ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৮ ডিসেম্বর ২০২১ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ৮ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

স্বাধীন বাংলাদেশে কেন পরাজিত পাকিস্তানের আনুগত্য
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১, ৮:৫৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 219

গত ১৯, ২০ ও ২২ তারিখে ঢাকার শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের মধ্যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলায় আমাদের টিম দর্শকদের হতাশ করেছে। এতে আমাদের মন কিছুটা খারাপ হলেও খেলাতে জয়-পরাজয় মেনে নিয়েই দর্শকরা বাড়ি ফিরলে এটি স্বাভাবিক হতো। অন্য দেশের সঙ্গে খেলা হলে হয়তো তাই ঘটত। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে আমাদের এমন কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখতে হয়েছে যা সভ্য দুনিয়ার মানুষরা কেন, স্বাধীনতাপ্রাপ্ত যেকোনো দেশের মানুষই দেশ ও জাতি হিসেবে আমাদের নিয়ে সমালোচনা করার ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে।

খেলার প্রথম দিনই অনেক তরুণ দর্শক পাকিস্তানি পতাকা নিয়ে গ্যালারিতে বসে ছিল। তাদের পরিধানে ছিল পাকিস্তান টিমের জার্সি। পাকিস্তানি টিম যখনি ছক্কা বা চার হাঁকাত, তখনই পাকিস্তানের পতাকা হাতের এই দর্শকরা উল্লাসে ফেটে পড়ত, পাকিস্তান জিন্দাবাদ ধ্বনি উচ্চারণ করত। বোঝার উপায় নেই এরা কারা? এরা কি পাকিস্তান থেকে এসেছে নাকি ভিন্ন কোনো গ্রহ থেকে? বাংলাদেশের কোনো দর্শকের হাতে তো পাকিস্তানের পতাকা থাকার কথা নয়। বাংলাদেশ টিমের বিপক্ষে পাকিস্তানি টিম ছক্কা কিংবা চার হাঁকালে এভাবে পতাকা নাড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ করার কথা তো নয়। কিন্তু দুনিয়ার সব সত্যকে মিথ্যা প্রমাণিত করার জন্য এই স্টেডিয়ামে জড়ো হওয়া এই দর্শকরা তাই করেছে। দ্বিতীয় ম্যাচেও তাই ঘটিয়েছে। বাইরে তারা পাকিস্তানি টিমের জয়ে বিজয় উল্লাস করেছে।

তাদের এই বিজয় উল্লাসের কারণ নাকি বাংলাদেশ টিমের পরাজিত হওয়া। সামাজিক গণমাধ্যমগুলোতেও পাকিস্তানি টিমের বিজয়ে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। নানা রকম মতামতও তারা প্রকাশ করেছে। স্টেডিয়ামের বাইরে কেউ কেউ পাকিস্তান-বাংলাদেশ এক দেশ বলেও স্লোগান দিয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে তারা সঠিক মনে করেনি। ঔদ্ধত্যের সীমা সব ক্ষেত্রেই এরা লঙ্ঘন করেছে। বয়সে এরা তরুণ কিন্তু একেবারে বিবেকহীনভাবে এটি তো কোনো ডাক্তারিবিদ্যাতেও ভাবা যায় না। এই বয়সের তরুণরা তো শুধু বইপুস্তক পড়েই নয়, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক কিছুই জানছে, শিখছে। কিন্তু মিরপুর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের খেলার বিপুলসংখ্যক তরুণের পাকিস্তানি পতাকা জার্সি এবং অন্ধ সমর্থক হয়ে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি মোটেও সাধারণ কোনো ঘটনা ছিল বলে মনে করার কারণ নেই। এটি অবশ্যই কোনো বিশেষ মহলের পরিকল্পিত উদ্যোগ। যারা সবসময় চেষ্টা করে এসেছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করেছে সেটি এ দেশের মানুষের আকাক্সক্ষার বিষয় ছিল না! তারা বোঝাতে চেয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল আরোপিত, ভারতীয়দের ষড়যন্ত্র এবং শেখ মুজিবের পাকিস্তান ভাঙার ষড়যন্ত্র! দেশের জনগণ এই স্বাধীনতা মনেপ্রাণে চায়নি। এটিই রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান যেমন সবসময় প্রচার করে এসেছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, গণহত্যা করেছিল, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটে অংশ নিয়ে পাকিস্তানিদের সহযোগী হয়ে শেষদিন পর্যন্ত অপকর্মে লিপ্ত ছিল, তারা স্বাধীনতা লাভের পর ছোট শিশু কিশোরদের মধ্যে এ ধরনের ভুল তথ্য প্রদান করে এসেছিল।

