ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৯ আগস্ট ২০২২ ৪ ভাদ্র ১৪২৯
ই-পেপার শুক্রবার ১৯ আগস্ট ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

http://www.shomoyeralo.com/ad/Untitled-1.jpg
এ সপ্তাহের কবিতা
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২২, ১১:০৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 329

ভালোবাসা অন্ধ প্রজাপতি 
আসাদ মান্নান 

পুরনো স্মৃতির মধ্যে ওই কাঁদে বোবা এক নদী, 
যে নদী স্বপ্নের পলি বুকে নিয়ে আজও ভেসে যায় 
আমার জন্মের ডাকে জেগে ওঠা মোহনার দ্বীপে। 
ওই দ্বীপে কুয়াশায় ভালোবাসা অন্ধ প্রজাপতি...
এখনও ফুলের গন্ধে পাখা মেলে উড়ে যেতে চায়।
এখনও রক্তের নেশা সময়ের জোয়ারভাটায়
জ্যোতির্ময় মায়াজাল পেতে রাখে শীতে ও শিশিরে...
যে তুমি আমার নও তবু ভাবি তুমিই আমার।

জীবন ফুরিয়ে যায় জীবনের অমোঘ নিয়মে
আমরাও চলে যাব... এই ধ্রুব সত্য কথা মানি;
তবুও সামান্য স্মৃতি, তার সঙ্গে কিছুটা দহন
অনন্তকালের দীপে লেলিহান স্বপ্ন হয়ে জ্বলে;
যে নাবিক ভুল করে পথে নেমে হারিয়েছে পথ
অন্ধকারে সে কি আর খুঁজে পায় তীরের বন্ধন?

উত্তরাধিকার
গোলাম আশরাফ খান উজ্জল

আমার শিরা-উপশিরায়
পূর্বতন রক্তধারা প্রবহমান 
পূর্বপুরুষের কাছ থেকে পাওয়া 
ভাষা বর্ণমালা আর ভূমি।
যে ভূমিতে ঘর তা পিতামহের 
নিরাপদ বিধান আমার দায়িত্ব
উত্তর প্রজন্ম সমৃদ্ধির চাষ
কর্তব্য চিরায়ত।
বাংলা ভূমি বাংলা ভাষা
উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত।

সমুদ্র ও পাহাড়ের ছবি
আসাদ উল্লাহ

অনেক দিন সমুদ্র দেখা হয় না এবং পাহাড়
ভাবছি একটি ছবি এঁকে নিবো
দুটিই থাকবে- সমুদ্র আর পাহাড়
পাহাড় বেয়ে ঝর্ণা, ঝর্ণার ভেতর আরো কিছু-
যেমন দুঃখের চোখ, বিরহের আগুন
প্রেমের প্রগল্ভতা, প্রজাপতির উড়াউড়ি 
ঝর্ণায় থাকে জীবনের মাল্টি কালার।

কী নাম হতে পারে ছবিটির?
মাধবীই হোক
মাধবী আঁকলেই সমুদ্র পাহাড়।

কিছুক্ষণ সৈকতে দাঁড়িয়ে জুড়িয়ে নিব তাপ-দহন
কয়েকটি ঝিনুকও বালিসুদ্ধ রেখে দিব পকেটে
একাকী পথে কান পেতে শুনে নিবো মুক্তোর গান
(যদিও থাকে না সব ঝিনুকে মুক্তো ঝরা গৌরব।)
ঢেউয়ের ভাঁজে রেখে দিব সংগোপন কথা
জলের গহীনে ডুব দিয়ে তুলে আনবো হংস-মিথুন সুখ
জলধোয়া হাওয়া থেকে কুড়াবো প্রেমের সৌরভ
আহা, বহু বছর আগে মুখরিত সমুদ্র আর পাহাড়
এখন বুকের ভেতর চিনচিনে ব্যথা।

বাহ্ কী চমৎকার! মাধবী আঁকলেই সমুদ্র পাহাড়!



