ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৮ ডিসেম্বর ২০২১ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ৮ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

জানুয়ারিতে চালু হতে পারে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১, ৩:২৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 104

তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ স্থগিত রয়েছে। কর্মী নিয়োগ চালু করতে দুই দেশের মধ্যে গড়ে প্রতি মাসেই বৈঠক হচ্ছে। এ বিষয়ে একাধিক মন্ত্রী পর্যায়ের সফর এবং বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু ফলপ্রসূ আলোচনা না হওয়ায় চালু হয়নি শ্রমবাজার। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো আশা করছে, আগামী বছরের শুরুতেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে ঢুকতে পারবে বাংলাদেশি কর্মীরা।

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে জানান, কুয়ালালামপুর সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে ঢাকা। স্থগিত হওয়া শ্রমবাজার চালু করতে শিগগিরই ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যাবে। আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে এই বার্তা পাওয়া যেতে পারে। অনেক চড়াই-উতরাইয়ের পর এই ইস্যুতে দুই দেশ একমত হয়েছে। এই বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করার সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত। এ জন্য কুয়ালালামপুরের কাছে সময় চেয়েছে ঢাকা। সমঝোতা স্মারক সই হলেই জট খুলে যাবে।

শ্রমবাজার চালু হলে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সবাইকে জানানো হবে, এই তথ্য জানিয়ে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে এই বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ প্রতারণার শিকার না হয়। কেননা এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যভাণ্ডারে কর্মীদের নির্দিষ্ট তথ্য সংরক্ষণের পরই মালয়েশিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হবে। সিন্ডিকেট বাণিজ্য ভাঙতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে (জিটুজি পদ্ধতি) কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের ১০ প্রতিষ্ঠান (সিন্ডিকেট) দুর্নীতি করায় গত ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী নিয়োগ স্থগিত রয়েছে। এরপর গত আড়াই বছরে স্থগিত থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে কমপক্ষে ৫ বার ইতিবাচক ঘোষণা এলেও ওই সিন্ডিকেটের জন্য তা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে। এখনও সক্রিয় ওই সিন্ডিকেট। তারা এখনও চায়, তাদের মাধ্যমেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ করা হোক। এদিকে ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো ঘটনাও চোখে পড়েনি। উল্টো ওই ১০ প্রতিষ্ঠানকে জনশক্তি রফতানিতে আরও সুযোগ দিতে চায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

সর্বশেষ গত ফেব্র্রæয়ারিতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির দুদিনব্যাপী বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেও সিন্ডিকেট বিষয়ে দুই দেশ একমত হতে না পারায় শেষ পর্যন্ত আশার আলো আবারও নিভে যায়। ওই সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ জানান, কয়েকটি ইস্যুতে আমরা একমত হতে পারিনি। তাই উভয় দেশে এই নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা চলছে, শিগগিরই বিষয়টির সুরাহা হবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা দুই দেশের সরকারের মধ্যেই ব্যাপক শক্তিশালী। মূলত এই সিন্ডিকেটের কারণেই শ্রমবাজার চালু হওয়ার শেষ মুহূর্তে গিয়েও আটকে যাচ্ছে। তবে ঢাকার কূটনীতিকরা এই বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিতভাবে কাজ করছে এবং যোগাযোগ রক্ষা করে ইতিবাচক অবস্থায় পৌঁছেছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী বছরের শুরুতেই সুখবর আসবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এই প্রতিবেদককে বলেন, মালয়েশিয়ায় প্রচুর বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু মাঝে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার কারণেই সেখানে কর্মী নিয়োগ স্থগিত হয়। এটা চালু করতে আমরা পরিশ্রম করছি। শিগগিরই সুখবরের আশা করছি।

দীর্ঘ ৭ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৬ সালে সরকারিভাবে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ চালু হয়। তখন বাংলাদেশের ১০ প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে দুই দেশের সরকারের সঙ্গে যোগসাজশ করে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের একচেটিয়া সিন্ডিকেট গড়ে তোলে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]