ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ৩ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

আলেশা মার্টের ৭ হাজার বাইক ক্রেতার হাহাকার
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ৮:৫১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 215

বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলেশা মার্টে অগ্রিম টাকা পরিশোধ করার পরও ডেলিভারি না পাওয়া মোটর বাইকের সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। গড়ে ৯০ হাজার টাকা করে ধরলেও এই মোটর বাইকের মূল্য ৬০ কোটি টাকারও বেশি। ৬ মাসেরও অধিক সময় ধরে অর্ডার দিয়ে কয়েক হাজার ক্রেতা বাইকও পাচ্ছেন না, টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না। টাকা ফেরত পেতে আলেশা মার্টের প্রতারিত এসব গ্রাহকের মাঝে এখন হাহাকার শুরু হয়েছে। কখনও তারা আলেশা মার্টের বন্ধ করে দেওয়া কার্যালয়ের সামনে গিয়ে টাকা ফেরতের দাবি জানাচ্ছেন, আবার কখনও আলেশা মার্টের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে নিজেদের ক্ষোভ জানাচ্ছেন।

অন্যদিকে আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনজুর আলম শিকদার গত ২ ডিসেম্বর ফেসবুক লাইভে এসে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে সব গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করা হবে। 

এ মুহূর্তে নগদ টাকার সঙ্কট থাকায় গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেওয়া যাচ্ছে না। একদিকে তিনি গ্রাহকদের আশ^স্ত করে টাকা ফেরতের সময়সীমা বেঁধে দেন, অন্যদিকে একই দিন এই ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই আলেশার সব কার্যালয় বন্ধ করে দেন। এতে প্রতিষ্ঠানটির হাজার হাজার গ্রাহক আরও আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন।

কার্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে আলেশা মার্টের এমডি মনজুর আলম সপ্তাহে দুদিন শনি ও বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে ক্রেতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। এতে একেক দিন তিনি একেক কথা বলেন। আলেশা মার্টের ফেসবুক পেজে তার বক্তব্য লাইভ দেখানোর পর সেখানে আলেশার প্রতারিত ক্রেতারা যে যার মতো করে মনের ক্ষোভ ঝাড়ছেন।

এহসান নামের এক ক্রেতা আলেশা মার্টের এমডির বক্তব্যের লিংকের নিচে লিখেছেন, ‘টাকা না পাইলে সুইসাইড করতে হবে স্যার। অনেক টাকা লোন নিয়ে ফেলেছি।’
আরিফ খান জয় নামের এক ক্রেতা লিখেছেন, ‘আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি স্যার, আমার বাবা নেই, আমার টাকা দেন।’

মান্নান খান লিখেছেন, ‘মানুষের অনেক কষ্টের টাকা, দিয়ে দেন।’

শুভ মিয়া লিখেছেন, ‘টাকা না পাইলে পরকালেও এই টাকার দাবি ছাড়ব না।’

মো. রাশিদুজ্জামান লিখেছেন, ‘দেশ থেকে পালানোর আগে বলে পালাইয়েন, তারপরও মনে সান্ত্বনা পাবো যে বলে পালিয়েছেন।’

রকিব নামের এক গ্রাহক লিখেছেন, ‘মানুষের টাকা মেরে খেয়ে এখনও পর্যন্ত কেউ সুখী হতে পারেনি, তুই ও পারবি না, ধ্বংস হয়ে যাবি।’

আরিফ আহমেদ লিখেছেন, ‘আল্লাহ আপনাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছেন, আর আমাদের ফকির বানিয়ে দিয়েছেন।’

ভূঁইয়া নবী নামে এক গ্রাহক লিখেছেন, ‘আপনি তো লাইভে আসেন আপনার পাঞ্জাবি দেখাতে, কিন্তু মানুষের হক পরিশোধ করতে এত টালবাহানা কেন করছেন।’

মুস্তাফিজুর রহমান নামে একজন লিখেছেন, ‘টাকাগুলো দিতে এত ধানাই-পানাই কেন করছেন, নিজেরাই লোক সেট করে এমন নাটক কেন করছেন।’

এভাবে আলেশা মার্টের ফেসবুক পেজে প্রতিদিন শত শত প্রতারিত গ্রাহক তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরছেন।

