ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২২ জানুয়ারি ২০২২ ৮ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২২ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল কুয়েট, মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২১, ৬:৩৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 104

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শিক্ষক আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে কুয়েটের ক্যাম্পাস। বুধবার শিক্ষক সমিতি কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। 

অভিযোগ করা হয়েছে, মানসিক নির্যাতনেই সেলিম হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। অবিলম্বে সিসি টিভি ফুটেজ দেখে মানসিক নির্যাতনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের শনাক্ত, নির্যাতনকারীদের স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে শিক্ষকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। 

কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেন মঙ্গলবার বিকেলে নিজ বাসার বাথরুমে মারা যান। অভিযোগ ওঠে এই  ঘটনার আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ বিভাগের কক্ষে কুয়েট ছাত্রলীগের কতিপয় নেতার হাতে মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।

জানা গেছে, কুয়েট শিক্ষক সমিতিরি পক্ষ থেকে সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিবাদি অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে দুর্বার বাংলার পাদদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে অবিলম্বে সিসি ফুটেজ দেখে মানষিক নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্তদের চিহ্নিত এবং তাদের স্থায়ী ভাবে বহিস্কারের দাবি জানানো হয়। শিক্ষক সেলিম হোসেনের পরিবারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযাী ক্ষতিপুরণ প্রদানের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১ কোটি টাকা ক্ষতিপুরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়। 

দাবি জানানো হয়, ছাত্র রাজনীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার। এসব দাবির প্রেক্ষিতে শিক্ষক সমিতির নেতারা ভিসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, শিক্ষক সমিতির দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন শিক্ষকরা। এমনকি প্রশাসনিক কর্মকান্ড থেকেও বিরত থাকার পাশাপাশি তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। 

কুয়েট শিক্ষক মৃত্যুর ঘটনায় মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তীর ছাত্রলীগের দিকে। তবে এ ব্যাপারে গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার মৃতের স্ত্রীর দেওয়া তথ্য মতে, শিক্ষক সেলিমের আড়াইটা থেকে ল্যাব ক্লাশ ছিল। বাসায় টেবিলে খাবার প্রস্তুতও ছিলো। দুইটার কিছু আগে বাসায় এসে বাথরুমে যান। বাসায় আসার আগে তার সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন। তার মতে, সেলিম হোসেন দুপুরে খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে এসে বাথরুমে ঢোকেন। বেশকিছু সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাথরুম থেকে বের না হওয়ায় দরজা ভাঙ্গা হয়। পরে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিলে কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, শিক্ষক সেলিম হোসেন বাসায় যাওয়ার আগে কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রুপটি তাকে জেরা করতে থাকেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়েই ওই শিক্ষকের অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন তারা। এ সময়ে তাকে মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে। সিসি ফুটেজে তা স্পষ্ট হবে বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। কুয়েট ছাত্রলীগের প্রভাবশালী এই গ্রুপটির বিরুদ্ধে লালন শাহ ছাত্র আবাসিক হলের ডিসেম্বর মাসের ডাইনিং ম্যানেজার নির্বাচন নিয়ে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও ছাত্রলীগের আগামী কমিটি গঠন, বর্তমান উপচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয় এবং রাজনীতিমুক্ত কুয়েট সহ বেশ কিছু বিষয় ইস্যু হিসেবে দেখা দিতে পারে এই মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল।

এ ব্যাপারে কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রতীক চন্দ্র বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সিসি টিভি দেখে মানসিক নির্যাতনকারীদের সনাক্তসহ দৃষ্টান্তমুল শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমারা স্মারকলিপিতে আমাদের দাবি তুলে ধরেছি।

এদিকে বিষয়টি জানার জন্যে কুয়েট ভিসি প্রফেসর ডক্টর কাজী সাজ্জাদ হোসেন এর সেল ফোনে কয়েকবর ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

/এসএ




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]