ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯
ই-পেপার  বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

বর্ন হান্টার উইলবার স্মিথ এক দুর্দান্ত কথাসাহিত্যিক
উদয় শংকর দুর্জয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ১১:৩৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 292

লেখক উইলবার স্মিথ দীর্ঘ লেখালেখি কর্মজীবনের অবসান ঘটিয়ে ২০২১ সালের নভেম্বর ১৩ দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের নিজস্ব বাড়িতে মারা গেলেন। একজন ঐতিহাসিক ঔপন্যাসিকের ৮৮ বছরের এক দীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবনের অবসান হলো। তার সাফল্যের রহস্যের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে বলেছিলেন এটি অকৃত্রিম জীবনের ‘এমব্রয়ডারিং’-এর কথা। এমব্রয়ডারিং অর্থাৎ এম্বেলিস করা বা ডেকোরেট করা বা অলঙ্কৃত করা বা অতিরঞ্জিত করে তোলা। 

এভাবে যদি বলা যায় যে, লিখতে সবাই জানে কিন্তু লেখাতে এমব্রয়ডারিং করতে কজন জানে? উইলবার স্মিথ এ কারুকার্যের কারিগর যিনি লেখাকে শুধু কাগজ আর কালির ব্যবহার বোঝাননি, তিনি লেখাকে শিল্প হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। লেখা কেন মানুষ পড়বে না! তিনি জানতেন গল্পের মধ্যে বা কাহিনির মধ্যে ‘ড্রামাটিক অ্যাডভেঞ্চার’ যদি না থাকে তবে তা স্বাদহীন বিয়ারের মতোই মনে হবে।

১৯৩৩ সালের ৯ জানুয়ারি জিম্বাবুয়ের অন্যতম বৃহৎ শহর উত্তর রোডেশিয়ায় এক ব্রিটিশ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। স্মিথ ছোটবেলা থেকেই তার বাবা-মায়ের বিশাল খামার, আফ্রিকার বন, পাহাড় এবং সাভানার মাঝে দুরন্ত শৈশব কাটিয়ে বড় হয়ে ওঠেন। প্রকৃতির ওপর যে অগাধ ভালোবাসা এবং বই পড়ার প্রতি যে অদম্য টান তা তিনি তার মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছিলেন। অন্যদিকে বাবা ছিলেন ঠিক তার উল্টোটা, বই পড়ার ঘোরবিরোধী। আট বছর বয়সের ছেলের হাতে রাইফেল তুলে দেন শিকারের জন্য। হ্যাঁ, তবে অনেকটা বছর তিনি বন্দুক আর শিকারের পেছনে কাটিয়েছেন। তবে বলা যায় শিকারের সঙ্গে আজীবন একটা প্রেমের সম্পর্ক ছিল। উইলবার স্মিথ আফ্রিকান মহাদেশের নাটকীয় দুঃসাহসিক কাজগুলোকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত কথাসাহিত্য তৈরি করেছেন যা তার নিজের ‘অ্যাকশন-প্যাকড লাইফ’র ওপর নির্মিত।

১৯৬৪ সালে প্রথম উপন্যাস ‘হোয়েন দ্য লায়ন ফিডস’-এর মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার গবাদিপশুর খামারে বেড়ে ওঠা একজন যুবকের গল্প, যেখানে ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে উচ্চাভিলাষী পরিবারের ভাগ্যের সন্ধান করে বেড়ানো হয়। উপন্যাসটি ১৫টি পর্বে ভাগ করেছেন। এই উপন্যাসের প্রেক্ষাপট ১৮৭০ সালের দিকে আফ্রিকার প্রান্তিক অঞ্চল নাটাল নামক জায়গাতে পারিবারিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা। শুরুতেই দেখা যায়, যমজ ভাই শন এবং গ্যারির পরিচয় পর্ব এবং এরা দুজনই খামার মালিক ওয়েট কোর্টনির ছেলে। শনের শিকারের দুর্ঘটনার পর গ্যারি তার পা হারায়।

