল হোসেন এই প্রতারক চক্রটি পরিচালনা শুরু করে। তার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা ও বেশ কয়েকটি সাধরণ ডাইরি রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত রমিজ এই প্রতারক চক্রের অন্যতম সহযোগী এবং একটি হত্যা মামলার পলাতক আসামি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে থাকাকালীন ২০২০ সালে ইকবালের তার সাথে পরিচয় হয়। সে সময় রমিজ তার আর্থিক সংকটের কথা ইকবালকে খুলে বলে এবং বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস সম্পর্কে ভালো অভিজ্ঞতা আছে বলে জানায়। পরবর্তীতে ইকবাল তাকে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় সহযোগিতা করার কথা বলে তাকে এই প্রতারক চক্রের সদস্য করে নেয়। ইকবালের ডিজিটাল ডিভাইস সম্পর্কে জ্ঞান কম থাকায় সে রমিজকে দিয়ে এই কাজ সম্পাদন করাত।  

গ্রেফতারকৃত রমিজ জানায়, যখন কোন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা হতো তারা তখন পরীক্ষার্থীদেরকে তাদের ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে পরস্পর সংযুক্ত হয়ে বাহিরে অবস্থান করত এবং রমিজের পরিচিত কিছু মেধাবী ছাত্রের মাধ্যমে দ্রুততার সাথে উত্তরপত্র তৈরি করে পরীক্ষার হলে ঐসব ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে জানিয়ে দিত।

গ্রেফতারকৃত নজরুল ১৯৯৪ সালে সমাজসেবা অধিদফতরে অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরিতে যোগদান করে। নজরুল এবং রমিজের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় তারা একে অপরের পূর্বপরিচিত ছিল। চাকরিসূত্রে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে নজরুলের। এই সুযোগে সে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সাধারণ চাকরি প্রার্থীদেরকে প্রতারক ইকবাল ও রমিজ এর সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিত। এছাড়ও, সে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার সময়, স্থান ও পরীক্ষায় গার্ড খুঁজে বের করার দায়িত্ব পালন করত।

গ্রেফতারকৃত মোদাচ্ছের মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার সমাজসেবা কার্যালয় হতে সমাজসেবাকর্মী হিসেবে ২০১৯ সালে অবসর গ্রহণ করে। সে ইকবালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করত। এই চক্রে সে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সাধারণ চাকরি প্রার্থীদের খুঁজে বের করে প্রতারক ইকবাল ও রমিজের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিত।

এফএইচ

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif



http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]