ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ৩ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

আফ্রিকা থেকে আসা ২৪০ প্রবাসীর খোঁজ মিলছে না!
শাহজালালে এ নিয়ে প্রজ্ঞাপনই ছিল না
মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশ: বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১, ১০:৫৬ এএম আপডেট: ০১.১২.২০২১ ১০:৫৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 214

গত এক মাসে আফ্রিকা থেকে দেশে ফেরত এসেছেন ২৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিক। কিন্তু ফেরত আসা এ ব্যক্তিরা কীভাবে দেশে ঢুকবেন, কোয়ারেন্টাইনে কোথায় কীভাবে থাকবেন এবং তারা কী কী নির্দেশনা মেনে চলবেন- এ নিয়ে কোনো ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি ছিল না। ফলে তারা শাহজালাল বিমানবন্দরে নামার পর শুধু বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগের ডেস্কে নাম ও মোবাইল নম্বর লিখেই গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। আর এ কারণেই আফ্রিকা থেকে আসা ২৪০ জনের খোঁজ মিলছে না বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর, শাহজালাল বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। 

ডেল্টার চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন। ফলে বিদেশ থেকে কেউ এলেই তাকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন রাখতে চায় সরকার। কিন্তু সম্প্রতি এ নিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরে কোনো ধরনের নির্দেশনা ছিল না। জারি করা হয়নি কোনো প্রজ্ঞাপনও। ফলে ২৪০ জন আফ্রিকা ফেরত নাগরিককে কোয়ারেন্টাইন বা নজরে রাখতে চাইলেও সেটি কঠিন হয়ে পড়েছে। ফেরত আসা এসব ব্যক্তি গ্রামে কতটুকু নিরাপদভাবে চলছেন তাও জানা যাচ্ছে না। আবার যারা যে মোবাইল নম্বর ও ঠিকানাগুলো বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগের ডেস্কেও খাতায় তুলেছেন সে অনুযায়ীও তাদের খোঁজ মিলছে না। এ কারণেই  প্রশ্ন উঠেছে, এসব ব্যক্তি গ্রামে আছেন নাকি ঢাকায় অবস্থান করছেন? তারা কতটুকু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন। 

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে আলোচনার ঝড় বইলে তা নিয়ে এখনও কোনো ধরনের নির্দেশনা জারি করা হয়নি শাহজালাল বিমানবন্দরে। এখনও আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে বিদেশ ফেরতরা আসছেন। আগের নির্দেশনাতেই কাজ চলছে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা নির্দেশনা পেলেই আরও কঠোর হবেন। তার আগে কাউকে জোর করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা বা নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলারও সুযোগ মিলছে না তাদের। 
সম্প্রতি ফেরত আসা ২৪০ জনের খোঁজ না মেলার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ। 

তিনি জানিয়েছেন, তারা আফ্রিকা ফেরত আসা ব্যক্তিদের নাম ও মোবাইল নম্বর নিয়েই ছেড়ে দিয়েছেন। বেশিরভাগ মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে তারা এসব তালিকা স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠাবেন। যারা গ্রামের বাড়িতে গেছেন তাদের খুঁজে পেতে সাহায্য করবে এ তালিকা বলে মনে করেন তিনি। 

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গেল বছরে করোনাকালে বিদেশ ফেরতদের দেশে কীভাবে প্রবেশ করানো হবে, তারপর তারা কী করবেন এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি করোনার নতুন ধরন দেখা দিলেও এখনও শাহজালাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য বিভাগ বা সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপনপত্র পাননি। তবে তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তারা আগের মতোই রুটিনমাফিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে আফ্রিকা থেকে দেশে আসা ২৪০ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। 

মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকে মন্ত্রী বলেন, ডেল্টার চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন। ওমিক্রনের সংক্রমণ রোধে সরকার সতর্ক অবস্থানে আছে। তবে দুঃখের বিষয়, গত এক মাসে ২৪০ জন আফ্রিকা থেকে দেশে এসেছেন। এখন তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের ফোনও বন্ধ। 

মন্ত্রী বলেন, আফ্রিকা মহাদেশ থেকে আসতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। যদি আসে তাহলে ১৪ দিনের কঠোর কোয়ারেন্টাইন অবশ্যই মানতে হবে। কর্তৃপক্ষকে বলব, বিদেশ থেকে যারা আসবে তাদের যেন মনিটরিং করা হয়।

জাহিদ মালেক বলেন, সীমান্তে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। সব জেলায় চিঠি দেওয়া হবে। সংক্রমণ ঠেকাতে সব ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান সীমিত করতে হবে।

এ বিষয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার তৌহিদ উল আহসান সময়ের আলোকে বলেন, আমরা এখনও কোনো ধরনের প্রজ্ঞাপন পাইনি। তবে মৌখিকভাবে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা পেয়েছি। যারা বিদেশ থেকে আসছেন তাদের নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর নিয়ে আমরা স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠাই। আর এ কাজটি অব্যাহত আছে। নতুন কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হলে আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করব।


আরও সংবাদ   বিষয়:  প্রবাসী   ওমিক্রন   আফ্রিকা   শাহজালাল বিমানবন্দর  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]