শনের মধ্যে অপরাধবোধ অজান্তে শানিত হতে থাকে, তখন শন গ্যারির একজন রক্ষক হয়ে ওঠেন। এরপর দেখা যায় গ্যারি তার নিজের সুবিধার জন্য শনের অপরাধবোধকে কাজে লাগায়। শন এবং গ্যারি দুজনকেই স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়; যখন শন একজন শিক্ষককে আক্রমণ করে, যিনি শনকে বিরোধিতা করার জন্য গ্যারিকে আক্রমণ করেছিলেন। তারপর ওয়েট নামে এক ভদ্রলোক দুজনকে কাজ করার জন্য নিয়োগ করে। এভাবে গল্পের ঘটনা বিভিন্ন দিকে মোড় নিতে থাকে। 

দুঃসাহসিক লেখার অবিসংবাদিত এবং অনবদ্য মাস্টার, উইলবার স্মিথের উপন্যাসগুলো অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পাঠকদের আকৃষ্ট করেছে, ত্রিশটিরও বেশি ভাষায় বিশ্বব্যাপী তার বই ১৪০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে এবং অনূদিত হয়েছে অসংখ্য ভাষায়। তার আলোচিত উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে- হোয়েন দ্য লায়ন ফিডস, দ্য ডার্ক অব দ্য সান, সাউট অ্যাট দ্য ডিভিল, দ্য সানবার্ড, ইগল ইন দ্য স্কাইসহ বহু উপন্যাস। তার প্রকাশিত উপন্যাস নিয়ে নির্মিত হয়েছে বড় পর্দার সিনেমা, যাদের মধ্যে দ্য ডার্ক অব দ্য সান, গোল্ড মাইন, দ্য ডায়মন্ড হান্টার্স, ওয়াইল্ড জাস্টিস, দ্য বার্নিং শোর, রিভার গড উল্লেখযোগ্য। তিনি সূক্ষ্ম ঐতিহাসিক গবেষণা এবং তার নিজস্ব বিস্তৃত ভ্রমণের ওপরও ঝুঁকেছেন, একটি পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা তিনি পাঁচ দশকের কর্মজীবনে ব্যবহারের মধ্য দিয়ে প্রায় ৫০টি উপন্যাস লিখেছেন।

তার প্রকাশক একবার তাকে পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, ‘শুধু সেসব বিষয়েই লিখুন যা আপনি ভালো জানেন।’ 

‘তারপর থেকে আমি কেবল আফ্রিকা নিয়েই লিখেছি । লেখা না হওয়া পর্যন্ত একটি বই কেবল বাতাসের ধোঁয়া। এটি একটি অসতর্ক শব্দ দ্বারা উড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। নিজেকে আহ্বানের মাধ্যমে উৎসর্গ করুন, তবে ব্যাপকভাবে পড়ুন এবং আপনার চারপাশের বিশ্বকে দেখুন, ভ্রমণ করুন এবং আপনার জীবনকে পরিপূর্ণভাবে বাঁচুন, যাতে আপনার কাছে সবসময় নতুন কিছু লেখার মতো থাকে। এটা ছিল পরামর্শ । আমি খুব হৃদয়ে গ্রহণ করেছি, আমি এটাকে আমার ব্যক্তিগত দর্শনের অংশ করে নিয়েছি। যখন খেলার সময় হয়, আমি খুব কষ্ট করে লিখি। আমি ভ্রমণ করি এবং শিকার করি এবং স্কুবা ডাইভ করি এবং পর্বতে আরোহণ করি। যখন লেখার সময় হয়, আমি আমার সমস্ত হৃদয় এবং আমার সমস্ত মন দিয়ে লিখি।’


আরও সংবাদ   বিষয়:  উইলবার স্মিথ  




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]