অন্যদিকে আলেশা মার্টের এমডি মনজুর আলম ফেসবুক লাইভে এসে সর্বশেষ কথা বলেছেন, গত শনিবার। এদিনও তিনি তার ২৩ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের বক্তব্যে আবারও উল্লেখ করেছেন, আগামী ৩০ তারিখের মধ্যেই সব গ্রাহকের রিফান্ড সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ৩০ শতাংশ ডিসকাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দিয়েছি। অন্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অনেক ডিসকাউন্ট দিয়েছে। আমরা যেহেতু নিজস্ব ফান্ড থেকে ভর্তুকি দেব সে জন্য আমরা অত পরিমাণ ডিসকাউন্ট দিইনি। আমরা এখন পর্যন্ত ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৩টি অর্ডার সফলভাবে ডেলিভারি করেছি। সহজে সার্ভিস যাতে দেওয়া যায় তার জন্য ১ লাখ ২০ হাজার স্কয়ার ফিটের অটোমেটেড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ওয়্যারহাউজ বানিয়েছি। এই ওয়্যারহাউজের ক্যাপাসিটি হবে প্রতি ঘণ্টায় ১৬ হাজার পণ্য ডেলিভারির। আমরা কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি অটোমেটেড ওয়্যারহাউজ চালু করেছিলাম। এটির প্রায় ৫০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর নানা কারণে এখন কাজ বন্ধ রয়েছে। ক্রেতারা যাতে সহজে সার্ভিস পায় তার জন্য আমরা একই সময়ে ৫০০ কাস্টমার বসার মতো কলসেন্টার তৈরি করেছি। ডেলিভারি লোকেশন আমরা প্রতিনিয়ত বাড়ানোর চেষ্টা করছিলাম। লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর জন্য আমরা অনেক ভেহিক্যাল সাপোর্ট রেখেছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ বা পঞ্চম ক্যাম্পেইনে আমরা দেড় লাখ অর্ডার পেয়েছিলাম। এর মধ্যে শুধু বাইক ছিল ৪৬ হাজার। সব ডেলিভারি সম্পন্ন করার পর এখন পর্যন্ত বাইকের ডেলিভারি বাকি আছে ৬ হাজার ৯০৮টি। যদি হঠাৎ করে বাংলাদেশ ব্যাংক পেমেন্ট গেটওয়ে তৈরি করা না হতো, ব্যাংকিং সাপোর্ট যদি বন্ধ না হতো, আমাদের ক্রেডিট লাইন যদি ওপেন থাকত তা হলে বাকি মোটর বাইকের অর্ডারগুলো এতদিন অনেক আগেই দেওয়া সম্ভব হতো।’

আলেশা মার্টের এমডি বলেন, আমাদের আল্লাহ কঠিন একটি পরীক্ষার মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। কঠিন পরীক্ষাটি হচ্ছে কন্টোভার্সির মধ্যে টিকে থাকা। তবে আমরা টিকে থাকব, না টেকার কোনো কারণ নেই। কারণ আমাদের অনেকগুলো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমরা এখন সঙ্কটে আছি, এ সঙ্কট থেকে উত্তরণ হতে পারব। রাষ্ট্রের কাছে আমাদের একটিই দাবি, রাষ্ট্র যেন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। আমাদের নিরাপত্তা দেওয়া হলে আমরা অচিরেই আমাদের অফিস খুলে দেব। অফিস বন্ধ রেখে সার্ভিস দেওয়া খুবই কঠিন। আমরা দ্রুত অফিস খুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু তার আগে আমাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন দফতরে গিয়ে আমরা নিরাপত্তার বিষয়টি জানিয়েছি। আমাদের ৯৫ ভাগ ক্রেতা ভালো। বাকি ৫ ভাগ ক্রেতা খুব প্রভাবশালী। যখনই আমি রিফান্ডের টাকা দিতে যাই, তখনই এই প্রভাবশালী গ্রুপের চাপে পড়ে যাই। তারা বলেন, আমাদের আগে দেন। তবে আমি সবসময় সাধারণ মানুষের পক্ষে, আমরা চাই সাধারণ মানুষ আগে রিফান্ডের টাকা পাক।’

/জেডও/


আরও সংবাদ   বিষয়:  আলেশা মার্ট   ই-কমার্স  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]