ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ৩ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম, জনস্বার্থে সমন্বয় জরুরি
প্রকাশ: শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:৩৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 115

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। নভেম্বরের শুরুতে প্রতি ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ৯৭ থেকে ৯৮ ডলার। ডিসেম্বরের শুরুতে সেটি নেমে এসে দাঁড়িয়েছে ৭৮ ডলারে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ব্যারেলপ্রতি দাম কমেছে ২০ ডলার। প্রায় একই হারে দাম কমেছে ক্রুড অয়েলেরও। 

এক মাস আগে বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ৯০ ডলার, এখন সেটা নেমে এসেছে ৬৯ ডলারে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল ক্রুড অয়েল বিক্রি হয়েছে ৬৯ দশমিক ১৮ ডলারে। বিশ্ববাজারে দাম কমায় গত এক মাসে ২৯ কোটি টাকা লাভ বেশি হয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। কারণ নভেম্বরে প্রতিলিটারে বিপিসির লাভ হতো ১ টাকা ১৮ পয়সা। সে লাভের পরিমাণ এখন বেড়ে হয়েছে ১ টাকা ৬০ পয়সা। প্রতি মাসে প্রায় ৫ লাখ টন বা ৫০ কোটি লিটার জ্বালানি তেল আমদানি করে বিপিসি। ১ ডলার সমান ৮৫ টাকার হিসাবে নভেম্বরে বিপিসির লাভ হতো ৫৯ কোটি টাকা। এখন হচ্ছে ৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে বিপিসির লাভ বেড়েছে ২৯ কোটি টাকা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় চলে এসেছে দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর। তবে কবে কমবে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম- এ প্রশ্ন এখন সবার। এ বিষয়ে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মণি লাল দাস জানিয়েছেন, দাম কমানোর বিষয়টি অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৬৫ ডলারের নিচে নামতে হবে। এ পর্যায়ে নেমে আসার পর অন্তত আরও এক থেকে দেড় মাস বাজার পর্যবেক্ষণ করে তবেই দেশের বাজারে দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এখন যে হারে দাম কমছে তাতে হয়তো দুয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৬৫ ডলারের কাছাকাছি চলে আসতে পারে। তখন আরও কমে কি না, তারা সেটা দেখবেন। এরপর দেশের বাজারে সমন্বয় করা হতে পারে। 

তবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের মূল্য কাঠামোটি প্রতিযোগিতামূলক হওয়া দরকার। অর্থাৎ বৈশ্বিক বাজারে মূল্যের যে ওঠানামা তার সঙ্গে মিলে একটি নির্দিষ্ট পার্থক্য রেখে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে তার একটা সমন্বয় করা। যেটি কি না ভারতে হয়ে থাকে। ওরকম একটি কাঠামো আমরাও বিবেচনা করতে পারি। কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ড. শামসুল আলমও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে। গত এক মাসে ধারাবাহিকভাবে দাম কমে আসছে বিশ্ববাজারে। ব্যারেলপ্রতি দাম কমেছে ২০ ডলারেরও বেশি। 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ভোক্তা সাধারণ এবং অর্থনীতির গবেষক- সবাই সর্বশেষ সরকারের নির্বাহী আদেশে তেলের দাম বৃদ্ধির বিরোধিতা করেছেন। এ দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক বলেও সবাই মতামত দিয়েছেন। তেলের দাম বৃদ্ধিতে পরিবহন-কৃষি থেকে শুরু করে সব খাতেই এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এবার দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে সরকার ছাড়া আর কেউ যুক্তিযুক্ত মনে করেনি। ছাত্রদের প্রতিবাদ আন্দোলনেও তেলের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

আমরা মনে করি, দেশের বাজারে তেলের দাম সমন্বয় করা জরুরি। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের মানুষের কষ্ট বেড়েছে। সরকারের এখন দায়িত্ব দাম কমিয়ে দেশের মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]