ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২ ১৭ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার শুক্রবার ১ জুলাই ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

সাক্ষাৎকারে পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিম
অটিস্টিক শিশুদের সম্পদে পরিণত করতে হবে
গোলাম মোস্তফা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ, ২০২২, ৬:১৪ পিএম আপডেট: ২৬.০৩.২০২২ ৩:৪৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 258

পুষ্টি ও খাদ্য বিশেষজ্ঞ সামিয়া তাসনিম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল পিএইচডি প্রোগ্রামে পড়াশোনা করছেন এই পুষ্টিবিদ। দীর্ঘদিন ধরে শিশুসহ নানা বয়সের মানুষকে খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি এনজিওতে কাজ করেন অটিস্টিক শিশুদের নিয়েও। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিষয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখিও করেন। এ ছাড়া ২০১৪ সাল থেকে ল্যাবএইড মিরপুর ১ নম্বর শাখা, গুলশান ও বনানীর প্রেসক্রিপশন পয়েন্টের চেম্বারেও রোগী দেখেন নিয়মিত। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, ভেজাল খাদ্যে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা, ডায়েট সীমিত রাখা, অতিরিক্ত ওজন, কম ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং অটিস্টিক শিশুদের নিউট্রিশন কেমন হবে এবং তাদের অবহেলা নয়; বরং সঠিক পরিচর্যাসহ এমন নানা বিষয়ে সময়ের আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সময়ের আলোর প্রতিবেদক গোলাম মোস্তফা

সময়ের আলো : শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং মানসিক বিকাশে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে করণীয় কী?

সামিয়া তাসনিম : আমাদের দেশে পুষ্টির অভাবে অনেক ধরনের সমস্যা হচ্ছে। যেমন গ্রামের বাচ্চা পুষ্টির অভাবে নানা ধরনের ডিজিজে ভুগছে। একজন গর্ভবতী মাও অপুষ্টিতে ভুগছেন এবং সন্তান জন্ম দিচ্ছেন। তবে শহরে এর ব্যতিক্রম হচ্ছে। অনেক বেশি রিচফুল এবং ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়ায় ওজন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এজন্য ডায়াবেটিস ও ব্লাডপেসারসহ নানা ধরনের রোগ দেখা দিচ্ছে। শিশুদের জন্য আমাদের সবারই কম-বেশি করণীয় আছে। কেননা শুরু হয় মা ও পরিবারকে দিয়ে। কারণ প্রত্যেক শিশুর ২৫ শতাংশ ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট মায়ের গর্ভে হয়ে থাকে। এ সময়টা খুব সেনসেটিভ। তখন মায়ের প্রোপার নিউট্রেশনটা ঠিক রাখা খুব জরুরি। এটার জন্য পরিবারের সদস্যকে সাপোর্ট দিতে হবে। সেই জায়গাটায় অনেক ভুল হয়ে কিংবা মিসগাইড হয়ে যায়। কারণ আমাদের অনেক কুসংস্কার রয়েছে। ফলে আমাদের দেশে অনেক বাচ্চা অপুষ্টিতে জন্মগ্রহণ করছে, যা জাতির জন্য হুমকিস্বরূপ। তা ছাড়া বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির একটি রেশিউ আছে। তবে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি নিয়ে সরকার এবং বেসরকারি পর্যায়ে অনেক কাজ হচ্ছে। আমরা যারা পুষ্টিবিদ আছি তাদেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। সেই জায়গায় বলব, সবাই যাতে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে, পুষ্টি সম্পর্কে মানুষ যাতে জানে সেজন্য সবাইকে আরও বেশি কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশের অনেক শিশুই পুষ্টিহীনতায় জন্ম নেয় এবং অপুষ্টিতে ভোগেÑ এর কারণ কী? কীভাবে এ থেকে আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি?

