ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ৩ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

ফলোঅনের সঙ্গে হারের শঙ্কাও!
রাজু আহাম্মেদ
প্রকাশ: বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ৯:৩৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 65

ক্যারিয়ারের শুরুর তিন টেস্টে যার নামের পাশে ৬ উইকেট, সেই সাজিদ খান মিরপুরে ১২ ওভার হাত ঘুরিয়েই সমান ৬ উইকেট নিলেন। তাতেই বৃষ্টিবিঘ্নিত সিরিজের দ্বিতীয় এবং শেষ টেস্টে ফলোঅনের শঙ্কায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। 

মেঘলা দিনে পাকিস্তানের এই অফস্পিনার যেন রীতিমতো দুর্বোধ্য হয়ে উঠলেন, মঙ্গলবার তাকে সামলানোই সবথেকে কঠিন কাজ হয়ে উঠল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য। তবে সাজিদের বলে এমন এমন শট খেলে আউট হলেন সাদমান, মুশফিক, লিটনরা- দেখে মনে হতে বাধ্য, টেস্ট ব্যাটিংয়ের বেসিক জ্ঞানটাও পুরোপুরি তাদের নেই! ব্যাট হাতে নামার পরপরই অধিনায়ক মুমিনুল হক হলেন রানআউট, সতীর্থদের পথ ধরে সাজঘরে ফিরে যাওয়ার যেন বড্ড তাড়া ছিল তার। ব্যাটারদের এমন তাড়াহুড়োর কারণেই চতুর্থ দিন শেষে টাইগারদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৭৬। পাকিস্তানের ৩০০ রান এখন পর্বতসম, সেদিকে অবশ্য এখন আর তাকানোর সুযোগ নেই।

টাইগারদের নজর এখন ফলোঅন এড়ানোর দিকে। সেটা এড়াতেও আরও ২৫ রান করতে হবে তাদের। রানটা বেশি নয়, কিন্তু হাতে আছে মোটে তিনটি উইকেট। তিন বোলার তাইজুল ইসলাম, ইবাদত হোসেন আর খালেদ আহমেদের সঙ্গে বড় আশা হয়ে আছেন সাকিব আল হাসান। ২৩ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করা এই বাঁহাতির ওপরই নির্ভর করছে দলের ফলোঅন এড়ানোর ব্যাপারটা। আবার ফলোঅন এড়ানোর ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করছে এই টেস্টে টাইগারদের ভাগ্য। বাকি যেহেতু শেষ দিনের খেলা, এমনিতে তাই সাদা চোখে ড্রটাকেই সম্ভাব্য ফল মনে হচ্ছে। কিন্তু ফলোঅন যদি এড়ানো না যায়, তাহলে অবস্থানদৃষ্টে ড্রও প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।

টেস্টের ১৫ সেশনের ৭টি ইতোমধ্যে বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার পরও যদি টেস্টটা ড্র করতে পারা না যায়, তা মুমিনুল ব্রিগেডের জন্য চরম লজ্জারই হবে। সেটার দায় নিশ্চিত করেই ব্যাটসম্যানদের ঘাড়ে বর্তাবে। এমন ব্যাটিং প্রদর্শনীর পর সেটাই স্বাভাবিক। চট্টগ্রাম টেস্টে টপঅর্ডার ব্যাটারদের ব্যর্থতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে, এরপরও উন্নতি চোখে পড়েনি একবিন্দু! অভিষিক্ত ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ও পরিবর্তন আনতে পারেননি। এদিন ব্যাটিংয়ে দুর্ভোগের শুরু তাকে দিয়েই। তৃতীয় ওভারে সাজিদের বলে স্লিপে বাবর আজমের হাতে ক্যাচ দিয়ে যখন ফিরলেন এই তরুণ, তখনও রানের খাতা খুলতে পারেননি। 

এরপর কাট করতে গিয়ে সাদমান পয়েন্টে ক্যাচিং অনুশীলন করালেন হাসান আলিকে। সাত বলের ব্যবধানে হাসানেরই সরাসরি থ্রোতে রানআউট মুমিনুল। ২২ রানে ৩ উইকেট নেই। তখনও অবশ্য বোঝা যায়নি দিন শেষে এতটা বাজে অবস্থায় থাকবে স্বাগতিকরা। অতি আত্মবিশ্বাসে মুশফিক আর লিটন যখন বিলাসী শট খেলতে গিয়ে বলী হলেন, তখন চতুর্থ দিনেই অলআউট হওয়ার শঙ্কা টাইগার শিবিরে। ৪৬ রানে ৫ উইকেট পতনের পর শঙ্কা জাগে- চতুর্থ দিনেই বুঝি দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নামতে হবে মুমিনুলদের! ৩০ রান করা নাজমুল হোসেন শান্ত আর শূন্য রানে মেহেদী হাসান মিরাজের বিদায়ে শঙ্কাটা জোরাল আরও।

হিসাবের ২৩ ওভার বাকি থাকতেই আলোকস্বল্পতায় দিনের খেলা শেষ হয়ে যাওয়ায় সেই শঙ্কা দূর, তবে ফলোঅনের শঙ্কা কিন্তু জোরালই। দায়টা স্বাগতিকদেরই। সাড়ে তিন দিনে ৯৮.৩ ওভার হাত ঘুরিয়ে তাদের বোলাররা ৪ উইকেটের বেশি তুলতে পারেনি। প্রথম দিনে তাইজুল ফিরিয়েছিলেন পাকিস্তানের দুই ওপেনারকে। ৫৬ রান করা আজহার আলিকে এদিন ফেরান ইবাদত হোসেন। এরপর ৭৬ রান করা বাবরকে ফিরিয়ে টেস্টে প্রথম উইকেটের স্বাদ নেন আরেক পেসার খালেদ আহমেদ। এরপর আশা নিয়ে তাকিয়ে থাকা, ফাওয়াদ আলম (৫০) আর মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (৫৩) হাফসেঞ্চুরি করতে দেখা। এটা অবশ্য খুব অপ্রত্যাশিত ছিল না। তবে ৪ উইকেটে ৩০০ রান তুলে দ্বিতীয় সেশনের মাঝপথে পাকিস্তানের ইনিংস ঘোষণার পর যেভাবে মুড়ি-মুড়কির মতো উইকেট হারাল বাংলাদেশ- সেটা অবিশ্বাস্যই।
অবিশ্বাস্যভাবে ফলোঅনের শঙ্কায় বাংলাদেশ, একই সঙ্গে শঙ্কা হারেরও।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান : প্রথম ইনিংসে ৯৮.৩ ওভারে ৩০০/৪ (আবিদ ৩৯, শফিক ২৫, আজহার ৫৬, বাবর ৭৬, ফাওয়াদ ৫০*, রিজওয়ান ৫৩*; ইবাদত ১/৮৮, খালেদ ১/৪৯, তাইজুল ২/৪৯)
বাংলাদেশ : প্রথম ইনিংসে ২৬ ওভারে ৭৬/৭ (সাদমান ৩, জয় ০, শান্ত ৩০, মুমিনুল ১, মুশফিক ৫, লিটন ৬, সাকিব ২৩*, মিরাজ ০, তাইজুল ০*; সাজিদ ৬/৩৫)

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]