ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ইকবালসহ চারজন রিমান্ডে
কুমিল্লার ঘটনায় মাস্টারমাইন্ডদের ধরতে মাঠে গোয়েন্দারা
এসএম মিন্টু
প্রকাশ: রোববার, ২৪ অক্টোবর, ২০২১, ৯:৪৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 135

কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখায় ঘটনায় মাস্টারমাইন্ডদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে গোয়েন্দারা। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ডদের শনাক্ত করা হয়। এরপরই তাদের ধরতে জোরালো অভিযান শুরু করে গোয়েন্দারা।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) ফারুক আহমেদ গতকাল সময়ের আলোকে বলেন, প্রধান অভিযুক্ত ইকবালসহ চারজনকে সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছেন তারা। ইকবালকে জিজ্ঞাসাবাদে সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন তারা। তিনি বলেন, এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী শিগগিরই ধরা পড়বে। আমরা আরও অনেক তথ্য পেয়েছি। এখনই সেসব গণমাধ্যমে বলা ঠিক হবে না। শনিবার ধর্ম অবমাননার মামলায় ইকবালসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড পেয়েছে পুলিশ। তার সহযোগীরা হলো- মণ্ডপে কোরআন পাওয়ার তথ্য ৯৯৯-এ কল করে জানানো ইকরাম হোসেন এবং নগরীর শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরীর (রা.) মাজারের সহকারী খাদেম হুমায়ুন আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদ।

গতকাল কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিথিলা জাহান নিপার আদালতে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে দুপুরে ইকবালসহ চারজনকে কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতে নেওয়া হয়। এ সময় উৎসুক জনতা ভিড় করে। আদালতে নেওয়ার পর আইনজীবীরাও জড়ো হন। অভিযুক্ত ইকবাল কোরআন শরিফ হনুমানের হাঁটুতে রাখার পর সেই গদা নিয়ে একটি পুকুরে ফেলে দেয় বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। তবে পুলিশ ওই গদাটি গতকাল পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি।
 
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কুমিল্লার ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সরকারের সর্বোচ্চ মহলের চাপ রয়েছে। সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত গোয়েন্দাদের চৌকস দল একযোগে কাজ করছে। ইকবালকে জিজ্ঞাসাবাদের পর অনেক তথ্য পেয়েছে। সেগুলো যাচাইয়ের পর এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ডদের খুঁজে বের করতে সব ধরনের তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি রাজধানী, চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়েছে।

পুলিশের বিশেষায়িত অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কুমিল্লার ঘটনার পর তাদের দুজন পুলিশ সুপার ও দুজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য কাজ করছে। ইকবালকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা মাঠে নেমেছেন। ওই সূত্র আরও জানান, কুমিল্লার পুলিশের পাশাপাশি একযোগে এটিইউ গতকাল বিভিন্ন স্থানে অভিযানে নেমেছে।
  
হনুমানের গদা পুকুরে : কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ বলেন, ‘ইকবাল মণ্ডপে কোরআন রাখার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। কোরআন রাখার পর হনুমানের গদা নিয়ে তার চলে যাওয়ার দৃশ্য এলাকার সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ইকবাল গদাটি পরে একটি পুকুরে ফেলে দেয়। ওই গদাটি উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। তবে গদাটি এখনও উদ্ধার হয়নি। উল্লেখ্য, দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।


আরও সংবাদ   বিষয়:  কুমিল্লা   নানুয়ার দীঘির পাড়   পূজামণ্ডপ   কোরআন   ইকবাল  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]