ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৯ আগস্ট ২০২২ ৪ ভাদ্র ১৪২৯
ই-পেপার শুক্রবার ১৯ আগস্ট ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

আবরার হত্যা সবাইকে ব্যথিত করেছে: আদালত
মোহাম্মদ গাফফার হোসেন
প্রকাশ: বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ৪:৪৫ পিএম আপডেট: ০৯.১২.২০২১ ৯:৫৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 201

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশের সব মানুষকে ব্যথিত করেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন আদালত। এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধেই আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান আবরার হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। 

এদিন রায় ঘোষণার আগে পর্যবেক্ষণে এসব কথা বলেন বিচারক। পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ২০১৯ সালের ৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে বুয়েটের শেরে বাংলা আবাসিক হলের ক্যান্টিনে এবং পরদিন রাত ১০টার পর আসামিরা দফায় দফায় মিটিং করেন। তারা ৬ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে ৭ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত শেরে বাংলার আবাসিক হলের ২০১১ ও ২০০৫ নম্বর রুমে আবরার ফাহাদকে চড়, থাপ্পড়, লাথি, কিল, ঘুষি মেরে, কনুই দিয়ে পিঠে, ক্রিকেট স্ট্যাম্প, স্কিপিং রোপ দিয়ে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে হত‌্যা করে। 

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, শিবির সন্দেহে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে আবরারকে হত্যা করা হয়। আবরারের সঙ্গে এমন নির্মম, নিষ্ঠুর আচরণ বাংলাদেশের সব মানুষকে ব্যথিত করেছে। বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর কখনো না ঘটে, তা রোধকল্পে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হইল।

রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। তিনি বলেন, আমি আপাতত সন্তুষ্ট। তবে রায়টি যদি উচ্চ আদালতে বহাল থাকে এবং রায়টি কার্যকর হলে আমি সন্তুষ্ট হবো। এছাড়াও পলাতক বাকি তিনজন আসামিকে অতিদ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাই।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আজকের রায়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। আমরা আদালতে অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছি বলে মনে করি। আবরারের মতো আর যেনো কোনো শিক্ষার্থীকে এভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যু বরণ করতে না হয় সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। 

তিনি বলেন, অপরাধ করলে দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে অবশ্যই শাস্তি হবে। আদালতের এই রায়ে তা প্রমাণ হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে আবরারের বাবা-মাসহ সারা দেশের মানুষ যেভাবে ব্যথিত হয়েছিল, রায়ের মাধ্যমে তা সমাপ্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলে যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালায়, এ মামলার রায় তাদের জন্য একটি মেসেজ।

রায় ঘোষণার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন আসামিদের স্বজনেরা। অনেকেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তাদের কেউ কেউ কোনো কথা না বলে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলেন। এছাড়া এ রায় নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে আসামিদের পরিবার। 

অভিযোগ তুলে তারা বলেন, মানুষ মুখে মুখে তাদের আসামি বানিয়ে ফেলেছে। তারা বলেন, মামলার প্রকৃত ফ্যাক্টগুলো মানুষ দেখতে চায়নি, বুঝতে চায়নি। সবার আবেগের কারণে আমাদের সন্তানদের এই সাজা দেওয়া হয়েছে। 

প্রশ্ন তুলে তারা আরও বলেন, হত্যার উদ্দেশে যদি এ ঘটনা হতো, তাহলে তারা আবরারের মরদেহ গুম করে ফেলত। কিন্তু তারা তো সেটা করেনি। একজন মানুষকে মারতে কি ২২ জনের প্রয়োজন হয়। মানুষের মাথায় কেন এ বিষয়গুলো ঢুকে না। 

রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আসামি মুহতাসিম ফুয়াদের বাবা আব্দুর তাহের বলেন, আমরা ন্যায্য বিচার পাইনি। জীবন তো শেষ। উচ্চ আদালতে আপিল করার সামর্থ্য নেই।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, ঘটনার মাস্টারমাইন্ড কথিত বড়ভাইদের জাজমেন্টে আনা হয়নি। তিনি বলেন, এছাড়া বুয়েট কর্তৃপক্ষের নেগলেন্সির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়নি। তাই এই রায়ে জাজমেন্ট সঠিক হয়নি। এ সময় উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। 

আসামি অমিত সাহার আইনজীবী মুনজুর আলম বলেন, অমিত সাহার নাম মামলার এজাহারে নাই এবং সে ঘটনাস্থলে ছিলনা। ঘটনার দিন পূজার ছুটিতে ছিল। শুধুমাত্র ম্যাসেঞ্জারে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আমিতকে এ মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীলের কথা জানান।

এদিকে রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ২২ আসামি আদালতে স্বাভাবিক ছিলেন। আসামিদের কেউই কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। প্রতিবাদ বা কোনো কথাও বলেননি। পরে দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ তাদের এজলাস থেকে নামিয়ে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। এসময় তারা পরিবারের সঙ্গেও কোনো কথা বলেননি।

উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার জেরে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর গভীর রাতে বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করে। এ অভিযোগে ৭ অক্টোবর আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। একই বছরের ১৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহেদুজ্জামান ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এফএইচ




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]