ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ৩ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

নেতাদের জন্য সতর্কবার্তা
ফয়সাল খান
প্রকাশ: বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ১১:১১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 134

পরপর তিনবার ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগে হাইব্রিড ও সুবিধাবাদীরা প্রভাব বিস্তার করছেন। নানা ফাঁকফোকরে বাগিয়ে নিয়েছেন দল ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদও। দলের এমন নেতাদের নানা অপকর্ম ও বেফাঁস মন্তব্য নিয়ে বারবারই বিপাকে পড়তে হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে।

তবে দলের প্রভাবশালী নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের অসদাচরণ ও অপকর্মের বিষয়ে কোনো ছাড় দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার ফলশ্রুতিতে সম্প্রতি তথ্য প্রতিমন্ত্রী, গাজীপুর সিটি মেয়র ও দুই পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে আওয়ামী লীগ। তারা প্রত্যেকেই নিজ এলাকা ও দলের মধ্যে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। প্রভাবশালীদের দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে বাদ দেওয়ার এমন সিদ্ধান্তকে আওয়ামী লীগের অন্য নেতাকর্মীদের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন নীতিনির্ধারকরা। 

তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো অপকর্মকে প্রশ্রয় দেন না। দিন-রাত পরিশ্রম করে তিনি দেশ ও দলের জন্য কল্যাণ বয়ে আনছেন। কিন্তু একশ্রেণির সুবিধাবাদী দল ও সরকারের মধ্যে ঢুকে পরে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে। যার বদনাম আসছে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে। কিন্তু যেকোনো অপকর্ম, অন্যায়, দুর্নীতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন। অতীতেও এর অনেক নজির রয়েছে। সম্প্রতিও তিনি কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

তাদের মতে, দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত এমন অনেক প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন, যারা সরকারের ক্ষমতা ব্যবহার করে নানা অপকর্ম করে যাচ্ছেন। এসব নেতার কাছে ত্যাগী নেতাকর্মীরাও অসহায়। তাদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নানা অভিযোগ আসছে। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বেপরোয়া হয়ে গেলে যে কাউকেই মুরাদ-জাহাঙ্গীরের পরিণতি বরণ করতে হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিম সময়ের আলোকে বলেন, এটা শুধু আওয়ামী লীগের জন্য নয়, সবার জন্যই সতর্কবার্তা। বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা-চেতনার বাইরে গিয়ে নারী বা পুরুষের জন্য মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অধিকার কারও নেই। আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী এমন কাজ করলে তো অবশ্যই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। কেননা এগুলো আওয়ামী লীগের দলীয় নীতি ও আদর্শের সঙ্গে যায় না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুরাদ যেসব কথা বলেছে, এসব কথা বলার অধিকার বাংলাদেশের কোনো মানুষের নেই। সব ধরনের অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিরো টলারেন্সে আছেন। যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, কোনো অপকর্ম করে কেউ পার পাবে না।

সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী ও সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল বেফাঁস মন্তব্যের জেরে পদ হারান। দল থেকেও বহিষ্কার করা হয় তিনজনকে। এর মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার কারণে নির্বাচনের সময়ই রাবেলকে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা বিশেষ করে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের এক নারী সদস্যকে নিয়ে অশোভন মন্তব্য করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। তার এই বক্তব্যে বিএনপি ছাড়াও নারী সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানায়। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এক চিত্র নায়িকার সঙ্গে ডা. মুরাদের এক ফোনালাপ ফাঁস হয়। যা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভাইরাল হওয়া সেই অডিও রেকর্ডে ডা. মুরাদকে আপত্তিকর ও অশোভন শব্দ ব্যবহার করে ওই নায়িকাকে ধর্ষণের হুমকি দিতে শোনা গেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। তা ছাড়া এরই মধ্যে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদকের পদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের আগামী কার্যনির্বাহী সংসদে তার প্রাথমিক সদস্য পদ নিয়ে আলোচনা হবে বলে দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পরবর্তী কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যেটা আমরা গাজীপুর মেয়রের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ধরনের সিদ্ধান্ত (প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি) ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং ছাড়া করার সুযোগ নেই।

এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তিনি মেয়র পদও হারান। এর রেশ কাটতে না কাটতেই রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। অথচ টানা দুবার তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এবং জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্যপদ হারান তিনি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, সম্প্রতি বহিষ্কৃত নেতারাই শুধু নন; এর আগেও যারা দলের নীতি-আদর্শের বিপরীতে গিয়ে প্রভাব খাটাতে চেয়েছেন তাদেরকেও বিদায় নিতে হয়েছে।
২০১৫ সালে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন রেলমন্ত্রী বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে। তখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে তিনি পদত্যাগ করেন। ২০১৪ সালে ধর্মীয় বিষয়ে বেফাঁস মন্তব্যের জেরে দলীয় পদ ও মন্ত্রিত্ব হারান আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তা ছাড়া অপকর্মের সঙ্গে জড়িত সহযোগী সংগঠগুলোর নেতাদের বিষয়েও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগকে।

এ ছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজুয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

/জেডও/


আরও সংবাদ   বিষয়:  ডা. মুরাদ   তথ্য প্রতিমন্ত্রী   মাহিয়া মাহি   জাইমা  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]