ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৯ আগস্ট ২০২২ ৪ ভাদ্র ১৪২৯
ই-পেপার শুক্রবার ১৯ আগস্ট ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

মানুষের রিজিক কীভাবে আসে
আবদুর রশীদ
প্রকাশ: বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ৫:০০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 583

রিজিক মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে দেওয়া অনেক বড় নেয়ামত। প্রতিটি প্রাণী ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে রিজিক লাভ করে। রিজিক বৃহৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়। রিজিক বলতে শুধু খাদ্য বোঝায় না; বরং জীবন অতিবাহিত হওয়ার যে মাধ্যমগুলো রয়েছে প্রায় সবগুলোই রিজিকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যেমন- ব্যবসা, চাকরি থেকে শুরু করে ধন-সম্পদ, বাড়ি-গাড়ি, জায়গা-জমি, উপহার ও দান-সদকা, জ্ঞান-বুদ্ধি ইত্যাদি রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ কাউকে পরিশ্রমের ওপর ভিত্তি করে উপযুক্ত উত্তম রিজিক দান করেন, কাউকে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে রিজিক কমিয়ে দেন আবার কাউকে বিনা হিসাবে অঢেল রিজিক দান করে থাকেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যাকে চান বিনা হিসাবে রিজিক দান করেন।’ (সুরা আলে ইমরান : ২৭)। আরও বলেন, ‘আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন রিজিক বাড়িয়ে দেন এবং সঙ্কুচিত করেন।’ (সুরা রাদ : ২৬)

মানুষ কিছু রিজিক কোনো চেষ্টা ছাড়াই লাভ করে। যেমন- দেখার জন্য চোখ, চলার জন্য পা ইত্যাদি না চাইতেই মানুষ পায়। আবার এমন কিছু রিজিক মানুষ পায়, যা সাধারণত কোনো দিন ইচ্ছা পোষণও করেনি। এ ছাড়াও এমন কিছু রিজিকপ্রাপ্ত হয়, যা পরিশ্রম করে অর্জন করতে হয়। তাই আজ কেবল সেই রিজিক প্রসঙ্গে ধারণা দেব যেগুলো সাধারণত পরিশ্রম-চেষ্টার ফলেই অর্জিত হয়। এই রিজিকগুলো চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন আপনার বাড়ির সামনের ফল গাছে প্রচুর পরিমাণে ফল ধারণ করেছে। এখানে ফলগুলো হলো আপনার রিজিক। এখন ওই রিজিক আপনাকে চেষ্টা করে অর্জন করতে হবে। গাছ থেকে না ছাড়িয়ে যদি ঘরে বসে থাকেন, তা হলে ওই রিজিক আপনার থাকা সত্ত্বেও বঞ্চিত হবেন। অতঃপর বলতে পারেন না যে, রিজিকগুলো আসলে আপনার ছিল না। এমন উক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এমন সময় আপনার কিছু পরিচিতজন পাশের দোকান থেকে ডাক দিলেন তাদের নাশতার টেবিলে যোগ দিতে। এখানে ওই আহ্বানটা হলো আপনার রিজিক। এখন ওই রিজিক আপনার চেষ্টার ওপর নির্ভরশীল। যদি যোগ দেন, তা হলে প্রাপ্ত হবেন। অন্যথায় বঞ্চিত হবেন। আপনি কোনো পরিচিত কিংবা অপরিচিত লোককে কোনো কাজে সহায়তা করলেন, যার বিনিময়ে খুশিতে সে আপনাকে ছোট্ট কিছু উপহারের প্রস্তাব করলেন। এখানে ওই প্রস্তাবটি হলো আপনার রিজিক। চাইলে আপনি ওই রিজিক গ্রহণ করতে পারেন। যদিও আপনার অন্তরে কোনো বিনিময় পাওয়ার বিন্দু পরিমাণ ইচ্ছা ছিল না। আপনি কোনো কারণে বেকার হয়ে আছেন, অবস্থায় কেউ আপনাকে কোনো চাকরির প্রস্তাব দিল। মনে রাখবেন, ওই প্রস্তাবটি হলো আপনার রিজিক। এখন যদি বলেন আমার কারও দয়ার প্রয়োজন নেই, তা হলে আপনি নিজেই নিজের রিজিক থেকে বঞ্চিত হবেন।

