ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৯ আগস্ট ২০২২ ৪ ভাদ্র ১৪২৯
ই-পেপার শুক্রবার ১৯ আগস্ট ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

http://www.shomoyeralo.com/ad/Untitled-1.jpg
ঢাবির টিএসসিতে কাওয়ালি সংগীতের অনুষ্ঠানে হামলা ছাত্রলীগের
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:৪৪ পিএম আপডেট: ১২.০১.২০২২ ১০:৫২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 431

ছাত্রলীগের হামলায় পণ্ড হয়েছে ঢাবির কাওয়ালী মাহফিল। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ও কবি জসীম উদ্দিন হলসহ বিভিন্ন হল ইউনিটের কর্মীরা এবং ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীরা অতর্কিত হামলা ও মঞ্চে ভাংচুর চালায়।

হামলায় আমার সংবাদ পত্রিকার প্রতিবেদক জালাল আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তাসফিয়া তাসনিম নায়া, দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম মুনাসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে বলে আয়োজকদের দাবি।

টিএসসির পায়রা চত্বর এলাকায় আজ সন্ধ্যা ৬টায় কাওয়ালি মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। উপমহাদেশের অন্যতম শক্তিশালী সংগীত ধারা কাওয়ালির আসর। এতে গাইতে আসেন ঢাকার বিখ্যাত কাওয়াল নাদিম এহতেশাম রেজা খাঁ ও তার দল। এছাড়াও সংগীত পরিবেশন করার কথা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ‘সিলসিলা’ ব্যান্ডের লুৎফর রহমান ও খালিদ হাসান আবিদ এবং মুর্শিদি-ভাণ্ডারী ধারার সংগীতশিল্পী শেখ ফাহিম ফয়সাল। 

বুধবার সন্ধ্যার দিকে শুরু হয় এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কয়েকটি গান পরিবেশন হওয়ার পর হঠাৎ অতর্কিত হামলা হয় অনুষ্ঠানে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাওয়ালি ব্যান্ড 'সিলসিলা' ও সাধারণ ছাত্রদের আয়োজনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকদের অভিযোগ, সকালে একটা গুঞ্জন উঠেছে টিএসসির কাওয়ালিতে হামলা হতে পারে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এ প্রোগ্রাম করতে নিষেধ করেন। পরবর্তীতে সাদ্দামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন৷ 

‘‘হামলাকারীদের মধ্যে আমরা অনেককে চিনি যারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের রাজনীতি করে ‘’ যোগ করেন আয়োজকরা।  

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ছাত্রলীগের রাজনীতি করে তারা আগুন আগুন বলে অনুষ্ঠানের পেছন দিক দিয়ে হামলা করে। স্টেজের  আসবাবপত্র, সাউন্ড সিস্টেম, চেয়ার ভেঙ্গে ফেলা হয়। ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক নাজির আহমেদ, সূর্য সেন হল ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সাব্বির হোসাইন শোভন, জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের কর্মী ফরিদ জামান, কবি জসীম উদ্দিন হলের ছাত্রলীগের কর্মী হেদায়েতুল ইসলাম সহ ছাত্রলীগের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ‘লাঠিসোটা’ নিয়ে অনুষ্ঠানে হামলা চালায়। হামলাকারীদের অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সমর্থক বলে জানা যায়। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের একজন মোল্লা জাহিদ আহসান বলেন, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের জহুরুল হক হল ও কবি জসীম উদ্দিন হলের সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী এ হামলা করেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে যথাযথ বিচার চাই। 

হামলার পরেই টিএসসি থেকে মিছিল বের করে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দিক প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান করেন তারা। এসময় তারা 'যে প্রক্টর হামলা করে, সে প্রক্টর চাই না' ' টিএসসিতে হামলা কেন , প্রশাসন জবাব চাই ' ' ছাত্রলীগের গুণ্ডারা, হুশিয়ার সাবধান' ইত্যাদি স্লোগান দেন। প্রক্টর অফিসের সামনেই একদল শিক্ষার্থী কাওয়ালি গান গেয়ে বিক্ষোভ দেখান। 

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, এ ঘটনায় যারা ছাত্রলীগকে জড়ানোর চেষ্টা করতেছে তারা অশুভ উদ্দেশ্যে, মনগড়া, কল্পনাপ্রসূত ও পূর্বে কোনো ঘটনা দূর্ঘটনা হলে ছাত্রলীগকে যেমন জড়ানো হতো তারই ধারাবাহিকতায় ছাত্রলীগকে জড়াচ্ছে। 

হামলার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, আমি সেখানে গিয়েছি, সবকথা শুনেছি, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পেয়েছি। তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের জায়গা থেকে যে ব্যবস্থা সেটি নেওয়া হবে। 

প্রসঙ্গত, ভারত-পাকিস্তানের মুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে বহুল পরিচিত এই ধারা বাংলাদেশের মূল ধারায় খুব বেশি পরিচিত না হলেও পুরান ঢাকা, মিরপুর, মোহাম্মাদপুর অঞ্চলে বেশ চল রয়েছে কাওয়ালির।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মীর হুযাইফা আল-মামদূহ জানান, এ দেশে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রয়েছে। এ বৈচিত্র্যকে আমরা উদযাপন করতে চাই। সংস্কৃতি চর্চার নামে কোনো ধরনের বিরোধ ও সাম্প্রদায়িকতাকে আমরা সমর্থন করি না।

উল্লেখ্য, প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ আমীর খসরুকে 'কাওয়ালি' ধারার সংগীতের প্রবর্তক বলে ধারণা করা হয়। সংগীতজ্ঞদের মতে, কাওয়ালি জাতীয় গান থেকেই কালক্রমে উচ্চাঙ্গ সংগীতের খেয়ালের উৎপত্তি হয়েছে। 

ইতিহাস থেকে জানা যায়, দিল্লির পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী কাওয়াল নামক যাযাবর সম্প্রদায়ের গাওয়া সাধারণ ভক্তিমূলক গানকে কাওয়ালি বলে চিহ্নিত করা হয়।

উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, কাওয়ালি এক প্রকার আধ্যাত্মিক প্রেমবিষয়ক ভক্তিমূলক গান। কাওয়ালি গানের শিল্পীদের ‘কাওয়াল’ বলা হয়। এটি একটি ভক্তিমূলক গান, যা মূলত সুফি সাধকরা নৃত্য-ঢংয়ে গেয়ে থাকেন। এই গানগুলো সাধারণত ফারসি ও উর্দু ভাষায় রচিত হলেও বাংলা ভাষায়ও কাওয়ালি গান রচনা ও চর্চার চল রয়েছে।

কাওয়ালি গান মূলত মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যেই বেশি প্রচলিত। তবে হিন্দু ধর্মীয় 'কুম্ভমেলা'-তেও এর পরিবেশনা লক্ষ্য করা যায়। পুরান ঢাকার আদিবাসীদের মধ্যে বিভিন্ন জলসা, বিবাহ ইত্যাদি অনুষ্ঠান উপলক্ষে এ গানের প্রচলন রয়েছে। 

কাওয়ালি গানের শ্রোতা এক সময় কেবল পুরান ঢাকা ও নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন দেশের সাধারণ তরুণরাও কাওয়ালি গানের ভক্ত হয়ে উঠছে।

/এসএ

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif



http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]