ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ জুন ২০২২ ১১ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার রোববার ২৬ জুন ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

ভারতে পিকে হালদারের গডফাদাররা
আলমগীর হোসেন ঢাকা ও মুকুল বসু কলকাতা
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মে, ২০২২, ৫:০৫ এএম আপডেট: ২০.০৫.২০২২ ৩:০৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 270

বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিভিন্ন দেশে পাচারে অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার ওরফে পিকে হালদার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতারের ঘটনায় গোটা কলকাতায় বিশেষ করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভারতের এই অঞ্চলে পিকে হালদারের অঢেল সম্পদ তৈরির সুযোগ, নাম পাল্টে শিবশঙ্কর হালদার নামে দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়াসহ তার অবৈধ কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে সেখানকার স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী বা ‘গডফাদারদের’ নানা ভূমিকার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে উত্তর চব্বিশপরগনার তৃণমূলের সাবেক বিধায়ক ধীমান রায়ের বিরুদ্ধে পিকে হালদার ও তার সহযোগী সুকুমার মৃধাকে নানাভাবে শেল্টার দেওয়ার বিষয়ে গুঞ্জন রয়েছে। বেরিয়ে আসছে একের পর এক প্রভাবশালীদের নাম। যারা বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পিকে হালদারকে শিবশঙ্কর হালদারে পরিণত হতে সাহায্য করেছেন। এমনকি পিকের অবৈধ অঢেল সম্পদ গড়া এবং অর্থ গচ্ছিত করার ক্ষেত্রেও তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকার কথা শোনা যাচ্ছে।

এদিকে পিকে হালদার ও তার পাঁচ সহযোগীকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গতকাল রোববার সকালে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশপরগনা জেলার আদালত তাদের এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরই মধ্যে ইডিসহ ভারতীয় বিভিন্ন সংস্থা পিকে হালদার এবং তার সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি জেরার মুখে পড়েছেন পিকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই বেকায়দায় পড়ে হাউমাউ করে কেঁদেছেন তিনি।

কলকাতার নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পিকে হালদারসহ ছয়জনকে গ্রেফতারের পর সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তাদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ইডি কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্যও পেয়েছে। বেরিয়ে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন রাঘববোয়ালের নাম। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংক্রেসের কয়েকজন নেতার নাম। তদন্তের স্বার্থে এখনই কারও নাম প্রকাশ করছে না ইডি। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এসব ব্যক্তির মধ্যে অন্যতম একজন তৃণমূল নেতা ধীমান রায়। ইডির প্রাথমিক তদন্তে প্রথমেই তার নাম উঠে আসে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। 

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশপরগনার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় এবং তাদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার মাধ্যমেই বাংলাদেশ সীমান্তের এত কাছে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন পিকে হালদার ও তার সহযোগীরা। প্রায় ২০ বছর ধরে অশোকনগর এলাকায় যাতায়াত ও বসবাস করছিলেন তিনি। এখানকার মানুষের কাছে পিকে হালদার চিংড়ি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাকে স্থানীয়ভাবে শেল্টার দিতেন আরেক মাছ ব্যবসায়ী সুকুমার মৃধা। এ কারণে ওই এলাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাগানবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও অঢেল টাকার বিষয়টি বোঝা গেলেও কেউ সন্দেহ করেনি।

এমন অভিযোগ নিয়ে গতকাল মুখ খুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী ও হাবড়ার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তিনি বলেছেন, আইন আইনের পথে চলবে। কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। যে বা যারা এ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে। যদিও প্রশান্ত কুমার হালদার বা তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় আধার কার্ড, প্যানকার্ড ইত্যাদি গ্রহণের যে অভিযোগ উঠেছে তা মানতে চাননি বনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত না হয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারি না। কারণ আমি একজন মন্ত্রী। তবে তাদের যদি কেউ ভারতীয় পরিচয়পত্র করে দেওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা পাইয়ে দিয়ে থাকে, সেটি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে শনিবার গ্রেফতারের পর থেকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন পিকে হালদার। বারবার তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ইডি সূত্রে জানা গেছে, পিকে হালদার ইডি কর্মকর্তাদের কাছে দাবি করেছেন, তিনি ভুলপথে পরিচালিত হয়েছিলেন। বিশেষ করে তার ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজর বলে পরিচিত সুকুমার মৃধার কারণেই তিনি ভুল পথে পা বাড়ান। ইডি সূত্রে আরও জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশপরগনা জেলার অশোকনগর, রাজারহাট-নিউটাউন, দক্ষিণ চব্বিশপরগনার ভাঙ্গড়সহ বেশ কিছু জায়গায় পিকে হালদারের বিপুল সম্পত্তির হদিস পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মূলত বাংলাদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমেই পাচার করা হয়েছিল। কাদের মাধ্যমে এই অর্থ ভারতে নিয়ে আসা হয়েছে এবং সেই অর্থ লিকুইড মানি নাকি সোনার মাধ্যমে পাচার করা হয়েছিল সে বিষয়টিও নজরে রাখছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। ইডি কর্মকর্তারা পিকে হালদারের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে ভারতে নেপথ্যের গডফাদার কে বা কারা তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।


http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif



http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]