মার্কিন বাজারে গার্মেন্টস: প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

এসএম আলমগীর

জাতীয়

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের একক বৃহৎ দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম, চীন ও কম্বোডিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশকে পেছনে ফেলে

2022-01-24T09:38:32+00:00
2022-01-24T09:38:32+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
মার্কিন বাজারে গার্মেন্টস: প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে এগোচ্ছে বাংলাদেশ
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: সোমবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৯:৩৮ এএম 
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের একক বৃহৎ দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম, চীন ও কম্বোডিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশকে পেছনে ফেলে মার্কিন বাজারে অবস্থান আরও মজবুত করছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ক্রয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। যেখানে ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ, চীনের ২৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ১৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ। মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ২০২১ সালের জানুয়ারি-নভেম্বর সময়ের যে মাসিক বাণিজ্য তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের রফতানি বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এ বিষয়ে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম সময়ের আলোকে বলেন, মার্কিন বাজারে পোশাক রফতানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ চীনের সঙ্গে মার্কিন ব্যবসায় ভাটা। দেশ দুটির মধ্যে ট্রেড ব্যারিয়ার বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া ভিয়েতনামে লকডাউনের কারণে তাদের অর্ডার কমেছে, মিয়ানমারে সামরিক সরকারের কারণে সেখান থেকেও পোশাক কেনা কমিয়েছে দেশটি। এসব দেশের অনেক অর্ডার আমাদের দেশে এসেছে। তার সুবাদেই মূলত মার্কিন বাজারে আমাদের পোশাক রফতানি বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন বাজারে শীর্ষে যাওয়ার সুযোগ আছে, আমরা চেষ্টা করতে পারি। 

তবে চীন-ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো ওইসব দেশে ইজ অব ডুয়িং বিজনেস ভালো। আমাদের দেশের ব্যবসা সহজীকরণ করতে হবে, তবেই যদি এর প্রকৃত সুফল পাওয়া যায়। তবে ওমিক্রনের অতিমাত্রায় প্রকোপ আমাদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। জানি না আগামী মাসগুলোতে কী পরিস্থিতি হবে। যদি খুব খারাপ পরিস্থিতি না হয় তা হলে আমাদের পোশাক রফতানি আরও বাড়বে। মার্কিন প্রতিষ্ঠান অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য মতে, গত বছরের জানুয়ারি-নভেম্বর মাসের এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক কিনেছে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলারের, যা গত বছরের (২০২০ সালে) একই সময় ছিল সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সে হিসাবে দেশটিতে পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। অথচ এ সময়ে অন্য প্রতিযোগী দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি বেশ কম। 

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জানুয়ারি-নভেম্বর সময়ে ভিয়েতনাম থেকে মার্কিন বাজারে পোশাক ক্রয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া থেকে ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ, কম্বোডিয়া থেকে ১৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২১ দশমিক ৩৭ শতাংশ, চীন থেকে ২৭ দশমিক ২৯ শতাংশ ও ম্যাক্সিকো থেকে ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। তবে তিনটি দেশ থেকে মার্কিন বাজারের পোশাক কেনা বাংলাদেশের চেয়ে অনেকখানি বেশি। যেমন- ভারত থেকে ৩৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ, হন্ডুরাস থেকে ৪৭ দশমিক ১০ শতাংশ ও পাকিস্তান থেকে ৫৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। 

এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল সময়ের আলোকে বলেন, মার্কিন বাজার আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত দুবছর করোনার মহামারিতে পোশাক রফতানি অনেক ধাক্কা খেয়েছে। সেখান থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। সঙ্কট কাটিয়ে যখন স্বাভাবিক হচ্ছিল পরিস্থিতি ঠিক তখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে পোশাক ক্রয়ও কমিয়ে দিয়েছে। আর আমাদের জন্য সেটি সুযোগ করে দিয়েছে। চীন থেকে ছুটে যাওয়া অনেক অর্ডার বাংলাদেশে এসেছে। আমরা সেসব অর্ডার নিয়ে সময়মতো ডেলিভারি দিতে পেরেছি। তারই সুফল মিলেছে। আমরা আমাদের পোশাকের প্রধান বাজারটিতে প্রবৃদ্ধির এই উচ্চ ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।

  বিষয়:   মার্কিন বাজারে গার্মেন্টস 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: