ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৯ আগস্ট ২০২২ ৪ ভাদ্র ১৪২৯
ই-পেপার শুক্রবার ১৯ আগস্ট ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

বুলিং রুখবে কে
শাকিল আহমেদ
প্রকাশ: শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ১:৫৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 307

আতঙ্কের নাম বুলিং। বুলিং বলতে সাধারণত মানসিক পীড়নকেই বোঝানো হয়ে থাকে। এখন অহরহ এই বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে মানুষ। শুধু নেট দুনিয়ায়ই নয়, এর বাইরেও প্রতিনিয়ত বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে অনেকে। বাড়ছে মানসিক চাপ। বুলিংয়ের অপমান সইতে না পেরে কেউ কেউ আত্মহত্যা করছে। আবার অনেকে মানসিক যন্ত্রণার চাপে আকস্মিক মৃত্যুবরণ করছে। একদিকে সরাসরি বুলিং, অন্যদিকে সাইবার বুলিং। এ যেন এক নীরব যন্ত্রণা। প্রশ্ন হচ্ছে, ভয়ঙ্কর এই নীরব বুলিং রুখবে কে?

বিভিন্ন বেসকারি সংস্থার জরিপ বলছে, বুলিংয়ের সবচেয়ে বেশি শিকার নারীরা। তানিয়া আবেদিন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কাজের প্রয়োজনে তাকে প্রতিদিনই বাইরে বের হতে হয়। কিন্তু প্রায়ই তিনি বুলিংয়ের শিকার হয়ে বাড়ি ফেরেন।

সময়ের আলোকে তিনি বলেন, সাইবার বুলিংয়ের চেয়ে সরাসরি বুলিং বেশি ভয়ঙ্কর। কারণ সাইবার বুলিং অনেক সময় এড়িয়ে চলা যায়, কিন্তু সামনাসামনি বুলিং এড়ানো সম্ভব নয়। রাস্তায় বের হলেই কিছু না কিছু শুনতে হয়। ছেলেরা দূর থেকে টিজ করে। ইশারায় নানা ভঙ্গি করে, যা দেখলে খুব খারাপ লাগে। ভয়ে প্রতিবাদও করতে পারি না। কখনও কখনও এমন কিছুও শুনতে হয় যে, আর বাইরে বের হতে ইচ্ছে করে না। বিষয়টা এমন, কাউকে বলতেও পারি না। প্রথম প্রথম প্রতিবাদ করতে চাইলেও এখন আর ইচ্ছে করে না। অভ্যস্ত হয়ে গেছি। যারা এটাকে মেনে নিতে পারে না তারা অনেক সময় আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। এটা চরম মানসিক যন্ত্রণা। 

গত মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রভোস্ট ড. মো. সেলিম হোসেন। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় ক্যাম্পাসে তার গতিরোধ করেন ছাত্রলীগ নেতারা। তারা ওই শিক্ষকের সঙ্গে তর্কে জড়ান, তাকে অসম্মানজনক কথাবার্তা বলেন। তড়িৎ প্রকৌশল ভবনে শিক্ষকের ব্যক্তিগত কক্ষে নিয়ে গিয়ে সেখানে আধাঘণ্টা তার সঙ্গে অবস্থান করেন ছাত্রলীগ নেতারা। এরপর সেখান থেকে বাড়ি ফিরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ড. সেলিম।

তার স্ত্রীর দেওয়া তথ্য মতে, মঙ্গলবার দুপুর ২টার কিছু আগে বাসায় আসেন তার স্বামী। বাসায় আসার আগে তার সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে বলে জানান। বাসায় এসে বাথরুমে ঢোকেন এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সহকর্মীর মৃত্যুতে কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক সমিতি। তাদের অভিযোগ, ছাত্রলীগ নেতাদের মানসিক নির্যাতনের চাপ সইতে না পেরেই মারা গেছেন ড. সেলিম। 

