ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯
ই-পেপার  বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

তিন দিনের বেশি কথা বন্ধে ইসলামের নিষেধাজ্ঞা
আমির হুসাইন
প্রকাশ: শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ৭:২৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 790

অনেক সময় পরস্পরে মনোমালিন্য থেকে কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যায়। ভাই ভাইয়ের সঙ্গে, বোন ভাইয়ের সঙ্গে, সন্তান পিতার সঙ্গে, স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে, বন্ধ বন্ধুর সঙ্গে কোনো কথা বলছেন না। কোনো মুসলমান অন্য মুসলমানের সঙ্গে এভাবে তিন দিনের অধিক কথা বন্ধ রাখা নিষেধ। এতে পরস্পরে হিংসা-বিদ্বেষ ও জিঘাংসা বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় প্রাণের সম্পর্ক হয়ে যায় প্রাণসংহারি আতঙ্ক। নিজেদের ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকারই হয় না। দুনিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পরকালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যারা এভাবে কথা বন্ধ করে এবং তিন দিনের ভেতর পরস্পরে বোঝাপড়া না করে আল্লাহ তাদের ওপর অসন্তুষ্ট হন।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা পরস্পর সম্পর্কছেদ করো না, একে অন্যের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন হয়ো না, পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পর হিংসা করো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে যাও। কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বলা বন্ধ রাখা বৈধ নয়।’ (বুখারি : ৬০৫৬; মুসলিম : ২৫৫৯)

এজন্য মানুষের কর্তব্য প্রথমত নিজেকে সংশোধিত ও নিয়ন্ত্রিত করা। আর যখন নিজেকে সংশোধন করে নেবে তখন সম্পর্ক ঠিক থাকবে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমরা পুণ্য ও আল্লাহ-ভীতিমূলক কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো। গুনাহ ও সীমা-লঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় করে চলো। কেননা তার ন্যায়দণ্ড অত্যন্ত কঠিন।’ (সুরা মায়েদা : ২)। হজরত আবু আইয়ুব (রা) থেকে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো মুসলমানের জন্য তার মুসলমান ভাইকে তিন দিনের বেশি বিচ্ছিন্ন করে রাখা জায়েজ নয়। এভাবে তারা উভয়ে যখন মুখোমুখি হয় তখন একজন অগ্রসর হয় কিন্তু অন্যজন এড়িয়ে যায়। তবে এদের মধ্যে যে পূর্বে সালাম প্রদান করবে সে-ই উত্তম।’ (বুখারি ও মুসলিম)। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার মানুষের আমল উপস্থাপন করা হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহর শরিক করে না এরূপ প্রত্যেক ব্যক্তিকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। তবে যে ব্যক্তির তার মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে শত্রুতা রয়েছে তাকে মাফ করেন না। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, এই দুজনের ব্যাপারটি রেখে দাও যাতে তারা পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করে নিতে পারে। (মুসলিম)

যদি কেউ কথাবার্তা বন্ধের পর আপসে মিলিত হয়ে যায় তবে তারা পুণ্যের অধিকারী হয়। হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো ঈমানদার ব্যক্তির জন্য অন্য কোনো ব্যক্তিকে তিন দিনের অধিক পরিত্যাগ করে থাকা বৈধ নয়। তিন দিন গত হওয়ার পর সাক্ষাৎ করে যদি সে তাকে সালাম করে এবং অন্যজনও সালামের উত্তর দেয় তবে উভয়ই পুণ্যের অংশীদার হবে। যদি সে সালামের উত্তর না দেয় তবে পাপী হবে। তবে সালাম প্রদানকারী পরিত্যাগ করার পাপ হতে মুক্ত হয়ে যাবে।’ (আবু দাউদ)




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]