পবিত্র কোরআনে সুরা কাসাসের ২৩-২৫ নং আয়াতে হযরত মুসা (আ.)-এর একটি ঘটনা উল্লিখিত হয়েছে। হযরত মুসা (আ.) একটি হত্যার অভিযোগে দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়ে মাদাইয়ানের কূপের কাছে উপস্থিত হন। সেখানে এক দল লোক তাদের পশুগুলোকে পানি পান করাচ্ছে এবং তাদের পেছনে দুজন নারী তাদের পশুগুলোকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হযরত মুসা (আ.) তাদের দাঁড়িয়ে থাকার কারণ জানতে চাইলে উত্তরে তারা বলল, আমরা ওই রাখালগুলো চলে না যাওয়া পর্যন্ত আমাদের পশুগুলোকে পানি পান করাতে পারব না। অতঃপর মুসা (আ.) তাদের পক্ষ হয়ে পশুগুলোকে রাখালদের ভিড়ে প্রবেশ করিয়ে পানি পান করালেন এবং নারীদের কাছে পৌঁছে দিয়ে কোনো কথা ছাড়াই তিনি একটু দূরে গিয়ে ছায়ার নিচে বসে পড়লেন এবং আল্লাহর কাছে শুধু দোয়া করলেন। কিছুক্ষণ পর ওই নারীদের একজন দ্রুত এসে মুসা (আ.)-কে বললেন, আপনার উপকারের দরুন আমার পিতা (হযরত শোয়াইব আ.) আপনাকে পুরস্কৃত করার জন্য আমন্ত্রণ করছেন। মুসা (আ.) আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সেখানে যান এবং তার পরিস্থিতির কথা সম্পূর্ণভাবে খুলে বলেন। অতঃপর তিনি পুরস্কৃত হলেন এবং ওই নারীদের মধ্য থেকে একজনকে বিয়ের প্রস্তাবও পান। হযরত মুসা (আ.) প্রস্তাবটি গ্রহণ করলেন এবং একটি চাকরিও পেয়ে যান। অথচ মুসা (আ.) কিছুক্ষণ আগেও নিঃস্ব অবস্থায় ছিলেন।

এখানে লক্ষ করার বিষয় হলো মুসা (আ.) ওই নারীর প্রস্তাব পাওয়ার পর বলেননি যে, আমি এমনই খুশিতে কাজটি করেছি, আমার পুরস্কারের প্রয়োজন নেই; বরং তিনি বুঝতে পারলেন যে, ওই প্রস্তাবটি হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে রিজিক। ফলে গ্রহণ করায় সাফল্য লাভ করলেন। মনে রাখতে হবে, আল্লাহ তায়ালা ওই জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করেন না, যারা নিজেদের ভাগ্য নিজেরা পরিবর্তন করে না। তবে এটাও জেনে রাখা জরুরি, আপনার চেষ্টার পরও যদি রিজিক না মিলে যে রিজিকের সন্ধানে চেষ্টা করেছেন, তা হলে বুঝবেন আসলেই সেটা আপনার রিজিক ছিল না। কিন্তু চেষ্টা না করেই এমনটি চিন্তা করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

এ ছাড়াও গরিবদের কিছু হক ধনীদের ওপর আবর্তিত। তাই যখন কোনো ধনী ব্যক্তি গরিব কোনো ব্যক্তিকে দান করেন তা যেন সঙ্গে সঙ্গে গ্রহণ করে ফেলে। কেননা সেগুলো হলো তাদের হক কিংবা আল্লাহ প্রদত্ত রিজিক; তা ধনীদের কোনো দয়া নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর আল্লাহ রিজিকের ক্ষেত্রে তোমাদের কতককে কতকের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন।’ (সুরা নাহল : ৭১)

আল্লাহ তায়ালা সুরা জুমার ১০নং আয়াতে তাঁর রিজিক বা অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে আদেশ করেছেন। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো, হালাল রিজিক অনুসন্ধান করা। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে হালাল অনুসন্ধানে নিজেদের নিয়োজিত রাখা একান্ত অপরিহার্য। যদি কেউ হারাম ও অবৈধ উপার্জনের পথ ছেড়ে হালালের সন্ধানে নিজেকে নিবেদিত রাখে, তার উচিত মহান রবের নিম্নোক্ত কথাটি স্মরণে রাখা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তার উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ (সুরা তালাক : ৩)। সুতরাং আমাদের উচিত আল্লাহ প্রদত্ত রিজিককে মূল্যায়ন করা, তাঁর কাছেই রিজিক তালাশ করা, তাঁর কর্তৃক প্রাপ্ত রিজিককে হারামে রূপান্তরিত না করা এবং তাঁর প্রদত্ত রিজিককে চিহ্নিত করে উত্তম রিজিকপ্রাপ্ত হওয়ার সাফল্য লাভ করা। আল্লাহ তাওফিক দান করুক। আমিন।


আরও সংবাদ   বিষয়:  রিজিক   আমল  




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]