ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ জুন ২০২২ ১২ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার রোববার ২৬ জুন ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

শীতরচনা
টোকন ঠাকুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২২, ১:২২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 170

রাস্তার ফুটপাথে শুয়ে আছে মানুষ। আমরা শীতের উষ্ণ কাপড় গায়ে চাপিয়ে সেই ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি ধর্মালয়ে। আমরা ধর্মালয় থেকে বেরিয়ে আবার হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছাচ্ছি যার যার কর্মালয়ে। ধর্মালয়-কর্মালয় করে আমরা যাচ্ছি পানশালায়। পানশালায় যাওয়ার আগে আমরা সন্ধ্যায় ছিলাম সংস্কৃতি কেন্দ্রে। আমরা কবি। আমরা শিল্পী। আমরা ভালো মানুষ। আমাদের মানবতাবোধ প্রকাশ করে যাচ্ছি সংবাদপত্রে। 

আমরা শীতের আগে গেছিলাম পুণ্যতীর্থে। আমাদের ইহকাল আমরা সমৃদ্ধ করে ইতিহাস হয়ে উঠছি। আমরা আমাদের পরকালের সমৃদ্ধির জন্যও ব্যস্ত আছি। আমাদের লোভের কোনো শেষ নেই। আমাদের বুদ্ধিজীবিতাও উত্তুঙ্গে পৌঁছে যাচ্ছে। আমরা শীতের সর্ষে ক্ষেতে ছবি তুলতে যাচ্ছি। আমরা শীতের কবিতা লিখছি। আমরা কুয়াশা দেখব বলে শহর থেকে গ্রামের মাঠের প্রান্তে চলে আসছি। কী দেখতে পাচ্ছি? 

শীতের আক্রমণ গ্রামেই বেশি। গরিব মানুষ গ্রামে বেশি। লেখাপড়া না জানা মানুষ গ্রামে বেশি। বলাই যায়, গ্রাম এখনও শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারল না। স্কুল আছে বটে গ্রামে, সেই স্কুলে যায় না গরিব ঘরের ছেলেমেয়েরা। তারা অভাব মেটাতে এর-ওর বাড়ি কাজ করে খায়। শহরে যেমন বস্তি। সেখানে কেউ কবিতা লেখে না। সেখানে কেউ নুসরাত-ফতেহ আলি শোনে না। বস্তির লোকেরা কেউ আর্ট গ্যালারিতে যায় না। 

থিয়েটার দেখতে যায় না। আমরা ধরেই নিয়েছি, বস্তির ছেলেমেয়েরা কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে না। বস্তির নারীরা আমাদের বাড়িতে বা বাসায় কাজের বুয়া হিসেবে কাজ করে যাবে। এরকম ধরে রাখার কারণ আমরা শিক্ষিত। আমরা আর্ট কালচার করি। আমরা পত্রিকা ছাপাই। আমরা পত্রিকা পড়ি। আমরা সিনেমা দেখি। আমরা টেলিভিশন বানাই। আমরা টেলিভিশনে টকশো করি। আমরা রাজনীতি করি। আমরা ধর্মের সুবিধাজনক ব্যবহার করি। আমরা রাজনীতির প্রয়োজনে বস্তি থেকে দলে দলে লোক ধরে আনি। 

আমরা মিছিল করি। আমরা মিছিল করাই। আমরা ইতিহাসে অমরত্ব চাই। কারণ আমরা মানবতাবাদী। আমাদের কথা ও তর্কে আমরা গরিব মানুষকে নিয়ে দু-চার কথা বলি, লিখি। আমরা অনেক ভালো। আমরা পর্যটন করি। আমরা হিমালয় দেখতে যাই। আমরা নায়াগ্রা জলপ্রপাত দেখতে যাই। আমরা শুধু গরিব মানুষ দেখতে যাই না। আমরা গান শুনতে যাই একাডেমিতে। আমরা ক্ষুধার্ত মানুষের কান্না শুনতে যাই না। আমরা আমাদের কাজের স্বার্থে কিছু মানুষকে গরিব করে রেখে দিতে চাই। আমরা এও ভাবতে পছন্দ করি যে, মানুষ ভালো থাক। 

কিন্তু আমার চেয়ে একটু কম অর্থ উপার্জন করুক আমার বন্ধু, ভাই বা বোন। আমার ছেলেমেয়ের চেয়ে একটু কম ভালো স্কুলে পড়ুক আমার বন্ধুর ছেলেমেয়ে। আমরা দল বেঁধে সুন্দরবনের বাঘ দেখতে যাই কিন্তু কোনো হাসপাতালে অসুস্থ মানুষ দেখতে যাই না। আমরা নববর্ষ পালন করি। আমরা শীতকাল উদযাপন করি। আমরা ফুটপাথে নিরন্ন হাড্ডিসার মানুষ রেখে স্বর্গপ্রাপ্তির লোভে ঈশ্বর সন্ধান করি। আমরা কত ভালো! আমাদের এই লেখালেখি তারাই পড়ুক, যারা আমাদের মতো সুবিধাসম্পন্ন মানুষ। আমরা চাই না, বস্তির কেউ জানুক, তাদের বস্তিজীবন আমাদেরই রাজনীতির প্রয়োজনে আমরা করে রেখেছি। আমাদের মানবজীবন ধন্য হচ্ছে, আমরা আমাদের ধন্যবাদ জানাই। 

/আরএ

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif



http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]