বিশেষত ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের বিস্তৃত ইতিহাস রাজনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থায় প্রচার ঘটিয়ে এরাই স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এমনকি বিশ^বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের অনেক ঘটনার নিজস্ব ইতিহাস বক্তৃতায় প্রকাশ্যে উচ্চারণ করেছেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ বিরোধিতাকারী মানবতাবিরোধী অপরাধী জামায়াতের আমির গোলাম আযমের লেখা ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ’ পুস্তিকাতেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর ধারণা দেওয়া হয়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই পুস্তিকাটি একসময় ব্যাপকভাবে গোপনে সরবরাহ করা হয়েছে। স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই এই পুস্তিকায় লেখা অসত্য কথাগুলোই আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস হিসেবে বিশ্বাস করতে শিখেছে। তারা ওই পুস্তিকার লেখকের পরিচয়ে অধ্যাপক শব্দটি দেখে বিশ্বাস করেছে যে একজন ‘অধ্যাপক’ তো অসত্য কিছু লিখবেন না? তিনি যাই লিখবেন তাই তো সত্য! তা ছাড়া তিনি একজন বিরাট রাজনীতিবিদও বটে (!) স্কুল শিক্ষার্থীদের কাছে গোলাম আযম ও তার লেখা বই অনেকটাই ধর্মগ্রন্থের মতো সত্য বলে বিবেচিত হওয়ার কথা (!) তা ছাড়া যারা এই বইগুলো সরবরাহ করেছিল তারাও মুখে মুখে গোলাম আযমকে একজন খাঁটি ইসলামী চিন্তাবিদ (!) উপস্থাপন করত। শিশু কিশোরদের ধর্মীয় আদর্শে তারা এভাবেই অপব্যবহার করত।

সুতরাং বাংলাদেশের সমাজে মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর মাত্র সাড়ে তিন বছর স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের কথা উচ্চারিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। এর পর একটানা ২১ বছর মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব, রাজনীতি, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, আদর্শ ইত্যাদি নিয়ে কিশোর তরুণদের মধ্যে কোনো আলোকিত ধারণা উপস্থাপিত হয়নি। হয়েছে বিকৃত এবং পাকিস্তানি ভাবাদর্শের পুনরুজ্জীবনের প্রচারণা। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর ৫ বছর সেই অপপ্রচার কিছুটা কমলেও রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি হিসেবে পাকিস্তান মনস্কতায় বেড়ে ওঠা মানুষের সংখ্যা তখন সংখ্যায় শুধু বেশি নয়, পরিণত হওয়ার বয়সও যেন তারা লাভ করেছিল। সে কারণে ৮০ এবং ৯০-এর দশকের তরুণ এবং যুবকদের অনেকেই দেখা গেছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা বলছে, পাকিস্তান স্রেফ ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করছে। ১৯৭১ সালে ওই পাকিস্তান বাংলাদেশে যেসব অপরাধ সংগঠিত করেছিল সেটিকে তারা ‘আগের ইতিহাস’ বলে এড়িয়ে যেত।

তাদের গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, বাঙালিবিদ্বেষ, মুক্তিযুদ্ধে পোড়ামাটি নীতি অনুসরণ ইত্যাদিকে তারা খুব বেশি আমলে নিতে চায়নি। ১৯৭৫-৯৬ পর্যন্ত বেড়ে ওঠা তরুণদের মনোজগতে বাংলাদেশের অতীত আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধোত্তর সাড়ে তিন বছরের ইতিহাসকে শ্রদ্ধার চোখে নয়, বরং নানা জিজ্ঞাসা ও ভারত বিরোধিতার সা¤প্রদায়িক মানসিকতায় দেখার ও বোঝার যে অবস্থান তৈরি হয়েছিল সেটিকে আওয়ামী লীগের পাঁচ বছরের তৎকালীন শাসনকাল দিয়ে বোঝানো খুব বেশি সম্ভব হয়নি। সেরকম রাজনৈতিক পরিকল্পনা সরকার এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির মধ্যে যথাযথাভাবে ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে যতসামান্য দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেটিও সঠিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য যে ধরনের শিক্ষক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকা প্রয়োজন ছিল, তার যথেষ্ট ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। ততদিনে মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস শেখা তরুণরাই শিক্ষকতার পদে আসীন হয়েছিল। ফলে পাঠ্যপুস্তকে যে ইতিহাস লেখা হয়েছিল সেটি শিক্ষকদের শিখে আসা পাঠ্যবইতে যে ভিন্নতা পরিদৃষ্ট হচ্ছে তার যথাযথ ব্যাখ্যা, সত্য-মিথায় নিরসনের জ্ঞানের অভাব কাটিয়ে ওঠা এই শিক্ষকদের অনেকের মধ্যেই ছিল না।