মধ্যবেলায় হঠাৎ
রুমা পণ্ডিত

আসবি যে তুই জানাই ছিল
আকাশ ছিঁড়ে বাতাস কেটে
যখন থেকে মেঘ দেখেছি
ভরদুপুরের বুক পকেটে।
যখন থেকে উষ্ণ হাওয়া
থমকে আছে গাছের পাতায়
বিষণ্ন এক যুবক যখন
রোদ গোটাল জামার হাতায়।
জানলা যখন পাল্লা মেলে
নিচ্ছে বুকে শীতল শ্বাস
মাঝদুপুরেই হারিয়ে গেল
যখন আগুন উপন্যাস।
পর্দাতে যেই উঠল দুলে
রংচটা সব দগ্ধ দাগ
সুতোয় সুতোয় শোকের কথা
পুড়ছে যখন পুড়েই যাক।
অসময়ের ছায়া এসে
ভরল যখন ছাদের সিঁড়ি
দুই বিনুনি আলগা হলো
চঞ্চল দুচোখ কিশোরীর।

খুলে গেছে জানলা কপাট
তোর ঘরে ঝড়, উড়ছে ধুলো
মন ভেজানো গল্প নিয়ে
আসবি যে তুই, জানাই ছিল।

জলের আশায়
সুমন সরদার

ঠা ঠা রোদে পোড়া বৃক্ষের মতো দুপুরে দাঁড়িয়ে
তুমি কতদিন আমার আসার অপেক্ষা করেছিলে!
তোমার দুচোখে সেদিন দুখের জল ছিল কি না
কোনোদিন তুমি কাউকে বলোনি।
শুধু আকাশের দিকে চেয়ে চেয়ে তোমার প্রহর পোড়ে
নীলপ্রহরের রাত্রি পেরিয়ে দিন খোঁজো তুমি
চিলের মতোন।
আকাশের ঠোঁটে তবু কোনো মেঘবিন্দু জমে না-
মেঘের আকাশে জল চেয়ে চেয়ে
কপোল ভেজাতে চেয়েছো কেবল।
তুমি কি জানো না-
ধার করা জলে আমার যে কোনো তৃষ্ণা মেটে না!
আমি তো তোমার জল চাই শুধু-
জলের বদলে তুমি যদি এক বাটি বিষ দাও
ভেবো না অন্ধচোখে আমি খেয়ে নেব।

যেখানে রাত্রি পোড়ে, দিন পোড়ে
অথচ সূর্য নেই, চাঁদ নেই
যেখানে স্বপ্ন পোড়ে, পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে যায়
কালো ছাইয়ের ওপর আবার কি স্বপ্ন বোনা যায়, জল ছাড়া
তবু আমি আছি, কেবল তোমার জলের আশায়...


মুমূর্ষু মায়ের পাশে বসে
হাদিউল ইসলাম

আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছেন মা...
খুব কাছ থেকে দেখছি, ভীষণ গুটিয়ে যাচ্ছি বেঢপ একাকী
বুক ভেঙে যাচ্ছে, পাড় ভাঙার শব্দ পাচ্ছি।
অত্যন্ত নিকটে
আমি গোলাপের দিকে তাকাচ্ছি,
আমি হাসনাহেনা-বকুল-শিমুল-পলাশের দিকে তাকাচ্ছি,
আমি ঘাসফড়িং-এর দিকে তাকাচ্ছি,
দিগন্ত বিস্তৃত মাঠের দিকে, সবুজ ধানের দিকে
আকাশভরা তারার দিকে তাকাচ্ছি,
নিরীহ ঘুঘুর দিকে, উঠোনে মুরগির ছানার দিকে
ঝাড়ুটার দিকে, চুলোর দিকে তাকাচ্ছি,
আমার মা আস্তে আস্তে সর্বত্র ছড়িয়ে যাচ্ছেন
তার খাট, এক জোড়া বিমর্ষ স্যান্ডেল
তারে ঝুলে থাকা মলিন গামছা কিচ্ছু বাকি নেই।
আমি কবরের জায়গাটা দেখে রাখছি
অথচ মা ছড়িয়ে যাচ্ছেন যেখানে চোখ পড়ে, সেসব জায়গায়
আমি মাকে কিছুতেই একত্রিত করতে পারছি না
আমার চোখ ভিজে বুঝিয়ে দিচ্ছে সমুদ্র নিকটেই থাকে
আমি সমুদ্রে পড়তে যাচ্ছি।


অনুবাদ হয় 
পারভীন সুলতানা

প্রেম বুঝে না দান, শতরঞ্জি খেল,
ঘোড়া, মন্ত্রী, নাও; বোঝে স্রেফ হিয়া।
যতই খেলারু হও, খেলিও না প্রেম,
পিরিতি আপনি জ্বলে, পুড়িও না তেল।

চিহ্ন বদলাও যদি, খোলে কি সিসিম?
অনুবাদ নাই প্রেমে, অক্ষর ভাঙে।
হয়েছে ভাষান্তর প্রেম কবে শুনি?
পুড়িয়া হেম হয়, আজব কিসিম!

/আরএ

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif



http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]