ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ৩ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ভঙ্গের ইতিহাস পুরাতন, বড় শাস্তি দুর্লভ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ৩:০৭ এএম আপডেট: ০৮.১২.২০২১ ৩:২৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 172

রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ নিয়ে দেশ জুড়ে চলছে আলোচনা। পদত্যাগপত্র জমা দেয়া তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদের জায়মা রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে করা মন্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনায় মুখোর আওয়ামী লীগ, বিএনপি সহ সর্বমহলের মানুষ। তবে এবারই যে দেশে রাজনৈতিক শিষ্টাচার প্রথম ভঙ্গ হয়েছে এমন নয়, বরং রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গের ইতিহাস অনেক দিনের। তবে বড় শাস্তি প্রদান করে নজির স্থাপন করবার মত ঘটনটা এটিই প্রথম। আর এমন শাস্তি দিয়ে সেই নজির স্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত ব্যক্তি আক্রমণের শিকার সবচাইতে বেশিবার হতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের দিন বেগম খালেদা জিয়ার ঘটা করে জন্মদিন পালন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা থেকে শুরু করে এমন অনেক ঘটনাকেই রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ বলে দাবি করে আসছে আওয়ামী লীগ ও সুশীল সমাজ। কিন্তু এ সকল বিষয়ে কখনই কোন সদুত্তর প্রদান করেনি বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় ক্ষেত্রে এমন শিষ্টাচার বহির্ভূত বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। এর প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত তার তিনজন মেয়রকে দল থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি পদত্যাগে বাধ্য করেছে। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ। এখন দলীয় পদ হারানোর পাশাপাশি সংসদ সদস্য পদ হারানোর পথে রয়েছেন ডা. মুরাদ। অন্যদিকে বিএনপির অভ্যন্তরে ও অন্যদলের নেতাকর্মীদের সম্পর্কে মন্তব্যের ক্ষেত্রে এ ধরণের একাধিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য প্রদানের পরও দলীয় কোন ব্যবস্থা নেয়ার নজির মেলেনি।

তারেক জিয়া বঙ্গবন্ধুকে 'মুজিবুর' বলে সম্বোধন করায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা বিষয়টির সমালোচনা করেন। কিন্তু এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কখনই মুখ খোলেননি। ১৫ আগস্টে জন্মদিন কেনো ঘটা করে পালন করতে হবে, এমন বিষয়েও কখনও কিছু বলেননি বেগম জিয়া। শুধু তাই নয়, বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র কোকো মারা যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়ির গেটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। কিন্তু তাদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। এ বিষয়টিকেও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বলে তৎকালীন সময় বর্ণনা করে গণমাধ্যম।

বিএনপি এমপি ও মন্ত্রীদের মধ্যে একাধিকবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য প্রদান করেন যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। একাধিকবার সংসদে দাঁড়িয়ে এ ধরণের কুরুচিপূণ ও  বাজে ইঙ্গিতকর মন্তব্য করেন সাকা চৌধুরী। কিন্তু তার বিরুদ্ধে বিএনপিকে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

সাকা চৌধুরীর মতই শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য প্রদান করেন সংসদে সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া। এ সময় তার বক্তব্য প্রসঙ্গে তৎকালীন স্পিকার আব্দুল হামিদ বলেন, 'এত কুৎসিত বক্তব্য কোনো অবস্থাতেই হওয়া উচিত নয়।' কিন্তু এ বিষয়েও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বিএনপি। বরং কুৎসিত ও বিকৃত বক্তব্যের জন্য বাহবা পেয়েছেন কিছু কিছু ক্ষেত্রে।

বিএনপির অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আওয়ামী লীগ ও তার নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে বলেন, তারা দিল্লিতে যায় মোদি সরকারের সঙ্গে ফষ্টিনষ্টি করতে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের স্লোগানের বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম হয় যেখানে বলা হয়, 'হরে-কৃষ্ণ হরে রাম, শেখ হাসিনার বাপের নাম।' অর্থাৎ বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিএনপির নিম্নসারির নেতৃবৃন্দের এমন স্লোগানের পরও তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা যায়নি বিএনপির কোন সিনিয়র নেতাকে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও ড. মুরাদেক লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন বিএনপির সিনিয়র সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মির্যা আব্বাস। দলটিতে কয়েক বছর আগে রাজনীতিতে যোগ দেয়া ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনও একইভাবে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্যা ফখরুল ইসলামের সঙ্গে দলটির তরুণ নেতৃত্বের একাধিকবার হাতাহাতি হওয়ার ঘটনাটি এখন আর নতুন কিছু নয়। সরাসরি তারেক রহমানের ইন্ধনে বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতাকে বিভিন্ন সময় হেনস্তা করা হয়। এ ধরণের ঘটনাবলীতেও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ বা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণের জন্য কাউকে শাস্তি পেতে হয়নি।

শুধু বিএনপি নেতৃবৃন্দ নয়, বরং তাদের দলের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কনক সারওয়ার ও ইসিলাস হোসাইনসহ একাধিক সাংবাদিক দেশের বাহিরে থেকে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার সদস্যদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু সে বিষয়েও বিএনপির পক্ষ থেকে কখনও কিছু বলা হয়নি।

সময়ের আলোর সাপ্তাহিক আলোচনা অনুষ্ঠান লাইভ হার্ডটকে এ বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম ঠান্ডু তারেক রহমানের 'মুজিবুর' বলে সম্বোধনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে তা নিয়ে আলোচনাই করেননি উপস্থিত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশারফ হোসেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক সদস্য সময়ের আলোকে জানান, ডা. মুরাদের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে হচ্ছে শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণের জন্য। কিন্তু অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলোতেও এ ধরণের একাধিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণের ঘটনা ঘটেছে। যা নিয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এখানেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অন্যদের পার্থক্য।


আরও সংবাদ   বিষয়:  মুরাদ   খালেদা জিয়া   জাইমা রহমান   ফখরুল   আলাল  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]