এরপর ২০০১ সালে জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নগ্নভাবে বিকৃত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। রাজনীতিতেও প্রতিদিন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী প্রচার-প্রচারণা উচ্চারিত হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। ফলে ৫ বছরের ক্ষুদ্র প্রয়াস ভেসে গেছে। আবার ফিরে এসেছে পাকিস্তানি ভাবাদর্শের পঠনপাঠন, রাজনীতি, সংস্কৃতি, সা¤প্রদায়িকতা, উগ্র ধর্মান্ধতা ইত্যাদি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস সংশোধন হয়েছে সত্য। কিন্তু পাঠদানরত শিক্ষকদের ইতিহাস জ্ঞান মোটেও পরিবর্তিত হয়নি। তারপরও তরুণদের একটি অংশ ২০০৯ উত্তরকালে মুক্তিযুদ্ধের অনেক ক্ষেত্র জানার সুযোগ পেয়েছে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ায় অনেক সত্য জানা ও শেখার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেক তরুণ এবং যুবক নিজেদের বিবেক, বিচারক বিশ্লেষণ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, যুদ্ধাপরাধ, পাকিস্তানিদের অপরাধ, রাজাকার, আলবদর, আলশামসের অপকর্ম, গণহত্যা ইত্যাদি সম্পর্কে অনেক কিছু জানার সুযোগ পেয়েছে। তারাই যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে শাহবাগে জড়ো হয়েছে, সেটি একটি আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর বিপক্ষে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত-বিএনপি, হেফাজেত নানা বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। তাদের শক্তি তারা প্রদর্শন করেছে। সেটি হয়তো করার জন্যই তারা মাঠে নেমেছিল। কিন্তু রাষ্ট্র, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি। তবে তাদের অনুসারী ও বিশ্বাসীরা শেষ যেমন হয়ে যায়নি, তাদের ভুল ইতিহাস শিক্ষাও তারা ত্যাগ করেনি।

এটি এখনও শুধু তরুণদের মধ্যেই নয়। অপেক্ষাকৃত বয়স্কদের মধ্যেও কমবেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ভুল ইতিহাস শিক্ষা এবং একই সঙ্গে সঠিক ইতিহাস না জানা। সেই বাস্তবতাই আমাদের সমাজ ও রাজনীতির ভেতরে এখন সমান্তরালভাবে বিরাজ করছে। মাঝেমধ্যে তার কিছু কিংবা ছোট ছোট ঘটনা ঘটতে আমরা দেখি। কিন্তু বিকৃত, ভুল এবং পাকিস্তানি ভাবাদর্শের মানসিকতার অবস্থানটি মুখ লুকিয়ে রাখলেও, মন তাদের পাকিস্তানের প্রতিই অন্ধভাবে পড়ে আছে। সেটিরই একটি প্রদর্শন সম্ভবত তারা শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টি- টোয়েন্টি খেলায় ১৯ ও ২০ তারিখ ঘটিয়েছে। আমাদের ক্রিকেট প্রশাসন এ সম্পর্কে আগে থেকে ভাবতে পারেনি। সুযোগটি তাই তারা নিতে পেরেছে। ক্রিকেট প্রশাসন পাকিস্তানের পতাকা মিরপুর ক্রিকেট একাডেমিতে ওড়ানোর অনুমতি দিয়েছে যা দেশের আইনবিরোধী। একইভাবে স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের পতাকা ও জার্সি নিয়ে প্রবেশ করতে অনুমতি দিয়েছে। আবার পাকিস্তানের সমর্থককে স্টেডিয়ামে উল্লাস প্রকাশ করার সুযোগও দিয়েছে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে যা প্রদর্শিত হয়েছে তা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার। এই লজ্জায় আমাদের যারা ফেলেছে, তাদের রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার হতে বাধা নেই। রাষ্ট্র তাদের কঠোর হাতে বিচারের সম্মুখীন না করলে আমাদের স্বাধীনতা বিপন্ন হওয়ার সঙ্কেত আমরা দেখতে পাচ্ছি।

লেখক : ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]