ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৮ ডিসেম্বর ২০২১ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ৮ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

প্রভিশন ঘাটতির রেকর্ড
সাইফুল্লাহ আমান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১, ৩:২৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 98

দেশের ব্যাংক খাতে অস্থিরতা বেড়েই চলেছে। কোভিডকালে সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়ার পরও বেড়েছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। খেলাপির পাশাপাশি বেড়েছে প্রভিশন ঘাটতিও। এবার চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতি প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বেড়ে রেকর্ড করেছে। প্রথমবারের মতো প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। প্রভিশন ঘাটতিতে রয়েছে এবার ১০টি ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা তথ্য বলছে, জুন শেষে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৭২ কোটি টাকা বেড়েছে প্রভিশন ঘাটতি।

এ ছাড়া আরও এক তথ্যে দেখা গেছে, বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৫০ কোটি টাকা। তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতির তালিকায় বরাবরের মতো শীর্ষে রয়েছে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলো। সবচেয়ে বেশি প্রভিশন ঘাটতিতে আছে অগ্রণী, বেসিক, জনতা ও রূপালী ব্যাংক। এ ছাড়া প্রভিশন ঘাটতিতে বেসরকারি ব্যাংকের নেতৃত্বে আছে বাংলাদেশ কমার্স ও বহুল বিতর্কিত ন্যাশনাল ব্যাংক। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা ঘাটতি নিয়ে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেসিকের অবস্থান সবার শীর্ষে।

প্রভিশন ঘাটতির বেশিরভাগই রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর। প্রভিশনের মোট ১৫ হাজার ৩৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঘাটতির সিংহভাগই অগ্রণী, বেসিক, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের। বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রয়োজনীয় প্রভিশন রাখতে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এসব ব্যাংক। বেসরকারি খাতের বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করে তার বেশিরভাগই আমানতকারীর অর্থ। আমানতকারীর অর্থ যেন কোনো ধরনের ঝুঁকিতে না পড়ে সেজন্য এ নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের দাবি, যাচাই-বাছাই না করে ঋণ দেওয়ায় আর আদায় করা যাচ্ছে না এসব টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন ছাড়ের কারণে ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করার প্রবণতাও বেড়েছে। প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হলে মূলধন ঘাটতিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপির পরিমাণ ১ লাখ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮ দশমিক ১২ শতাংশ। গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ১৩ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৯ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে খেলাপি বেড়েছে ১ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী আলোচিত সময়ে যে ১০ ব্যাংক প্রভিশন ঘাটতিতে রয়েছে তার মধ্যে সরকারি চার ব্যাংকের ঘাটতি ১২ হাজার ২৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি জনতা ব্যাংকের। সেপ্টেম্বর শেষে জনতা ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১১৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এরপরই রয়েছে বহুল আলোচিত-সমালোচিত বেসিক ব্যাংক। ব্যাংকটির ৩ হাজার ৬৬৩ কোটি ৩ লাখ, অগ্রণী ব্যাংকের ২ হাজার ১২৮ কোটি ৭ লাখ ও রূপালী ব্যাংকের ৯২২ কোটি ১৭ লাখ টাকা ঘাটতি রয়েছে।

অন্যদিকে বেসরকারি খাতের পাঁচ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ৩ হাজার ৩০৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে আলোচিত ন্যাশনাল ব্যাংকের। সেপ্টেম্বর মাস শেষে ব্যাংকটির ঘাটতি ২ হাজার ৩৮৫ কোটি ৬ লাখ টাকা।

এ ছাড়া বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৪৭১ কোটি ৭১ লাখ, ঢাকাব্যাংকের ১৯০ কোটি ৮৮ লাখ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১৫৬ কোটি ৮০ লাখ এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ৯৯ কোটি টাকা। বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ২১ কোটি ৬ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো কোনো ব্যাংক প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত (উদ্বৃত্ত) অর্থ নিরাপত্তা সঞ্চিতি রেখেছে। ফলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল ৭২ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। বিপরীতে সংরক্ষণ করা হয়েছে ৬৬ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। ফলে সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে মোট নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি এখন ৬ হাজার ২০৪ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকর নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণিকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে শূন্য দশমিক ২৫ থেকে ৫ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। এর মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণের (এসএমই) বিপরীতে সবচেয়ে কম শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ। আর ক্রেডিট কার্ডে রাখতে হয় সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ নিরাপত্তা সঞ্চিতি।

এ ছাড়া নিম্নমান বা সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা খারাপ ঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয় নিয়মানুযায়ী। ব্যাংকের আয় খাত থেকে অর্থ এনে প্রভিশনিং করা হয়। খেলাপি ঋণ বাড়লে আর সে অনুযায়ী ব্যাংকের আয় না হলে এতে ঘাটতি দেখা দেয়।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, প্রভিশন ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না বলেও বলা আছে নিয়মে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]