ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ৩ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

বিজয়ের মাসে স্বীকৃতি ছাড়াই চলে গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লোবান
ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:৫৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 144

রাজনীতির উত্তাল সময় ১৯৬৯-৭১ সালে ছাত্র ইউনিয়নের প্যানেল থেকে বিপুল ভোটে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। যুদ্ধ শুরু হলে সংগঠক হিসেবে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া এলাকায় ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। অংশ নেন সম্মুখ সমরে। নেতৃত্ব দেন থানা থেকে অস্ত্র লুটে। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান খান লোবান। কিন্তু বিজয়ের ৫০ বছরেও গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি তার। এই আক্ষেপ নিয়েই বিজয়ের মাসে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ধামরাইয়ের নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। শনিবার দুপুরে উপজেলার চৌহাট ইউনিয়নের পারাগ্রাম গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান খান লোবান দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। তার বয়স ছিল ৭৪ বছর। তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে রেখে গেছেন। লোবান ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়ন, পরে ন্যাপ ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জানতে চাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান খান লোবানের ছেলে আশিকুর রহমান খান বলেন, বাবা বেঁচে থাকতে কয়েকবার চেষ্টা করেছিলেন। তবে গেজেটে নাম আসেনি। গত অক্টোবরে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান ধামরাইয়ে এলে সেখানে আমরাও যাই। বাবার সহযোদ্ধারাও ছিলেন সেখানে। তারা বাবার বিষয়ে বিষদ বলেন। কয়েকজন সেখানে বলেন, বাবা না থাকলে তাদের মুক্তিযুদ্ধেই যাওয়া হতো না।

আশিকুর রহমান খান বলেন, ‘কাল (শুক্রবার) যখন তিনি মারা যান, আমরা ধামরাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে জানাই। তিনি আমাকে বললেন, বাবাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। বাবা এখনও গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। কিন্তু খবর পেয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা, উপজেলা প্রশাসন তাকে যথাযথ সম্মান জানিয়েছে। আমরা এতে কিছুটা হলেও প্রশান্তি পেয়েছি। আশা করছি তিনি স্বীকৃতিও পাবেন।

মুক্তিযুদ্ধে লুৎফর রহমান খান লোবানের অন্যতম সহযোদ্ধা সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম আরজু বলেন, কয়েক মাস আগে বিষয়টি নিয়ে আমরা ধামরাইয়ের এমপি ও অন্যদের বলেছি। তারা বলেছেন, এটা তারা করে দেবে। তিনি (লোবান) তো মূলত ধামরাইতে থাকেননি। এ কারণে গেজেটেড হননি। লেখাপড়া, রাজনীতিসহ প্রায় সবকিছু করেছেন মানিকগঞ্জে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার আবেদন করেছেন ধামরাইতে। যুদ্ধে তিনি কোয়ার্টার মাস্টার হিসেবে সিঙ্গাইর, মানিকগঞ্জ, সাটুরিয়া, হরিরামপুরে দায়িত্ব পালন করেছেন। মানিকগঞ্জে থাকলে হয়তো তিনি আরও অনেক আগেই স্বীকৃতি পেতেন।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলীম খান সেলিম বললেন, দুঃখের বিষয় এমন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া যায়নি। আমরা এটা নিয়ে কাজ করব। দ্রুত স্বীকৃতির ব্যবস্থা করব।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]