শুধু ড. সেলিম হোসেনই নন, প্রতিদিনই এই বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে কেউ না কেউ। স্বস্তি নেই কোথাও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রতিনিয়ত বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে এর ব্যবহারকারীরা। সামাজিক এ যোগাযোগ মাধ্যম এখন অসামাজিক মানুষের দখলে।

তারকা সেলিব্রেটি থেকে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সমাজের পরিচিত মুখ, প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গসহ নানা শ্রেণির মানুষ বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে।

বেশ কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত নিউজের মতামত বক্সে গিয়ে দেখা যায়, রিপোর্ট না পড়েই অনেকে সেখানে অশ্লীল ভাষায় সাংবাদিকদের পরিবার তুলে গালাগাল করছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের একটি খাবারের ছবি বেশ কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে ভাসছে। সেখানেও অনেককে নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা গেছে। 

চলতি বছরের মে মাসে ‘মা’ দিবসে চঞ্চল চৌধুরী তার মায়ের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবির নিচে অনেকে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করতে থাকেন। প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকের প্রোফাইল পিকচার বদলে যেতে থাকে। প্রতিবাদ হিসেবে প্রোফাইল পিকচার বদলিয়ে হ্যাশট্যাগে লেখেন ‘চঞ্চল চৌধুরী ইজ আওয়ার ব্রাদার’, ‘তোমার মা আমার মা’, ‘আমার মা, তোমার মা’, ‘স্টপ সাইবার বুলিং’, ‘হোক প্রতিবাদ’।

সে সময় আক্রমণের শিকার হন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার, উপস্থাপক ও অভিনয়শিল্পী মিশু চৌধুরী। এরপর শুরু হয় নায়িকা পরীমণিকে নিয়ে।

কত মানুষ সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে বিভিন্ন জরিপ বলছে, নারী ও শিশু-কিশোররা এতে বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছে। ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত ছবি ভিডিও ছড়িয়ে ফেসবুক আইডি হ্যাক করে হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়, ছবি বা ভিডিও এডিট করে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, সুপার ইম্পোজ ছবি, পর্নোগ্রাফি, ছবি দিয়ে আপত্তিকর কনটেন্ট বা ফেক আইডি তৈরি, ফোন নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া, হয়রানিমূলক এসএমএস, মেইল বা লিংক পাঠানোসহ বিভিন্ন উপায়ে এ হয়রানি করা হচ্ছে।

ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের সহকারী কমিশনার (সিটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন-১) চাতক চাকমা সময়ের আলোকে বলেন, মানসিকভাবে কাউকে যেকোনো আঘাতই বুলিং। সোশ্যাল মিডিয়া বুলিংয়ের অনেক মাধ্যমের একটি মাত্র। সরাসরিও মানুষ বুলিংয়ের শিকার হতে পারে। কারও শারীরিক (অন্ধ, পঙ্গু, কানা ইত্যাদি) প্রতিবন্ধিত্ব নিয়ে কথা বলাও বুলিং। কোনো মেয়েকে উত্ত্যক্ত করাও বুলিং। কথা দ্বারা কাউকে আঘাত করা, হেয় করা এবং ছোট করা- সবকিছুই বুলিং। আমরা শুধু সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে কাজ করছি।

তিনি বলেন, করোনাকালে সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ অনেক বেড়েছে। অভিযোগকারীদের বেশিরভাগই নারী। পুরুষরা বেশি অভিযোগ করছে আর্থিকভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে। আর নারীরা আর্থিক প্রতারণার সঙ্গে মানহানি, ছবি দিয়ে ফেক আইডি খোলা, মেসেঞ্জারে অশ্লীল ছবি পাঠানোসহ নানা অভিযোগ করছে। আমরা যখনই অভিযোগ পাচ্ছি, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানের সামর্থ্য আমাদের আছে।


আরও সংবাদ   বিষয়:  বুলিং   




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]