সামিয়া তাসনিম : আমাদের দেশে অনেক শিশুই পুষ্টিহীনতায় জন্ম নেয়। এর কারণ মূল হলো আমরা গর্ভবতী মায়ের পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারছি না। অনেক ভ্রান্ত ধারণার কারণে অনেক খাবার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এমনকি আনহেলদি খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। তাই মা যেমন সঠিক পুষ্টি পাচ্ছে না, অন্যদিকে সন্তানও অপুষ্টি নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। এতে করে মায়ের স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। মা যেসব খাবার গ্রহণ করেন তার ওপর নির্ভর করে শিশুটি কীভাবে বেড়ে উঠবে। এক্ষেত্রে অনেকগুলো ব্যাপার কাজ করে। যেমনÑ মায়ের সঙ্গে শিশুটির পুষ্টির সংযোগটা থাকে নার্ভে। নার্ভ সিস্টেম যত ভালো কাজ করবে শিশুর পুষ্টি উপাদান তত ভালো গ্রহণ করবে, শিশু তত সুস্থ হয়ে মায়ের গর্ভে বেড়ে উঠবে। এবার আসি খাবার গ্রহণের সঙ্গে শিশুর বৃদ্ধির ব্যাপার নিয়ে। এ সময় মায়ের মোট সময়কে ৩টি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। টারমিস্টার, দ্বিতীয় টারমিস্টার ও তৃতীয় টারমিস্টার। প্রথম টারমিস্টারে আমরা বলে থাকি মায়ের যতটুকু ক্যালোরির চাহিদা প্রয়োজন তাই দেওয়া। ভিটামিন ‘সি’যুক্ত খাবার দেওয়া। এগুলো নিশ্চিত করা। দ্বিতীয় টারমিস্টারে চার থেকে পাঁচ-ছয় মাস পর্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় প্রোটিনযুক্ত খাবার বাড়াতে হয়। তৃতীয় টারমিস্টরে গুরুত্ব পায় বাচ্চার ওজন। এ সময়ে মা সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ না করলে বাচ্চার ওজন বৃদ্ধি পায় না।

এ ছাড়া আরও কিছু জিনিস যেমন- এ সময় মায়ের কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা খুবি জরুরি। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেটা অনেকেই জানেন না, তা হলো মায়ের হরমোনাল পরীক্ষা। গর্ভাবস্থায় যদি মায়ের হরমোনাল সমস্যা থাকে আর সেটির সঠিক চিকিৎসা যদি না করা হয়, তা হলে শিশু নিউরোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট মানে বুদ্ধির দিক থেকে পিছিয়ে থাকে। তাই মাকে বেশি করে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। 

ভেজাল খাদ্যে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা, এ ব্যাপারে আপনার পরামর্শ জানতে চাই।

সামিয়া তাসনিম : খাদ্যে ভেজাল এখন নিত্যদিনের সমস্যা। দেখা যাচ্ছে বেশি লাভের আশায় খাবার আকর্ষণীয় করতে ফুড এডিটিস কিংবা অনেক আর্টিফ্যাসিয়ারি জিনিস ব্যবহার করছি। ভেজালের কারণে শিশু থেকে করে সব বয়সি মানুষ সাফার করছে। তাই আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করা করতে হবে। এ ব্যাপারে সবাইকে নজর দিতে হবে। সঠিক উপায়ে কীভাবে খাবারটা প্রস্তুত করা যায়, সেজন্য ট্রেনিং দেওয়া যেতে পারে। অনেক বাচ্চা ভেজাল খাবার খাওয়ায় ফুড পয়জনিং হচ্ছে। হোটেল কিংবা ফুটপাথে অনেক ভেজাল খাবার মেশানো হচ্ছে। এসব খাবার খেয়ে শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়সি যে কারও ডায়রিয়া হতে পারে । আর ভেজাল খাবার গ্রহণে শিশুদের ব্রেনে আঘাত করতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মৌলিক সুষম খাবার শিশুদের খাওয়াতে হবে। আর ভেজাল খাবারের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

আমাদের দেশে অটিজম শিশুদের নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণা আছে। সমাজ এখনও তাদের ভালোভাবে দেখে না। এ ধরনের মনোভাব দূর করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?

সামিয়া তাসনিম : সমাজে তাদেরকে ভালো চোখে দেখা হয় না। ভাবা হয় এটা মনে হয় অ্যাবনরমাল কি না। আসলে আমরা জানি এতে মানুষের হাত নেই। গবেষণায় দেখা গেছে, অটিজমের নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। তাই এটার ক্ষেত্রে কাউকে দোষারোপ করা যাবে না। অটিজম শিশুদের প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে। সর্বোপরি অটিজমকে সম্পদে পরিণত করতে হবে সঠিক গাইডলাইন দিয়ে। অনেক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু অনেক প্রতিভাবান হয়ে থাকে। মোদ্দাকথা, তাদের ক্ষেত্রেও পুষ্টির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

অতিরিক্ত ওজন কমাতে ডায়েট কন্ট্রোলের ব্যাপারে কী পরামর্শ দেবেন? 

সামিয়া তাসনিম : ডায়েট কন্ট্রোল করা মানে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করা নয়! এতে প্রয়োজনীয় শক্তির অভাবে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। ওজন কমানোর কার্যকর তেমন কোনো ওষুধ নেই। বাজারে যেগুলো পাওয়া যায়, সেগুলোও তেমন কোনো সুফল বয়ে আনে না; বরং সেসবের প্রয়োগে ক্ষতি হতে পারে শরীরের। ওজন বেড়ে যাওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ডায়েট কন্ট্রোল করতে হবে।



http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif



http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]